
ডেস্ক রিপোর্টার, ৩ফেব্রুয়ারি।।
আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে চন্ডিপুর বিধানসভা কেন্দ্রে রিস্ক জোনে দাড়িয়ে আছেন বিজেপির প্রার্থী টিংকু রায়। এটা বিলক্ষণ বুঝতে পেরেছেন বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্ব। চন্ডিপুরে টিংকুর বিপদ আঁচ করতে পেরে ড্যামেজ কন্ট্রোলে নামেন তারা। তবে তারাও সফল হন নি। স্বাভাবিকভাবেই জনমনে প্রশ্ন উঠছে ২৩ ‘র মহারণে বৈতরণী পার হতে পারবেন তো বিজেপির দাপুটে (!) নেতা টিংকু রায়?
চন্ডিপুর বিধানসভা কেন্দ্রে টিংকু রায়কে প্রার্থী ঘোষণা করার পরপরই জ্বলে ওঠে গোটা নির্বাচনী ক্ষেত্র।দলের বহু কর্মী সমর্থক নেতৃত্বের এই সিদ্ধান্ত মেনে নিতে পারেনি। তারা প্রতিবাদের সরব হন। ক্ষোভের বসতবর্তি হয়ে আগুন জ্বালিয়ে দেন। বিভিন্ন বুথ অফিসে করে ভাঙচুর ।মন্ডল কার্যালয় থেকে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র বের করে তাও আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দেয় ওয়া। এরপর থেকেই পরিস্থিতি ক্রমশ ঘোলাটে হতে থাকে।

চন্ডিপুর বিধানসভা কেন্দ্রে পরিস্থিতি উত্তপ্ত করার জন্য বিজেপির একাংশ নেতৃত্ব দায়ী করেন রঞ্জন সিনহাকে। তিনি উনকোটি জেলার প্রাক্তন জেলা সভাপতি। তার স্ত্রী-ই ১৮- র বিধানসভা নির্বাচনে বিজেপির টিকিটে লড়াই করেছিলেন।যদিও তিনি জয়ী হতে পারেননি। তবে মাত্র ৪২৭ ভোটের ব্যবধানে তৎকালীন মন্ত্রী তপন চক্রবর্তীর কাছে পরাজিত হওয়া। এবার চন্ডিপুর বিধানসভা কেন্দ্রে থেকে বিজেপির সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকায় ছিলেন রঞ্জন সিনহা। টিংকু রায়কে প্রার্থী করার পর বেঁকে বসেছিলেন রঞ্জন সিনহা।তিনি নির্দল থেকে প্রার্থী হওয়া সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন। কিন্তু টিংকুর লোকজনের টানা হুমকি হুজ্জতির মুখে রঞ্জন সিনহা বাধ্য হন তিপ্রা মথার নেতৃত্বের কাছে আশ্রয় নিতে। মথার সুপ্রিমো প্রদ্যুৎ কিশোর সঙ্গে সঙ্গে পাশা গুটির চাল দেন। এবং রঞ্জন সিনহাকে মথার প্রার্থী করে দেন।প্রদ্যুতের চালে প্রাথমিকভাবেই কুপোকাত হয়ে যান টিংকু।
চন্ডিপুর বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির প্রার্থী টিংকু রায়ের এই ছন্নছাড়া অবস্থা দেখে মাঠে নামেন দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। বিজেপির উত্তর পূর্বাঞ্চলের সংগঠন মন্ত্রী ফনিন্দ্র নাথ শর্মা, রাজ্যের কারা মন্ত্রী রামপ্রসাদ পাল ও রাজ্য বিজেপির সহ-সভাপতি অশোক সিনহা।
শুক্রবার দুপুর নাগাদ বিজেপির তিন সদস্যের দল কৈলাসহর বিমানবন্দরে হেলিকপ্টারে অবতরন করেন। এবং তারা সরাসরি চলে যান রঞ্জন সিনহার বাড়িতে। তখন রঞ্জন সিনহা বাড়ীতে ছিলেন না। বিজেপি নেতৃত্ব কথায বলেন রঞ্জন সিনহার স্ত্রী কাবেরী সিনহার সঙ্গে নেতৃত্ব কথাবার্তা বলেন।কিন্তু তাতে বরফ গলেনি। রঞ্জন সিনহার সঙ্গে তারা কথা বলার চেষ্টা করলেও সফল হন নি। শেষ পর্যন্ত তারা রঞ্জন সিনহার বাড়ি থেকে বেড়িয়ে আসেন।এই বিষয়ে বিজেপি নেতৃত্ব মুখ খুলেনি নি। তবে ডা:, অশোক সিনহা বলেছেন, তারা রঞ্জন সিনহার সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে এসেছিলেন।কিন্তু কথা হয় নি।

দলীয় নেতৃত্ব রঞ্জন সিনহার বাড়ি থেকে বের হয়ে পাইতুরবাজার এলাকায় অবস্থিত বিজেপি ঊনকোটি জেলা কমিটির অফিসে পনেরো-কুড়ি মিনিট সময় অতিক্রান্ত করে ফের দলীয় নেতৃত্ব হেলিকপ্টারে করে আগরতলার উদ্দেশ্যে রওয়ানা হন।
এদিকে এই ঘটনার পর তিপ্রামথার সুপ্রিমো প্রদ্যুৎ কিশোর বর্মন সরাসরি ফেসবুক লাইভে আসেন। তিনি বলেন, চন্ডিপুরে তাদের প্রার্থী রঞ্জন সিনহাকে বিজেপির লোকজন নানান ভাবে হুমকি দিচ্ছে ।এটা কোনভাবেই কাম্য নয়। তাই দলীয় কর্মী সমর্থকদের নির্দেশ দিয়েছেন রঞ্জন সিনহার পাশে থাকার জন্য।
