পুলিশী তল্লাশির পর প্রসেনজিৎ পালের মা সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়ে ছিলেন, ” তাদের ঘরে থাকা টাকা ভর্তি দুইটি কাপড়ের ট্রলি নিয়ে যান আমতলী থানার ওসি প্রাজিত। একটি ট্রলিতে ছিলো এক কোটি টাকা। অপর ট্রলিতে ছিলো এক কোটি সাতাশ লক্ষ টাকা।” 

Table of Contents

ডেস্ক রিপোর্টার,৫ নভেম্বর।।
              শহরের এনসিসি থানার দুর্নীতিবাজ ওসি প্রাজিত মালাকারকে নিয়ে “জনতার মশাল” পর পর তিনটি পর্ব  সম্প্রচার করেছিলো। মাঝখানে উৎসবের মরশুম থাকায় আমরাও চুপ ছিলাম। কারণে উৎসবে মানুষ আনন্দে থাকতে চায়। ওসি প্রাজিত মালাকার উৎসবের সময় যেন “জনতার মশাল”কে নিয়ে দিবা স্বপ্ন না দেখেন তাই আমরা তাঁর দুর্নীতির খবর সম্প্রচার করা থেকে বিরত ছিলাম। এখন আবার প্রাজিত মালাকারের একের পর এক দুর্নীতির ফর্দ জন সন্মুখে তুলে ধরবে ” জনতার মশাল”। আজকের প্রতিবেদন চতুর্থ পর্ব। এই পর্বে আমরা ফাঁস করবো প্রাজিত মালাকারের এক কোটি সাতাশ লক্ষ টাকা আত্মসাৎ করার রোম হর্ষকর কাহিনী।

# পর্ব ৪: ওসি প্রাজিতের দূর্নীতির ফর্দ ফাঁস!

নাম: প্রসেনজিৎ পাল

বাড়ি: মহেশখলা, দাস পাড়া

থানা: আমতলী

পেশা: আইপিএল জুয়াড়ি

অপরাধ: অপহরণ করে যুবতীকে গণ ধর্ষণ।

।।প্রতীকী ছবি।।

দাস পাড়ার স্কুল মাঠে রাতের আঁধারে গাড়ির মধ্যে এক যুবতীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দিয়ে গণ ধর্ষণ করেছিল দুষ্কৃতীরা।

গত বছর তিনের আগে আমতলী থানার মহেশখলার দাস পাড়াতে ন্যাকার জনক ঘটনা ঘটেছিলো। দাস পাড়ার স্কুল মাঠে রাতের আঁধারে গাড়ির মধ্যে এক যুবতীকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে দিয়ে গণ ধর্ষণ করেছিল দুষ্কৃতীরা। এই গণ ধর্ষণ কাণ্ডের মূল মাস্টার মাইন্ড ছিলো স্থানীয় যুবক প্রসেনজিৎ পাল। সঙ্গে সহযোগীর ভূমিকায় ছিলো তার গাড়ির চালক। এই ঘটনার রেশ আছড়ে পড়েছিল রাজ্য রাজনীতিতেও। আহত মেয়েটিকে দেখতে হাসপাতালে ছুটে গিয়েছিলেন শাসক – বিরোধী উভয় রাজনৈতিক দলের নারী নেত্রীরা।দিয়েছিলেন অনেক লম্বা-চৌড়া ভাষণ।

।।প্রতীকী ছবি।।

মহেশখলার দাস পাড়ার গণধর্ষণ কাণ্ডের পর পরেই আমতলী থানার তৎকালীন ওসি প্রাজিৎ মালাকারের জীবনে নেমে এসেছিল “পৌষ মাস।”

বাংলায় একটা প্রবাদ আছে, কারো সর্বনাশ, কারো পৌষ মাস। মহেশখলার দাস পাড়ার গণধর্ষণ কাণ্ডের পর পরেই আমতলী থানার তৎকালীন ওসি প্রাজিৎ মালাকারের জীবনে নেমে এসেছিল “পৌষ মাস।” যুবতির সর্বনাশ হলেও কোনো ভ্রুক্ষেপ ছিলো না প্রাজিৎ মালাকারের। কারণ প্রাজিৎ মালাকারের হাতে চলে আসে ট্রলি ভর্তি টাকা। তাও এক বা দুই লক্ষ না। মোট টাকার পরিমাণ ছিলো দুই কোটি ২৭ লক্ষ টাকা। অবশ্যই টাকার পরিমাণ শুনলে আতকে উঠবে যে কেউ। কিন্তু এটাই বাস্তব সত্য।

।প্রতীকী ছবি।

আমতলী থানার তৎকালীন ওসি প্রাজিৎ কিভাবে এতো টাকা আত্মসাৎ করলেন?

যুবতি গণধর্ষণ কাণ্ডের মামলা থানায় দায়ের হতেই ময়দানে অবতীর্ণ হন প্রাজিৎ মালাকার। তিনি পুলিশী বহর নিয়ে অভিযান করেন মহেশখলা দাস পাড়াস্থিত প্রসেনজিৎ পালের বাড়িতে। এই বাড়িতে অভিযানের সময় খাজনা পেয়ে যান প্রাজিত।

কি সেই খাজনা?

গণধর্ষণ কাণ্ডের মূল মাস্টার মাইন্ড প্রসেনজিৎ পাল ছিলো আইপিএল জুয়ার এলিট ক্লাসের এজেন্ট। এই সময়ে দেশ জুড়ে চলছিল আইপিএল। এই আইপিএলের জুয়ার সমস্ত অর্থ মজুত ছিলো প্রসেনজিৎ পালের ঘরে। টাকা রাখা ছিল দুইটি ট্রলিতে।

প্রতীকী ছবি

পুলিশী তল্লাশির পর প্রসেনজিৎ পালের মা সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়ে ছিলেন, ” তাদের ঘরে থাকা টাকা ভর্তি দুইটি ট্রলি নিয়ে যান আমতলী থানার ওসি প্রাজিত। একটি ট্রলিতে ছিলো এক কোটি টাকা। অপর ট্রলিতে ছিলো এক কোটি সাতাশ লক্ষ টাকা।”

ওসি প্রাজিৎ মালাকার প্রসেনজিতের বাড়ি থেকে উদ্ধারকৃত দুইটি ট্রলির মধ্যে একটি তার গাড়ির চালককে দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে পাঠিয়ে দেয় বাড়িতে।

তৎকালীন সময়ে প্রসেনজিৎ পালের বাড়িতে অভিযান চালানোর সময় উপস্থিত পুলিশ কর্মীরা জানিয়ে ছিলেন, ” ওসি প্রাজিৎ মালাকার প্রসেনজিতের বাড়ি থেকে উদ্ধারকৃত দুইটি ট্রলির মধ্যে একটি তার গাড়ির চালককে দিয়ে সঙ্গে সঙ্গে পাঠিয়ে দেয় বাড়িতে। অপর গাড়ি করে ঘটনাস্থল থেকে অন্য একটি ট্রলি নিয়ে আসা হয়  আমতলী থানায়।”

প্রাজিত মালাকারের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া ট্রলিতে ছিলো এক কোটি সাতাশ লক্ষ টাকা।

থানায় নিয়ে আসা ট্রলিতে থাকা টাকার পরিমাণ ছিলো এক কোটি। অর্থাৎ প্রসেনজিত পালের মা’র কথা অনুয়ায়ী দুইটি ট্রলিতে ছিলো মোট দুই কোটি ২৭ লক্ষ টাকা। থানায় নিয়ে আসা ট্রলিতে পাওয়া যায় এক কোটি।সেই হিসেব অনুযায়ী, প্রাজিত মালাকারের বাড়িতে নিয়ে যাওয়া ট্রলিতে ছিলো এক কোটি সাতাশ লক্ষ টাকা।


শাস্তি স্বরূপ প্রাজিত মালাকারকে আমতলী থানা থেকে ক্লোজ করেছিলো পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। তাকে চাকরি সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল স্বরাষ্ট্র দপ্তর।

প্রাজিৎ মালাকার তার এই আর্থিক ঘোটালা চাপা দিয়ে রাখতে পারে নি। পুলিশ প্রশাসনের সিনিয়র অফিসারদের কাছে ট্রলিতে থাকা টাকা আত্মসাৎ ঘটনা স্পস্ট হয়ে যায়। এবং তা প্রমাণিত হয়। সঙ্গে সঙ্গেই শাস্তি স্বরূপ প্রাজিত মালাকারকে আমতলী থানা থেকে ক্লোজ করেছিলো পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ। তাকে চাকরি সাময়িক বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল স্বরাষ্ট্র দপ্তর। এই খবর জেনে প্রাজিত তৎকালীন পশ্চিম জেলার পুলিশ সুপারের পায়ে পড়ে যান। এবং তার শাস্তি কমানোর করুন আর্জি জানায়। তখনই তাকে চাকরি থেকে বরখাস্ত না করে ক্লোজ করেছিলো আরক্ষা দপ্তর।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *