ডেস্ক রিপোর্টার,৩০ জুলাই

“না, আমি কোনও দিন বুঝতে পারব না
আসলে কাকে বলে ঝড়ের ভয় –
যদিও দুর্যোগ এসেছে বহুবার,
তবুও এই ঝড় আমার নয়।”——
এই ঝড় কবির নয়,কিন্তু কাউর জন্য তো “ঝড়” বটেই।

গত কয়েকদিন ধরেই ভারী হয়ে উঠেছিলো রাজ্য রাজনীতির আকাশ বাতাস।সূত্রপাত তৃনমূল কংগ্রেসের ভোট কৌশলী প্রশান্ত কিশোরের টিম “আই-পেক”র সদস্যদের আটকের ঘটনা কেন্দ্র করে।

রাজ্য রাজনীতির হাই ভোল্টেজ
পরিস্থিতিতে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় তৃনমূল কংগ্রেসে যোগ দিয়েছেন কংগ্রেস নেতা সুবল ভৌমিক।এরপর রাজ্য রাজনীতির অলিন্দের ক্যানভাসে ধরা দেয় নানান চিত্র। সুবল ভৌমিকের তৃনমূল কংগ্রেসে যোগদানের পর বিজেপির “বিদ্রোহী” বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মনকে নিয়ে কৌতূহল শুরু হয় তাঁর অনুগামী সহ সাধারণ মানুষের।কারণ সুদীপ রায় বর্মণও এক সময় ছিলেন তৃনমূল কংগ্রেসে। স্বাভাবিক কারণেই মানুষের এত কৌতূহল।
রাজ্য রাজনীতির বিচক্ষণ নেতা সুদীপ রায় বর্মন অবশ্যই তাঁর অনুগামী সহ সাধারণ মানুষের শিরা-ধমনীর পালস বুঝতে পেরেছেন।তাই তিনি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে দিয়েছেন বার্তা। সুদীপ রায় বর্মন তাঁর ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, “Decision taken in haste,anger or frustation and out of emotion will only strengthen the anti nationalists focee.Stand firm with the nationalist and belive in the highest leadership”.
অর্থাৎ “রাগ ও হতাশা থেকে নেওয়া
তাড়াহুড়ো সিদ্ধান্ত জাতীয়তাবাদী বিরোধীদের শক্তিশালী করবে। জাতীয়তাবাদীদের পাশে থেকে সর্বোচ্চ নেতৃত্বের প্রতি বিশ্বাস রাখুন।”

শাসক দলের বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মনের এই বক্তব্যের পর সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিজেপির কর্মী-সমর্থকরা হাফ ছেড়ে বেচেঁছেন। রাজনীতিকরা সুদীপের বক্তব্যের ব্যাখ্যা করেছেন।তাদের যুক্তি, “সুদীপ রায় বর্মন তাঁর এক সময়ের সতীর্থ সুবলের দেখানো পথে তিনি হাঁটবেন না।” প্রকারন্তে সুদীপ রায় বর্মন এটাই বুঝানোর চেষ্টা করেছেন।

নিন্দুকরা প্রশ্ন তুলেছেন,বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন তাহলে বিজেপিতে থাকছেন।কিন্তু কেন থাকবেন তিনি বিজেপিতে? গোটা দলে তিনি কোণঠাসা।মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে সুদীপ রায় বর্মনের “কোল্ড ওয়ার” রাজ্য রাজনীতির ওপেন সিক্রেট। বিজেপি কোনোদিন বিপ্লব কুমার দেবকে সরিয়ে সুদীপ রায় বর্মনকে মুখ্যমন্ত্রী করবে না। যদি সুদীপ রায় বর্মনকে ফের মন্ত্রী হওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয় এবং তিনি সেই প্রস্তাব গ্রহণ করেন,তাহলে সুদীপ রায় বর্মনের হবে নৈতিক পতন।সাধারণ কর্মী-সমর্থকদের কাছে তাসের ঘরের মত ভেঙে পড়বে সুদীপের এতো দিনের জমানো জনপ্রিয়তা। এটা অবশ্যই বিলক্ষণ বুঝতে পারেছেন সুদীপ।

প্রশ্ন ,তাহলে কি করবেন সুদীপ রায় বর্মন? রাজনীতিকরা বলছেন, বড় ঝড়ের আগে মেঘাচ্ছন্ন কালো আকাশে মাঝে মাঝে চমকে ওঠে বজ্র বিদ্যুৎ।আকাশের এই আচরণ দেখেই মানুষ ঝড়ের আভাস ঠাহর করতে পারে। গুরুজনরা ছোটদের ঘরে যাওয়ার নির্দেশ দেন।এবং ঈশ্বরের প্রতি আস্থা রেখে ইস্টদেবের নাম জব করার বিধান দেন।তাহলে সুদীপ রায় বর্মন কি সেই রাজনৈতিক ঝড়ের আচ করতে পেরেছেন? এই কারণেই তিনি বার্তা দিয়েছেন,বিভ্রান্ত না হয়ে সর্বোচ্চ নেতৃত্বের প্রতি আস্তা রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।

রাজনীতিকরা সুদীপের বার্তা উল্টো ব্যাখ্যা করে বলেন, সুদীপ রায় বর্মনের বার্তা এই মুহূর্তে বিজেপি পজেটিভ ধীরে নিচ্ছে।এমনও হতে পারে এটা বিজেপি’র জন্য নেগেটিভ।এবং তাঁর অনুগামীদের জন্য পজেটিভ।কারণ তিনি তাঁর অনুগামীদের বার্তা দিতে পারেন, “যে ঝড়ের মাঝে তাড়াহুড়ো করে নয়,ঝড় কমলে পরিষ্কার আকাশেই সবাই একসঙ্গে যা করার করবেন।” তিনদিনের সাময়িক ঝড়ে ইতস্তত বিক্ষিপ্ত ভাবে ঘুরে বেড়া জালে না পরার আহবান জানিয়েছেন। অপেক্ষা করছেন ঝড় থামার।তাই সুদীপ কি কবির মত বলতে পারেন,”তবুও এই ঝড় আমার নয়।”

Leave a Reply

Your email address will not be published.