বৃহস্পতিবার রাতে গোটা শহরে ছিলো পুলিশ – টিএসআরে ছয়লাপ। ভিআইপি রোড সহ রাজধানীর রাজপথে দেড় – দুইশ মিটার দূরত্বের ব্যবধানে মোতায়েন ছিলো টিএসআর। তারপরও কিভাবে সার্কিট হাউসে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে থাকা মূল সড়কের গেটে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি পেট বরাবর কেটে দিয়েছে দুষ্কৃতীরা? কে তাদেরকে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি কেটে দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন?

ডেস্ক রিপোর্টার,২০ ফেব্রুয়ারি।।
            ছিঃ ছিঃ, লজ্জা। প্রদেশ বিজেপির সংসারে ফের আগুন।আবারো স্বদলীয় নেতাদের রুদ্ররোষে রাজপথে থাকা মুখ্যমন্ত্রীর ছবি! ঘটনা কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের রাজ্য সফরের আগের রাতে। ঘটনাস্থল শহরের  হাই-সিকিউরিটি জোন সার্কিট হাউসে। দুষ্কৃতীরা পুলিশি নিষ্ক্রিয়তার সুযোগ নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে স্বাগত জানানোর জন্য তৈরী গেটে লাগালো মুখ্যমন্ত্রীর ছবি ছিঁড়ে দিয়েছে। রাতের আগরতলায় হাই-সিকিউরিটি জোনে মুখ্যমন্ত্রী ছবি ছিঁড়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রশ্নের মুখে শহরের এনসিসি থানার পুলিশের ভূমিকা। এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত দুষ্কৃতীদের গ্রেফতার তো দূরের কথা, তাদের এখনো সনাক্ত করতে পারে নি এনসিসি থানার তোলাবাজ ওসি প্রাজিত মালাকার। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের রাজ্য সফরের প্রাক লগ্নে কে বা কারা মুখ্যমন্ত্রীর ছবি ছিঁড়েছে? তা নিয়ে ৬- আগরতলা বিধানসভা কেন্দ্রে বিজেপির অন্দরে বইছে প্রবল সুনামি। বিজেপির এক গোষ্ঠী ঢিল ছুঁড়ছে অপর গোষ্ঠীর দিকে। মাঝখান থেকে ৬- আগরতলা কেন্দ্রের বিজেপির অন্দরে এই তমসা দেখে হাত তালি দিচ্ছেন কংগ্রেস বিধায়ক সুদীপ রায় বর্মন। এটাই তো স্বাভাবিক।
                

নরেন্দ্র মোদী – অমিত শাহের ছবিতে স্পর্শ করে নি দুষ্কৃতীরা।

“সিন অফ ক্রাইম” থেকে স্পষ্ট, ষড়যন্ত্রকারীদের টার্গেটেই ছিলো “মুখ্যমন্ত্রীর ছবি।”

কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহকে স্বাগত জানানোর জন্য সার্কিট হাউসের ভিআইপি রোডে বেশ কয়েকটি গেট তৈরী করা হয়েছে। প্রতিটি গেটে দেশের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ ও মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহার ছবি লাগানো হয়েছে।  বৃহস্পতিবার রাতে সংশ্লিষ্ট গেট গুলিতে থাকা মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহার ছবি তাঁর পেট বরাবর কেটে দিয়েছে দুষ্কৃতীরা। “সিন অফ ক্রাইম” থেকে স্পষ্ট ষড়যন্ত্রকারীদের টার্গেটেই ছিলো  “মুখ্যমন্ত্রীর ছবি”।   তাতে কোনো রকমের সন্দেহ নেই। 

মুখ্যমন্ত্রীর ছবিতে কেঁটে দেওয়া হয়েছে পেট।

দুষ্কৃতীরা স্বদলীয়।তাই তারা জেনে বুঝেই মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহার ছবি ছিঁড়ে দিয়েছে।

শহরের হাই – সিকিউরিটি জোনে রাতের আলোতে যদি কোনো মানসিক ভারসাম্যহীন লোকজন এই ঘটনা সংঘটিত করতো, তাহলে শুধু মুখ্যমন্ত্রীর ছবি কেন? সঙ্গে থাকা প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রীর ছবিও ছিঁড়ে ফেলত। কিন্তু তা হয় নি।  বিরোধী সিপিআইএম বা কংগ্রেস এই কাজ করার সাহস করবে না। যদি তারা করতো, তাহলে প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ছবিও আনাম থাকতো না।স্পষ্ট ষড়যন্ত্রকারীদের উদ্দেশ্য ছিলো খোদ মুখ্যমন্ত্রীর বিরুদ্ধে জিহাদ ঘোষণা এবং তাঁকে অবমাননা করা। এবং তারা স্বদলীয়।তাই দুষ্কৃতীরা জেনে বুঝেই মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহার ছবি ছিঁড়ে দিয়েছে।


কোথায় ছিলো এনসিসি থানার তোলাবাজ ওসি প্রাজিত মালাকারের নেতৃত্বাধীন পুলিশ?

ভর রাজপথে হাই – সিকিউরিটি জোনে দুষ্কৃতীরা  তাদের কাজ করেছে নিরাপদে। তখন কোথায় ছিলো এনসিসি থানার তোলাবাজ ওসি প্রাজিত মালাকারের নেতৃত্বাধীন পুলিশ? বৃহস্পতিবার রাতে গোটা শহরে ছিলো পুলিশ – টিএসআরে ছয়লাপ। ভিআইপি রোড সহ রাজধানীর রাজপথে দেড় – দুইশ মিটার দূরত্বের ব্যবধানে মোতায়েন ছিলো টিএসআর। তারপরও কিভাবে সার্কিট হাউসে গান্ধী মূর্তির পাদদেশে থাকা মূল সড়কের গেটে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি পেট বরাবর কেটে দিয়েছে দুষ্কৃতীরা? কে তাদেরকে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি কেটে দেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন? সার্কিট হাউসের মূল সড়কে থাকা অস্থায়ী গেটের পাশে আছে সিসি ক্যামেরা ( সরকারী)। তার উল্টো দিকে হোটেল পোলো টাওয়ারের সিসি ক্যামেরা। তারপরও কেন এনসিসি থানার তোলাবাজ ওসি প্রাজিত মালাকার এখনো দুষ্কৃতীদের সনাক্ত করতে পারেন নি? বা রাতের রাজপথে থানার পুলিশ – টিএসআর থাকা সত্ত্বেও দুষ্কৃতীরা কিভাবে মুখ্যমন্ত্রীর ছবি কেটে দেওয়ার দুঃসাহস করেছে? অভিযোগের আঙুল উঠছে খোদ এনসিসি থানার ওসি প্রাজিত মালাকারের দিকে।
    


“ষড়যন্ত্রকারীদের তৈরী করা ব্লু  প্রিন্টে জড়িত ওসি প্রাজিত মালাকার নিজেও। সে-ই দুষ্কৃতীদের মুখ্যমন্ত্রীর ছবি কেটে দিতে সাহায্য করেছে।”

রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর অনুগামীদের বক্তব্য,  “ষড়যন্ত্রকারীদের তৈরী করা ব্লু  প্রিন্টে জড়িত ওসি প্রাজিত মালাকার নিজেও। সে-ই দুষ্কৃতীদের মুখ্যমন্ত্রীর ছবি কেটে দিতে সাহায্য করেছে।” মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্টদের অভিযোগ, দুর্নীতিবাজ ওসি প্রাজিত মালাকারের ছায়া হিসাবে কাজ করছেন আইজি কৃষ্ণেন্দু চক্রবর্তী! প্রাজিতের সমস্ত অপকর্ম সম্পর্কে ওয়াকিবহাল কৃষ্ণেন্দু। তারপরও দুর্নীতিবাজ – কমিশন বাণিজ্যের সর্দার ওসি প্রাজিৎ মালাকারের প্রতি এতো ‘অপত্য স্নেহ’ কেন আইজি কৃষ্ণেন্দু চক্রবর্তীর? দুইজনের মধ্যে টু – পাইস আদান – প্রদানের গন্ধ পাচ্ছেন মুখ্যমন্ত্রীর লোকজন!
  

।আইজি কৃষ্ণেন্দু চক্রবর্তী।

মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ লোকজনের ব্যাখা, এই মুহূর্তে আইজি কৃষ্ণেন্দু চক্রবর্তীর “লিটমাস টেস্ট” করা উচিত।

তাদের স্পষ্ট বক্তব্য, ” রাজ্য পুলিশের অতীতের বাম ক্যাডার কৃষ্ণেন্দু চক্রবর্তী, এখন  নিষ্কলুষ মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহার ভাবের ঘরে চুটিয়ে চুরি করছেন!” মুখ্যমন্ত্রীর উচিত দ্রুত সতর্কতা অবলম্বন করা। নয় তো আইজি কৃষ্ণেন্দু চক্রবর্তীই নাক করবেন খোদ মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহার! ‘ অবশ্যই সেই দিন’  বেশী দূরে নেই।
  

এনসিসি থানার তোলাবাজ ওসি প্রাজিৎ মালাকার।

মুখ্যমন্ত্রীর ঘনিষ্ঠ লোকজনের ব্যাখা, এই মুহূর্তে আইজি কৃষ্ণেন্দু চক্রবর্তীর “লিটমাস টেস্ট” করলেই নাকি মুখ্যমন্ত্রী তাঁর সম্পর্কে পেয়ে যাবেন স্পষ্ট রিপোর্ট। মহামান্য আইজি কৃষ্ণেন্দু সাহেবের অম্লতা ( Acidic) বা ক্ষারীয় ( Basic) কতটা?


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *