বর্তমানে এই হাটের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে ভারতসুন্দরী কুল যা স্থানীয়ভাবে ‘মিস ইন্ডিয়া কুল’ নামেও পরিচিত। এই বিশেষ জাতের কুল বর্তমানে তেলিয়ামুড়াতেই সর্বাধিক পরিমাণে উৎপন্ন ও বিক্রি হয়।
তেলিয়ামুড়া ডেস্ক, ২ জানুয়ারি।।
ত্রিপুরা রাজ্যের অন্যতম কৃষি সমৃদ্ধ অঞ্চল তেলিয়ামুড়া। এখানে প্রতি সোমবার ও শুক্রবার বসে জমজমাট সাপ্তাহিক হাট! যেখানে রাজ্যের নানা প্রান্ত থেকে ক্রেতা-বিক্রেতারা ভিড় জমান। বর্তমানে এই হাটের অন্যতম আকর্ষণ হয়ে উঠেছে ভারতসুন্দরী কুল যা স্থানীয়ভাবে ‘মিস ইন্ডিয়া কুল’ নামেও পরিচিত। এই বিশেষ জাতের কুল বর্তমানে তেলিয়ামুড়াতেই সর্বাধিক পরিমাণে উৎপন্ন ও বিক্রি হয়। এর পেছনে রয়েছেন একদল পরিশ্রমী কৃষক, যাঁদের মধ্যে অন্যতম হলেন নয়নপুর কৃষ্ণপুর এলাকার জীবন দাস।
২০২০ সালে এই চাষ শুরু করেন। বর্তমানে তিনি ছয় কানি পাঁচ গন্ডা জমিতে, অর্থাৎ প্রায় এক হেক্টর জমিতে এই কুলের চাষ করছেন তিনি। জীবন দাস জানান, ভালো ফলনের জন্য প্রতিদিন প্রায় দুই ঘণ্টা সময় দিতে হয়। আট মাসের মধ্যেই গাছে ফল আসতে শুরু করে। এই চাষ করেই আমি আমার পরিবার চালাচ্ছি, এবং ভালোই লাভ হচ্ছে। বর্তমানে বাজারে এই বরির চাহিদা ব্যাপক। প্রতি কেজি বরির দাম ৬০ থেকে ৮০ টাকা পর্যন্ত ওঠানামা করে। তেলিয়ামুড়ার বাজারে এই কুলের বিক্রি দিন দিন বাড়ছে, ফলে আরও অনেক কৃষক এই চাষে আগ্রহী হয়ে উঠছেন।
জীবন দাস জানান, এই কূল চাষে জৈব সার যেমন প্রয়োজন, তেমনি কিছু পরিমাণে রাসায়নিক সারও ব্যাবহার করতে হয়। তিনি বলেন, সরকারের কাছ থেকে আমরা যথেষ্ট সহযোগিতা পাচ্ছি। এজন্য আমি সরকারকে ধন্যবাদ জানাই। জীবন দাস মনে করেন, “ইচ্ছা থাকলে, মনোযোগ ও মনোবল নিয়ে এই চাষ শুরু করলে যে কেউ সফল হতে পারেন। আমি নিজেই তার উদাহরণ।” তিনি এখন শুধু কুল নয়, কুলের চারাও বিক্রি করেন। ত্রিপুরার যেকোনো প্রান্ত থেকে আগ্রহীরা তাঁর সঙ্গে যোগাযোগ করতে পারেন। তিনি বলেন, “মানুষ যেমন সোনা কেনার স্বপ্ন দেখে, আমি স্বপ্ন দেখি কীভাবে এই চাষ আরও বড় পরিসরে করতে পারি। আরও জমি নিয়ে, আরও বেশি ফলন করে তেলিয়ামুড়ার নাম উজ্জ্বল করতে পারি। উল্লেখ্য এই কুল ত্রিপুরার কৃষ্ণপুর এলাকার সুবির হালদার নামে এক কৃষক প্রথম শুরু করেন তারপর থেকে একে একে তার প্রতি মনোযোগ দিয়ে এই কাজ শুরু করেন । আত্মনির্ভরের একটা বিকল্প পথ এই কুল চাষ।

