“এমজিএন রেগার ত্রুটিগুলি দূর করতেই এই আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্থায়ী ও দীর্ঘকালীন সম্পদ সৃষ্টিতে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং গুণগতমান বজায় রেখে কাজ করতে হবে। এই আইন প্রণয়ন হয়ে গেলে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে দালালচক্রের অবসান এবং দুর্নীতি মুক্ত ব্যবস্থা সৃষ্টি হবে।”মুখ্যমন্ত্রী

আগরতলা, ১১ ফেব্রুয়ারি।।
       রাজ্যে বিকশতি ভারত জি রাম জি আইন, ২০২৫ প্রণয়ন উপলক্ষ্যে বুধবার স্বামী বিবেকানন্দ ময়দানে জনপ্রতিনিধি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। এছাড়াও প্রায় ৫৪৬ কোটি টাকার বিভিন্ন গ্রামোন্নয়ন প্রকল্প উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন এবং লাভার্থি সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহার উপস্থিতিতে এই জনপ্রতিনিধি সম্মেলন এবং গ্রামোন্নয়ন প্রকল্পগুলির ভার্চুয়ালি উদ্বোধন করেন কেন্দ্রীয় গ্রামোন্নয়ন এবং কৃষি ও কৃষক কল্যাণ মন্ত্রকের মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান। অনুষ্ঠানে সাংসদ বিপ্লব কুমার দেব সহ রাজ্য মন্ত্রিসভার সদস্য সদস্যাগণ উপস্থিত ছিলেন।
  অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান বলেন, ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ার সংকল্প বাস্তবায়নে গ্রামীণ ভারতের সম্পূর্ণ বিকাশের রোডম্যাপ হলো বিকশিত ভারত জি রাম জি আইন, ২০২৫। এর মাধ্যমে গ্রামীণ ভারতের ছবির পাশাপাশি গরীব অংশের মানুষের ভাগ্যকেও পরিবর্তন করা যাবে। এখন থেকে এই আইনে বছরে ১০০ দিনের পরিবর্তে কাজ দেওয়া হবে ১২৫ দিন। আইন অনুযায়ী যদি কেউ কাজের দাবি জানিয়ে সময়মতো কাজ না পান, তাহলে তাদের বেকার ভাতা এবং মুজুরি প্রদানের ১৫ দিনের বেশি দেরি হলে মোট মুজুরির উপর সুদ দেওয়ার কথাও রয়েছে। তিনি বলেন এই বছরের কেন্দ্রীয় বাজেটে ৯৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা এই কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ করা হয়েছে। সারা দেশে রাজ্যসমূহ এবং অর্থ কমিশনের শেয়ারের সহযোগে এই কর্মসূচিতে আগামী অর্থবছরে প্রায় ২ লক্ষ কোটি টাকা ব্যয় করা হবে। এই হিসেবে আগামী ৫ বছরে ব্যয় হবে প্রায় ১০ লক্ষ কোটি টাকা। এই টাকায় গৃহীত কর্মসূচি সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে দেশের গ্রামীণ জীবনযাত্রার মান ও চিত্র সম্পূর্ণ পাল্টে যাবে বলে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি উত্তর পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলিকে অষ্টলক্ষ্মী হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। যদিও ত্রিপুরা এই অষ্টলক্ষ্মীর নামের পূর্ণ বৈভবের প্রতিচ্ছবি। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে ভারতবর্ষ বৈভবশালী, সমৃদ্ধ, শক্তিশালী দেশ হিসেবে আত্মপ্রকাশ করছে। ভারত এখন বিশ্বগুরু হওয়ার পথে। তিনি বলেন, বিভিন্ন বিরোধী দল নিজস্ব রাজনৈতিক উদ্দেশ্য চরিতার্থ করতে এই আইনের বিরোধীতা করছে। যার কোন ভিত্তি নেই। তিনি আরও বলেন, এই কর্মসূচি তৃণমূল পর্যায়ে বাস্তবায়নে নিযুক্ত কর্মচারি যেমন জিআরএস, টেকনিক্যাল স্টাফ রয়েছেন তাদের বেতন ভাতা দেওয়ার জন্য এই আইনে প্রশাসনিক ব্যয় ৬ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৯ শতাংশ করা হয়েছে। যার ফলে সেই সমস্ত কর্মচারিদের বেতন খাতের জন্য প্রায় ১৩ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ থাকবে। জনজাতি, তপশিলী জাতি, দিব্যাঙ্গজন, বিধবা মহিলাদের এই কর্মসূচিতে কাজ পাওয়ার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে। কেন্দ্রীয় মন্ত্রী রাজ্য সরকারের প্রশংসা করে বলেন, প্রধানমন্ত্রী আবাস যোজনায় ঘর নির্মাণের যে লক্ষ্যমাত্রা রাজ্যকে দেওয়া হয়েছিল তার ৯৯ শতাংশ ঘরের কাজই ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়ে গেছে। লাখপতি দিদি তৈরির লক্ষ্যমাত্রাও রাজ্য সরকার ছাড়িয়ে গেছে। তিনি বলেন, আগামীদিনে রাজ্যে আরও প্রায় ২ লক্ষ ঘর নির্মাণের জন্য আর্থিক বরাদ্দের উদ্যোগ নেওয়া হবে। প্রধানমন্ত্রী গ্রাম সড়ক যোজনায় ১০৮টি আবাসিক এলাকাকে সংযুক্ত করার জন্য নতুন রাস্তা নির্মাণ করা হবে। তাছাড়া রাজ্যের কৃষি ব্যবস্থার উন্নয়নে অতিশীঘ্রই আইসিএআর-এর কৃষি বিজ্ঞানীদের একটি দল রাজ্যে পাঠানো হবে। তারা এখানকার জলবায়ু মাটি, জল পরীক্ষা করে আগামীদিনে কি ধরণের কৃষি সামগ্রি উৎপাদন লাভজনক হবে সে সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট জমা দেবেন। রাজ্যের প্রতিটি জেলায় স্বসহায়ক দলের বিভিন্ন সামগ্রি বিক্রির জন্য সি-মার্ট খোলা হবে। আরকেভিওয়াই মিশনে রাজ্যকে এই অর্থবছরের জন্য আরও অতিরিক্ত ৬০ কোটি টাকা দেওয়া হবে বলেও কেন্দ্রীয় মন্ত্রী জানান।
অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা) মানিক সাহা বলেন, গ্রামীণ মানুষের রোজগারের নিশ্চয়তা দেওয়ার ক্ষেত্রে এই আইন চালু ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত। বিরোধীরা বারবার এই আইন নিয়ে সাধারণ জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করছে। যদিও পূর্বে বহুবার সময়ের দাবি মেনে বিভিন্ন প্রকল্প ও আইনের নাম পরিবর্তন ও পরিবর্ধন করা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এমজিএন রেগার ত্রুটিগুলি দূর করতেই এই আইন প্রণয়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে স্থায়ী ও দীর্ঘকালীন সম্পদ সৃষ্টিতে জবাবদিহিতা, স্বচ্ছতা এবং গুণগতমান বজায় রেখে কাজ করতে হবে। এই আইন প্রণয়ন হয়ে গেলে প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহারের মাধ্যমে দালালচক্রের অবসান এবং দুর্নীতি মুক্ত ব্যবস্থা সৃষ্টি হবে। গ্রাম সভার মাধ্যমে গ্রামের উন্নয়নে রূপরেখা পঞ্চায়েত কার্যালয়ে বসেই স্থির করা যাবে। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, এই আইনের ফলে গ্রামীণ ক্ষমতায়ন, সমতা এবং টেকসই উন্নয়ন সম্ভব। তিনি বলেন, এই আইনের মাধ্যমে রাজ্য সমূহের কৃষিকালীন সময়ে সর্বোচ্চ ২ মাস কাজ বন্ধ রাখা যাবে। এর ফলে কৃষি কাজ যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হবে না, তেমনি শ্রমিক শ্রেণিও কৃষিক্ষেত্রে এবং পরবর্তিতে এই আইনে ১২৫ দিনের কাজও পাবেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে অনুষ্ঠানের সভাপতি পঞ্চায়েত মন্ত্রী কিশোর বর্মণ বলেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা, সুশাসনের মাধ্যমে উন্নয়নমূলক কাজে রাজ্য দেশের মধ্যে এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ইতিমধ্যে রাজ্য পঞ্চায়েতি কাজে সাফল্য স্বরূপ বিভিন্ন বিভাগে ৭টি পুরস্কার লাভ করেছে। তিনি বলেন, এই আইনের মূল উদ্দেশ্য হলো গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করে, শক্তিশালী ভারত গঠন। আইনে দক্ষতা উন্নয়ন, স্থানীয় সম্পদের ব্যবহার, স্বনির্ভর গোষ্ঠীর ক্ষমতায়ন, প্রযুক্তি নির্ভর উন্নয়নমূলক কাজ বাস্তবায়নে সবচেয়ে বেশি জোর দেওয়া হয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *