ডেস্ক রিপোর্টার,আগরতলা।।
                     বিজেপি-আইপিএফটি জোট সরকারের জমানায় রাজধানীর অপরাধচক্রের আতুর ঘর হয়ে উঠেছিল বড়জলা বিধানসভা কেন্দ্র। নিগোসিয়েশন থেকে শুরু করে নেশা কারবার। অস্ত্র কারবার, ঠিকাদার অপহরন, বোমাবাজি সহ স্বয়ংক্রিয় আগ্নেয়াস্ত্রের আস্ফালন। সবই দেখা গিয়েছে বড়জলা বিধানসভা কেন্দ্রে। তারই পুনরাবৃত্তি হল মঙ্গলবার রাতে। খোদ ভারত রত্ন ক্লাব প্রাঙ্গনে রক্তাক্ত হলো সন্তোষ দাস নামে এক যুবক। তার বাড়ি এই এলাকায়। দুষ্কৃতীরা তাকে গুলি করে হত্যার চেষ্টা করে। যদিও সে বরাত জুড়ে বেঁচে যায়। তবে গুলিবিদ্ধ সন্তোষ দাস নতুন নগর গুলি কাণ্ডের একজন অন্যতম অভিযুক্ত ছিল। পুলিশ তাকে নতুন নগর গুলি কাণ্ডের পর গ্রেফতার করেছিল। পরবর্তী সময় সন্তোষ জামিনে ছাড়া পেয়েছিল। জেল থেকে বেরিয়েই সন্তোষ ফের ডুবে গিয়েছিল অপরাধের গর্ভ গৃহে।
               স্থানীয় লোকজনের বক্তব্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার রাতে গুলিবিদ্ধ সন্তোষ দাস ভারতরত্ন ক্লাবের কয়েকজন সিনিয়র সদস্যের বাড়িতে যায়। এবং তাদের বাড়িঘর ভাঙচুর সহ সিনিয়র লোকজনকে মারধর করে। ক্লাব সদস্য বিজয়েশ্ চক্রবর্তী ও বাবুল চ্যাটার্জিকে নানান ভাবে হেনস্তা করে সন্তোষ দাস। সে বিজয়শ ও বাবুলের বাড়িতে আস্ফালন দেখিয়ে ফের চলে আসে ভারতরত্ন ক্লাবে। তখন এখানে ছিল এলাকার দাগি সমাজদ্রোহী রাজু বর্মনের ভাই রাকেশ বর্মন সহ আরো কয়েকজন। ক্লাব প্রাঙ্গণে বসেই এরা ককটেল পার্টি শুরু করে। তখনই সন্তোষ দাসের সঙ্গে রাজু বর্মনের ভাই রাকেশ কোন একটি বিষয় নিয়ে জড়িয়ে যায় বাক বিতন্ডায়।
               অভিযোগ, একসময় পরিস্থিতি উত্তপ্ত হলে রাকেশ বর্মন তার কোমরে থাকা পিস্তল বের করে সরাসরি সন্তোষ দাসকে গুলি করে। এবং ঘটনাস্থলেই রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে লুটিয়ে পড়ে সন্তোষ ।সঙ্গে সঙ্গে মাঠ প্রাঙ্গনে থাকা অন্যান্য সমাজদ্রোহীরা অকুস্থল থেকে কেটে পড়ে।
                খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে ছুটে আসে পুলিশ।
                 এরপর থানার পুলিশ আশঙ্কাজনক অবস্থায় রক্তাক্ত সন্তোষ দাসকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায় ।পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত নেমে হরিপদ দাস নামে এক যুবককে গ্রেফতার করে। অবাক করার মতো ঘটনা নতুন নগর গুলি কাণ্ডে গুলিবিদ্ধ হয়েছিল হরিপদ। ভারতরত্ন ক্লাবের গুলিকাণ্ডে শেষ পর্যন্ত হরিপদকেই তুলে নিয়ে আসে পুলিশ। এরপর থানার পুলিশের এই হীন কাজকর্ম দেখে পুলিশের উপর আস্থা হারিয়ে ফেলে স্থানীয় লোকজন। বাসিন্দাদের বক্তব্য, নতুন নগর গুলি কাণ্ডের পর থেকেই হরিপদ অসুস্থ। সে সর্বক্ষণ থাকে বাড়িতে। ক্লাবের এই ঘটনার সঙ্গে হরিপদের কোন যোগসূত্র নেই। এরপরেও পুলিশ মামলার তদন্তের কম্পাস অন্যদিকে ঘুরিয়ে দিয়ে হরিপদকে গ্রেফতার করে এবং পর্দার আড়াল করে  দেয় মূল শুটার রাকেশ বর্মনকে।
                জনমনে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে এই ঘটনায় পুলিশ রাকেশকে কেন পর্দার আড়ালে রাখার চেষ্টা করছে? অশুভ কোন কালো হাতের সঙ্গে রাকেশের সম্পর্ক থাকার  কারণেই নাকি ঘটনার অভিমুখ ঘুরিয়ে দেওয়ার প্রয়াস চালাচ্ছে পুলিশ।প্রসঙ্গত নতুননগর গুলী কাণ্ডের ঘটনায় মূল অভিযুক্ত ছিলো রাজু বর্মন। অর্থাৎ রাকেশের দাদা। পুলিশ এই মামলায় আজও গ্রেফতার করতে পারিনি। সম্প্রতি রাজুর সাগরেদ বিমানকে পুলিশ গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছিল। এই সময় রাজু ছিল অন্য একটি গাড়িতে। পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে রাজু চলে গিয়েছিল নিরাপদ স্থানে। আজ পর্যন্ত রাজ্য পুলিশ রাজুকে গ্রেফতার করতে না পারলেও প্রার্থীর মনোনয়ন দাখিল পড়বে তাকে দেখা গিয়েছিল মিছিলে হাঁটতে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, রাকেশ বর্মন সন্তোসকে গুলি করেছে। অথচ তাদের গ্রুপের লোকজনই  অভিযুক্তদের গ্রেফতারের জন্য এয়ারপোর্ট থানায় ডেপুটেশনও দিয়েছিল। গোটা বিষয়টাই হাস্যকর। পুরো ঘটনার পেছনে এবার  কে বা কারা কলকাঠি নারছে তার স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের লোকজনের কাছে। তবে সামনেই ভোট। ভোট বাক্সে প্রভাব পড়বে তাজা বুলেটের বারুদের গন্ধের।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *