“২০২২ সালে আগরতলা কেন্দ্রের উপ নির্বাচনের প্রাক লগ্নে আক্রান্ত হয়েছিলেন কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন। তখন রাজ্যের সমস্ত অংশের সংবাদ মাধ্যম সুদীপ রায় বর্মনের পাশে দাঁড়িয়েছিল। সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরীকে যখন এডিসি এরিয়াতে কাঠের লগ দিয়ে মথার দুষ্কৃতীরা আক্রমণ করেছিল, তখন মিডিয়া ছিলো জিতেনের পাশেই। আজ কেন কংগ্রেস – সিপিআইএম মিত্র শক্তি নিশ্চুপ? তাদের কি রাজ্যের বৃহৎ অংশের মিডিয়ার প্রয়োজন নেই?”
অবশ্যই আছে, কিন্তু বিরোধীরা নিজের স্বার্থে যতটা গর্জন করে, সংবাদ মাধ্যম আক্রান্ত হলে ততটাই নিস্প্রভ হয়ে যায়। এটা কেন? তারা নাকি গনতন্ত্র রক্ষার প্রহরী। পান থেকে চুন খসলেই রাজপথে নেমে চিৎকার করে শাসকের বিরুদ্ধে। কিন্তু সংবাদ মাধ্যম আক্রান্ত হলে ঘরে বসে আঙুল চুষেন বিরোধী নেতারা। বকলমে তারা মান্যতা দেন শাসক শ্রেণীর বাহুবলী নেতাদের গুণ্ডারাজকে। অন্তত রাজ্যের বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রধান বিরোধী সিপিআইএম ও বিরোধী কংগ্রেস ঘুর পথে বিজেপি বিধায়ক রামপ্রসাদ পাল ও তিপ্রামথা বিধায়ক প্রাক্তন জঙ্গি নেতা রঞ্জিত দেববর্মার অসামাজিক কার্যকলাপকে প্রশ্রয় দিচ্ছে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।
শেষ পর্যন্ত নিজেদের ইজ্জত বাঁচাতে কংগ্রেস আমতা আমতা করতে করতে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ খুলেছে।
তবে, শেষ পর্যন্ত নিজেদের ইজ্জত বাঁচাতে কংগ্রেস আমতা আমতা করতে করতে সাংবাদিক বৈঠক করে মুখ খুলেছে। বৃহস্পতিবার আগরতলার কংগ্রেস ভবনে সাংবাদিক বৈঠক করে প্রদেশ কংগ্রেস প্রবক্তা প্রবীর চক্রবর্তী, ‘আজকের ফরিয়াদ’ পত্রিকার সম্পাদক শানিত দেবরায়ের বাড়ির সামনে বিধায়ক রাম প্রসাদ পালের কার্যকলাপের নিন্দা করেছেন। এবং পুলিশ কেন অভিযুক্তদের গ্রেফতার করছে না? তা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন।
প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি আশীষ কুমার সাহা ও কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন ।
প্রদেশ কংগ্রেস প্রবক্তা প্রবীর চক্রবর্তী মুখ্যমন্ত্রীকে কাঠ গড়ায় তুলে বলেন, ” মুখ্যমন্ত্রী বলার পর থানায় মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। কিন্তু ঘটনার পাঁচ দিন পরও পুলিশ অভিযুক্তদের গ্রেফতারের সাহস দেখাতে পারছে না। এটা গণতন্ত্রের লজ্জা।”
শানিত দেবরায়ের ছবি লাল কালি দিয়ে মার্কিং করে তাঁকে নিকেশ করার বার্তা দিয়েছে।
প্রশ্ন হলো গত ১৪ ফেব্রুয়ারি আজকের ফরিয়াদ পত্রিকার সম্পাদক শানিত দেবরায়ের বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে তাকে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছেন বিধায়ক রাম প্রসাদ পাল। শানিত দেবরায়ের ছবি লাল কালি দিয়ে মার্কিং করে তাঁকে নিকেশ করার বার্তা দিয়েছে। ত্রিপুরা হেডলাইন্স টিভি চ্যানেলের সম্পাদক প্রণব সরকারকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে হুমকি দিচ্ছেন শাসক জোট তিপ্রামথার বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মা। যে নাকি এক সময়ে গোটা রাজ্যে রক্তের হোলি খেলেছিল। ধারাবাহিক ভাবে চতুর্থ স্তম্ভের উপর একের পর এক আঘাত আসার পরও এতো দিন কংগ্রেস কেন চুপ ছিলো? তারা কেন ঘটনার সঙ্গে সঙ্গে চতুর্থ স্তম্ভের নিরাপত্তার স্বার্থে রাস্তায় নামে নি? জনমনে উঠছে প্রশ্ন।
রামপ্রসাদ পালের বিক্ষোভ সভায় সম্পাদক শানিত দেবরায়কে প্রকাশ্যে নিকেশের বার্তা।
আসলেও সিপিআইএমও কি ভয় পায় বিজেপি – মথার বাহুবলী নেতা – বিধায়কদের?
শহরের মেলারমাঠের শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ঘরে বসে যারা নিজেদের প্রধান বিরোধী বলে হাকডাক দেন, তারাও রহস্য জনক ভাবে নিশ্চুপ। রাজ্যের প্রধান বিরোধী দল সিপিআইএমের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায় নি। আসলেও সিপিআইএমও কি ভয় পায় বিজেপি – মথার বাহুবলী নেতা – বিধায়কদের? জিতেন – মানিকদের চলন – বলনে এটাই স্পষ্ট হচ্ছে জনমনে। কংগ্রেস তো লজ্জা গোছানোর জন্য সাংবাদিক বৈঠক করে দোষ ফুরিয়েছে। কিন্তু মেলারমাঠের লাল বাড়ির অভিভাবকদের তো লজ্জাও নেই। তারা মুখে কুলুপ এঁটে রেখেছেন।
মেলারমাঠে রাজ্য সিপিআইএমের সদর দপ্তর।
আসলে রাজ্যের কংগ্রেস – বিজেপি – সিপিআইএম – তিপ্রামথা যেন একই বৃন্তের চারটি ফুল!তাই বিরোধী মিত্র শক্তি কংগ্রেস – সিপিআইএম নেতৃত্ব মুখ খুলছে না বিজেপি – মথা শাসক জোটের বাহুবলী নেতাদের আস্ফালন নিয়ে।
কমিউনিস্ট নেতা মানিক সরকার এবং জিতেন্দ্র চৌধুরী।
রাজ্যের সমস্ত সংবাদ মাধ্যমের উচিত শাসক দলের গুণ্ডা বাহিনীর দ্বারা কংগ্রেস – সিপিআইএম নেতৃত্ব আক্রান্ত হলে, এই সংক্রান্ত খবর ব্ল্যাক আউট করে দেওয়া।
পরিশেষে বলা যায়, রাজ্যের সমস্ত সংবাদ মাধ্যমের উচিত শাসক দলের গুণ্ডা বাহিনীর দ্বারা কংগ্রেস – সিপিআইএম নেতৃত্ব আক্রান্ত হলে, এই সংক্রান্ত খবর ব্ল্যাক আউট করে দেওয়া। অবশ্যই সাধারণ মানুষের ক্ষেত্রে পাশে থাকবে সংবাদ মাধ্যম। এই সিদ্ধান্ত শুধু মাত্র কংগ্রেস – সিপিআইএমের প্রথম সারির নেতাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য।
সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরীকে যখন এডিসি অঞ্চলে কাঠের লগ দিয়ে মথার দুষ্কৃতীরা আক্রমণ করেছিল, তখন মিডিয়া ছিলো জিতেনের পাশেই।
২০২২ সালে আগরতলা কেন্দ্রের উপ নির্বাচনের প্রাক লগ্নে আক্রান্ত হয়েছিলেন কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন। তখন রাজ্যের সমস্ত অংশের সংবাদ মাধ্যম সুদীপ রায় বর্মনের পাশে দাঁড়িয়েছিল। সিপিআইএম রাজ্য সম্পাদক জিতেন্দ্র চৌধুরীকে যখন এডিসি অঞ্চলে কাঠের লগ দিয়ে মথার দুষ্কৃতীরা আক্রমণ করেছিল, তখন মিডিয়া ছিলো জিতেনের পাশেই।
বিজেপির হামলায় আক্রান্ত সুদীপের খবর ফলাও করে প্রচার করেছিল মিডিয়া।( ২০২২- র উপ নির্বাচন)
আর বিরোধীদের আক্রান্ত হওয়ার বাদবাকি খবর কভারেজ তো অন্তহীন। অকৃতজ্ঞের মতো বামগ্রেসের প্রথম সারির নেতারা সবই ভুল গিয়েছেন। তাই আজ কংগ্রেস – সিপিআইএম মিত্র শক্তি নিশ্চুপ! তাদের কি রাজ্যের বৃহৎ অংশের মিডিয়ার প্রয়োজন নেই? প্রশ্ন রাজ্যের শহর থেকে সমতল, গ্রাম থেকে পাহাড়, সমস্ত জায়গার সাংবাদিকদের।