*অভিজিৎ ঘোষ*
————————

” দোষ যদি তোর থাকেই কিছু
আগেই নিকেশ কর,
দোষ নিয়ে করলে শাসন
বাড়বে দোষের ঘর।”
—– শ্রী শ্রী ঠাকুর অনুকূল চন্দ্র

সমস্ত দোষ গুছিয়ে হয়েছেন গুরুর শরণাপন্ন। পেয়েছেন উপহার। হয়েছেন মন্ত্রী।তিনি রাজ্য মন্ত্রিসভার তরুণ তুর্কি সুশান্ত চৌধুরী। আগের সমস্ত দোষ নিকেশ করে তিনি সুদীপ (রাজনীতির প্রথম দীক্ষা গুরু) শিবির ছেড়ে চলে এসেছিলেন বিপ্লব শিবিরে। মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবকেই গুরু জ্ঞানে পূজা করতে শুরু করেন।পেয়ে যায় বর্তমান গুরুর আশীর্বাদও।আর তাতেই মুকুট যুক্ত হয় নতুন পালক।
রাজ্য রাজনীতির শিরা-ধমনী জানে সুশান্ত চৌধুরীর রাজনৈতিক গুরু সুদীপ রায় বর্মন। গুরু-শিষ্যের মধ্যে ছিলো হরিহর আত্মার সম্পর্ক। গুরু সুদীপের হাত ধরেই শিষ্য সুশান্তের উত্থান। কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস হয়ে শেষ পর্যন্ত বিজেপিতে আসেন সুশান্ত চৌধুরী।গুরু সুদীপের হাত ধরেই রাজনৈতিক মঞ্চে সুশান্তের এই পরিক্রমা।
কালের বিবর্তনে সঙ্গে সঙ্গে সুশান্ত চৌধুরী তাঁর গুরু পাল্টে নেন। সুদীপ রায় বর্মনের পরিবর্তে গুরু হিসেবে মেনে নিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবকে। সুশান্ত চৌধুরী বুঝে গিয়েছেন গুরু সুদীপের রাজনৈতিক শক্তিতে ভর করে তিনি আর বেশি দূর অগ্রসর হতে পারবেন না।তাঁর প্রয়োজন বিকল্প শক্তির।
এই মুহূর্তে রাজ্য রাজনীতির রবিন হুড মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব।তিনিই শাসক দল বিজেপি’র “নিউক্লিয়াস”। সুতরাং নিজের রাজনৈতিক কেরিয়ার উজ্জ্বল করতে হলে সুশান্ত চৌধুরীর প্রয়োজন মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবে’র শক্তি। তাই এই শক্তির কাছে পরাভূত সুশান্ত। প্রথম গুরুর সঙ্গ ত্যাগ করে তিনি দ্বিতীয় গুরুর চরণ তলে আশ্রয় নিয়েছেন।এক সময় প্রথম গুরু সুদীপের শিবিরে থেকে সর্ব ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমের কাছে বর্তমান গুরু বিপ্লব কুমার দেবের শাসন ব্যবস্থা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন সুশান্ত চৌধুরী। এই সম্পর্কে অবশ্যই অবগত রয়েছেন খোদ সুশান্ত চৌধুরীর বর্তমান গুরু মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবও।
হয়তো বা তাই মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব শিষ্য সুশান্ত চৌধুরীকে ঠাকুর অনুকূল চন্দ্রের ন্যায় বলেছিলেন,”আগের সমস্ত দোষ নিকেশ করেই এসো রাজ্য শাসনের ভর কেন্দ্রে। সুশান্ত চৌধুরীও তাঁর সমস্ত দোষ নিকেশ করেছেন। এবং মনে প্রানে গুরু হিসেবে মেনে নিয়েছেন “অতীতের চক্ষুশূল” মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবকে। এই দৃশ্য মঙ্গলবার স্পস্ট হয়ে গেছে রাজ ভবনের অন্দরে।
রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেব যখন, শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত নেতা-মন্ত্রীদের উদ্দেশ্যে হাত জোড় করে প্রবেশ করছিলেন,তখন চেয়ারে বসে থাকা সুশান্ত চৌধুরী(বর্তমানে মন্ত্রী) তাঁর পা ছোঁয়ার চেষ্টা করেন।অর্থাৎ গুরুর চরণ তলে নিজেকে নিবেদন করার চেষ্টা করেন।তাতে অবশ্যই দোষের কিছু নেই। গুরু বিপ্লব কুমার দেবে’র জন্যই সুশান্ত চৌধুরীর মন্ত্রী হওয়ার স্বপ্ন সাকার হয়েছে। স্বাভাবিক ভাবেই মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব কুমার দেবে’র চরণ তলে নিজেকে নিবেদন করে সুশান্ত চৌধুরী কোনো ভুল করেন নি।”গুরুর প্রতি শিষ্য অরুনী”র শ্রদ্ধা যেন আজ রাজ ভবন অন্দরে প্রতিফলিত হয়েছে মন্ত্রিসভার নতুন সদস্য সুশান্ত চৌধুরীর মধ্য দিয়ে।

Leave a Reply

Your email address will not be published.