এই প্রকল্পে শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্সের তরফে স্কুলের আবাসিকদের সবরকম সুযোগসুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি পড়ুয়াদের জন্য যথাযথ পুষ্টি, পড়াশোনার সামগ্রী, বই, উপযুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ, খেলার কোচ ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জন্য স্কলারশিপের ব্যবস্থা করা হয়।

আগরতলা, ১৩ জানুয়ারি।।
      শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্সের উদ্যোগে ‘স্বর্ণগ্রাম শিক্ষালয়ে বাৎসরিক ক্রীড়া ও আনন্দোৎসব উদযাপন’ করা হয়।শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্সের এক প্রয়াসের নাম এই ‘স্বর্ণগ্রাম ‘- যা গোমতী জেলার ওয়ারেংবাড়িকে আদর্শ গ্রাম প্রকল্প হিসেবে তুলে ধরেছে।‘স্বর্ণগ্রাম শিক্ষালয়’ হল শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্সের একটি আবাসিক স্কুল প্রকল্প। সহযোগিতায় রয়েছে ওয়ারেংবাড়ির গ্লোরি অ্যাকাডেমি। এই প্রকল্পে শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্সের তরফে স্কুলের আবাসিকদের সবরকম সুযোগসুবিধা দেওয়ার পাশাপাশি পড়ুয়াদের জন্য যথাযথ পুষ্টি, পড়াশোনার সামগ্রী, বই, উপযুক্ত শিক্ষক-শিক্ষিকা নিয়োগ, খেলার কোচ ও মেধাবী ছাত্রছাত্রীদের জন্য স্কলারশিপের ব্যবস্থা করা হয়।
‘স্বর্ণগ্রাম শিক্ষালয় উৎসব উদযাপন’ আসলে স্বর্ণগ্রামের শিশুদের এক আনন্দ অনুষ্ঠান। অনুষ্ঠানের শুরুতেই গৌর চন্দ্র সাহা-র প্রতিকৃতিতে পুষ্পার্ঘ্য প্রদান করেন অতিথিরা ও গ্রামের শিশুরা ।এদিনের অনুষ্ঠানে রিয়াং আদিবাসী জনগোষ্ঠী অধ্যুষিত গ্রামের ছোটরা গান গেয়ে অনুষ্ঠানের শুরু করে। শিশুদের নানা আয়োজনে অনুষ্ঠানটি আনন্দময় হয়ে উঠে। শেষ হয় গ্রামের ছোটদের ঐতিহ্যবাহী হোজাগিরি নাচ দিয়ে। যা অনুষ্ঠানে এক নয়া মাত্রা যোগ করে। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন ক্রীড়াতে বিজয়ীদের পদক ও পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা।
ক্রীড়াবিদ ছাত্র আউইনেল রিয়াং এবং ক্রীড়াবিদ ছাত্রী পারমিতা রিয়াং বর্ষসেরার পুরস্কার পান ।
পড়াশুনার ক্ষেত্রে বর্ষসেরা ছাত্র হন জুনিয়েল রিয়াং এবং বর্ষসেরা ছাত্রী হন কোয়াল রিয়াং।
এদিন ‘স্বর্ণগ্রাম শিক্ষালয় আনন্দোৎসব’ অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন শ্যাম সুন্দর কোং জুয়েলার্স-এর ডিরেক্টর রূপক সাহা।
সাথে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট উদ্যোগপতি সুমন দাশগুপ্ত, অলোক অধিকারী, ত্রিপুরা জুয়েলারি অ্যাসোসিয়েশন কর্মকর্তাবৃন্দ ও যোগগুরু নিরঞ্জন ভট্টাচার্য। উপস্থিত প্রত্যেকেই স্বর্ণগ্রামের আদিবাসী জনগোষ্ঠীর উন্নয়ন, গ্রামের ছেলেমেয়েদের পড়াশোনা, স্কুলের উন্নতি এবং গ্রামের লোকদের জীবনযাপন আরো ভালো করার ব্যাপারে সহযোগিতার কথা বলেন। সমস্ত শিশুদের হাতে নানা উপহার এবং সমস্ত আবাসিক ছাত্র ছাত্রীদের ও গ্রামবাসীদের হাতে শীত কম্বল তুলে দেওয়া হয়। নানা উপহার ও খেলার সামগ্রী পেয়ে শিশুদের আনন্দ ছিলো চোখে পরার মতো।
রূপক সাহা জানান যে “প্রত্যেক বছরের মতো এবারও স্বর্ণগ্রাম শিক্ষালয়ের প্রত্যেকের হাতে নানা খেলার সামগ্রী ও কম্বল তুলে দিতে পেরে আমরা বিশেষ আনন্দিত। এই বিশেষ অনুষ্ঠান হলো স্বর্ণগ্রাম শিক্ষালায়ের ছাত্র-ছাত্রী ও আবাসিকদের আমাদের ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির সাথে পরিচিত করানোর এক প্রয়াস। সবার সাহায্যে স্বর্ণগ্রাম শিক্ষালয় এক নতুন উচ্চতায় উঠেছে । সবার প্রতি রইল আন্তরিক কৃতজ্ঞতা । বিশেষত স্বর্ণগ্রামের মানুষের কাছ থেকে যে উৎসাহ পেয়েছি তা সবচেয়ে উল্লেখযোগ্য ।
তিনি আরও বলেন, “স্বর্ণগ্রাম প্রকল্পটি আমাদের স্বপ্নকেও ছাপিয়ে গেছে এবং ভবিষ্যতে এই পথ আরো প্রশস্ত হবে। আরো অনেক কাজ বাকি রয়েছে। তবে সবাই একসঙ্গে থাকলে এই উদ্দেশ্য পূরণ হবেই।”অনুষ্ঠান শেষে ছিলো সবাই মিলে একসাথে পঙ্ক্তি ভোজন।এক আনন্দময় পরিবেশের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *