সূর্য মনি নগর বিধানসভা কেন্দ্রে রামপ্রসাদ পাল এবং তার সহযোগী শীতেশ ভট্টাচার্য, মলয় লোধ, মান্তু দেবনাথ, উদয় ভাস্কর চক্রবর্তী, গৌরাঙ্গ রক্ষিত সহ আরো কয়েকজনের দীর্ঘদিন ধরে তোল্লাবাজি, জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ সরব হবার সাহস করেননি কেউ । সেই নীরবতার দেয়াল ভেঙে ছিলেন ত্রিপুরার প্রথম সারির সংবাদ মাধ্যম আজকের ফরিয়াদ পত্রিকা এবং নিউজ নাও বৈদ্যুতিন চ্যানেলের চিফ এডিটর শানিত দেবরায়।
ডেস্ক রিপোর্টার,১৭ ফেব্রুয়ারি।। গত ১৪ ফেব্রুয়ারি শহরের মিলন সংঘ এলাকায় যে ঘটনাটি ঘটেছে, তা কোনো সাধারণ বিক্ষোভ বা মতভেদ নয়। ত্রিপুরার প্রথম সারির সংবাদমাধ্যম “আজকের ফরিয়াদ” এবং ” নিউজ নাউ”-র চিফ এডিটর তথা অ্যাসেম্বলি অফ জার্নালিস্ট’স- র সাধারণ সম্পাদক শানিত দেবরায়ের বিরুদ্ধে সংঘবদ্ধভাবে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে প্রকাশ্যেই । শুধু তাই নয়, রাজ্যের ” মুখিয়া ” শব্দটি ব্যবহার করে হুমকি দেওয়া হয়েছে খোদ মুখ্যমন্ত্রীকে। শুধু মৌখিক আক্রমণ নয়, পোস্টারে লাল ক্রস চিহ্ন এঁকে একপ্রকার ‘টার্গেট মার্কিং’-এর বার্তা দেওয়া হয়েছে—যা সুস্পষ্ট ভয় প্রদর্শন এবং সম্ভাব্য সহিংসতার ইঙ্গিত বহন করে বলে মনে করছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। প্রশ্ন হলো—এটি কি কেবল একটি ব্যক্তিগত আক্রোশ? নাকি সংবাদমাধ্যমকে চুপ করিয়ে দেওয়ার বৃহত্তর কৌশল?
সূর্য মনি নগর বিধানসভা এলাকায় রামপ্রসাদ পাল এবং তার সহযোগী শীতেশ ভট্টাচার্য, মলয় লোধ, মান্তু দেবনাথ, উদয় ভাস্কর চক্রবর্তী, গৌরাঙ্গ রক্ষিত সহ আরো কয়েকজনের দীর্ঘদিন ধরে তোল্লাবাজি, জমি দখল ও চাঁদাবাজির অভিযোগ নিয়ে প্রকাশ্যে কেউ সরব হবার সাহস করেননি কেউ । সেই নীরবতার দেয়াল ভেঙে ছিলেন ত্রিপুরার প্রথম সারির সংবাদ মাধ্যম আজকের ফরিয়াদ পত্রিকা এবং নিউজ নাও বৈদ্যুতিন চ্যানেলের চিফ এডিটর শানিত দেবরায়। আর তার পরেই তাঁর বিরুদ্ধে শুরু হয় হুমকি, কুৎসা ও সংগঠিত আক্রমণ। বাস্তব অর্থে,এই ঘটনাপ্রবাহের মাধ্যমে বার্তা দেওয়া হয়—দুর্নীতির বিরুদ্ধে কলম ধরলেই টার্গেট করা হবে সাংবাদিকদের।
।রাম ভক্ত দুর্নীতিবাজ সৈনিক।
রাম প্রসাদের রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল স্মাগলিং-র মধ্য দিয়ে।
এই সঙ্ঘবদ্ধ ষড়যন্ত্রের মূল হোতা রামপ্রসাদ পাল। তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ার শুরু হয়েছিল স্মাগলিং-র মধ্য দিয়ে। কেঁচো খুঁড়তে কেউটে, না বেরিয়ে পড়ে সেই ভয়ে সম্পূর্ণ পরিকল্পিতভাবে জনরোষ তৈরি করার ব্লু প্রিন্ট রচনা করেছিলেন রামপ্রসাদ পাল।
সাংবাদিককে প্রকাশ্যে হুমকি মানে কেবল একজন ব্যক্তিকে নয়, জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশের অধিকারকেই চ্যালেঞ্জ করা।
গণতন্ত্রে সংবাদ মাধ্যমের ভূমিকা ‘চতুর্থ স্তম্ভ’ হিসেবে স্বীকৃত। সেখানে সাংবাদিককে প্রকাশ্যে হুমকি মানে কেবল একজন ব্যক্তিকে নয়, জনস্বার্থে তথ্য প্রকাশের অধিকারকেই চ্যালেঞ্জ করা।ভারতীয় ন্যায় সংহিতা অর্থাৎ (BNS)-এর ১৮৯ ধারায় অবৈধ সমাবেশ এবং সংঘবদ্ধভাবে প্রাণনাশের হুমকি—দুটিই আমলযোগ্য অপরাধ। তবুও এডি নগর থানার প্রাথমিক অবস্থান ছিল ‘নন-কগনিজেবল’। আদালতের অনুমতির যুক্তি দেখিয়ে কার্যত অভিযোগ নথিভুক্ত না করা—আইনজ্ঞদের মতে এটি শুধু মাত্র দায় এড়ানোর প্রবণতা।
টাইগার রঞ্জিতের বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই শুরু হয় ব্যক্তিগত আক্রমণ।
অন্যদিকে, আগরতলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি প্রণব সরকারের বিরুদ্ধেও সংগঠিত মানহানিকর প্রচার শুরু হয় সোশ্যাল মিডিয়ায়। টাইগার রঞ্জিতের বাংলাদেশি নাগরিকত্ব নিয়ে প্রশ্ন তুলতেই শুরু হয় ব্যক্তিগত আক্রমণ। আগরতলা প্রেসক্লাবের সভাপতি তথা হেডলাইনস ত্রিপুরা সংবাদমাধ্যমের এডিটর প্রণব সরকারের বিরুদ্ধে অসংবিধানিক ভাষা প্রয়োগ করে একের পর এক মিথ্যা অভিযোগ করে চলেছে টাইগার রঞ্জিত। অথচ এই ক্ষেত্রেও নীরব ভূমিকা পালন করছে পুলিশ।
এই ধরনের ঘৃণাত্মক বক্তব্য, “ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং তথ্য প্রযুক্তি আইন, ২০০০ অনুযায়ী আমলযোগ্য অপরাধ।
এই ধরনের ঘৃণাত্মক বক্তব্য, “ভারতীয় ন্যায় সংহিতা এবং তথ্য প্রযুক্তি আইন, ২০০০ অনুযায়ী আমলযোগ্য অপরাধ। সেইমতো, তিনটি তিনটি করে মোট ছটি মামলা লিপিবদ্ধ করেন উভয় সাংবাদিক ।” তবুও উভয় ক্ষেত্রেই পুলিশি তৎপরতা দেখা যায় প্রায় ৭২ ঘণ্টা পরে। তা-ও সার্বিক ঘটনার বিরুদ্ধে মুখ্যমন্ত্রী ডক্টর মানিক সাহার প্রকাশ্যে প্রতিবাদের পর কথিত তদন্ত শুরু করে আমতলী এবং এডি নগর থানার পুলিশ। এই বিলম্ব কি নিছক প্রশাসনিক জড়তা, নাকি প্রভাবশালী মহলের প্রতি নরম মনোভাব? নাকি রামপ্রসাদ পাল অ্যান্ড কোং এর মত সমাজদ্রোহীদের সঙ্গে দহরম মহরমের ফল — তা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন।
মঙ্গলবার ফটিকরায়ের ডেমডুমে অনুষ্ঠিত বিজেপির সভা থেকে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা স্পষ্ট ভাবেই সাবধান করে দিয়েছেন বিধায়ক রাম প্রসাদ পালকে। এবং এই কার্য কালাপের জন্য শাস্তির মুখে পড়তে হবে বলেও বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।
মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহার প্রতিবাদ জানানোর পরেই শুরু হয় পুলিশি তদন্ত।
মুখ্যমন্ত্রী ড. মানিক সাহার প্রতিবাদ জানানোর পরেই শুরু হয় পুলিশি তদন্ত। সবচেয়ে লক্ষণীয়, শাসক দল ভারতীয় জনতা পার্টি এবং দলের রাজ্য সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য এখনো প্রকাশ্যে কোনো অবস্থান নেননি এই বিষয়ে। সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্য হুমকি—এটি কি শাসকদলের কাছে তুচ্ছ ঘটনা? নাকি নীরবতাই একপ্রকার পরোক্ষ সমর্থন?– প্রশ্ন উঠছে তা নিয়েও। রাজনৈতিক শালীনতা ও গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিতে শাসকদলের দায়িত্ব দ্বিগুণ। বিরোধী কণ্ঠ বা অনুসন্ধানী সাংবাদিকতাকে যদি ‘শত্রুতা’ হিসেবে দেখা হয়, তবে তা সংকুচিত করে গণতান্ত্রিক পরিসরকে।সংবাদমাধ্যমের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে এই ধরনের হুমকি এবং কার্যকলাপের পরেও এক্ষেত্রে কোন বাক্য ব্যয় করেননি বিজেপি রাজ্য সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য।
প্রতিবাদী কলম পত্রিকা কার্যালয় আক্রমণ করে নিজেই যেখানে গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভকে গুঁড়িয়ে দেবার অমর কীর্তি রচনা করেছেন খোদ ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপি সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য।
প্রতিবাদী কলম পত্রিকা কার্যালয় আক্রমণ করে নিজেই যেখানে গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভকে গুঁড়িয়ে দেবার অমর কীর্তি রচনা করেছেন খোদ ত্রিপুরা প্রদেশ বিজেপি সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য।এমন একটি ব্যক্তির কাছ থেকে এই ধরনের আচরণ প্রত্যাশিত বলে মনে করছেন সংবাদ মহল। তবে এই ক্ষেত্রে বিজেপি দলের ভূমিকা নিয়েই উঠছে প্রশ্ন চিহ্ন।আইনের শাসনের মূল ভিত্তি হলো—অপরাধের ক্ষেত্রে দ্রুত ও নিরপেক্ষ পদক্ষেপ।
আজ যদি সাংবাদিক নিরাপদ না হন, কাল সাধারণ নাগরিকও নিরাপদ থাকবেন—এমন নিশ্চয়তা কোথায়?
যখন প্রকাশ্য হুমকি, পোস্টার বিকৃতি, জনরোষ উসকানি—এসব সত্ত্বেও পুলিশ নড়াচড়া করতে দেরি করে, তখন তা ভবিষ্যতের জন্য তৈরি করে বিপজ্জনক নজির।আজ যদি সাংবাদিক নিরাপদ না হন, কাল সাধারণ নাগরিকও নিরাপদ থাকবেন—এমন নিশ্চয়তা কোথায়? সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী সূর্যমনি নগর এলাকার অভিযুক্ত মাফিয়াদের এলাকা থেকে পলায়ণের জন্য সুযোগ করে দিচ্ছে পুলিশের নমনীয় পদক্ষেপ।