সরকার প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে তেলের দাম ঠিক রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু কিছু অসাধু চক্রের কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চলছে। এমনকি সীমান্ত দিয়ে তেল পাচারের অভিযোগও পাওয়া গেছে। এসব বন্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিরুনি অভিযান ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।

                         #সমীরণ রায়#
                   _________________
 

ঢাকা, ২৯মার্চ ।। বাংলাদেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে। এরপরও কৃত্রিম সংকট সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে চিরুনি অভিযান চালাতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এ বিষয়ে সংসদ সদস্যদের নিজ নিজ এলাকায় সতর্ক থাকার আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার সংসদ ভবনে ক্ষমতাসীন দলীয় সংসদীয় কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি।
চিফ হুইপ জানান, ইরানসহ মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতির কারণে বিশ্ববাজারে তেলের দাম বাড়লেও বাংলাদেশে তা নিয়ন্ত্রণের সর্বোচ্চ চেষ্টা করছে সরকার। দেশে বর্তমানে জ্বালানি তেলের কোনো ঘাটতি নেই। ইতোমধ্যে ২ লাখ মেট্রিক টনের জাহাজ বন্দরে ভিড়েছে এবং আরও ২ লাখ মেট্রিক টন আসার পথে রয়েছে।
সরকার প্রতি মাসে প্রায় ২০০ কোটি টাকা ভর্তুকি দিয়ে তেলের দাম ঠিক রাখার চেষ্টা করছে। কিন্তু কিছু অসাধু চক্রের কারণে কৃত্রিম সংকট তৈরির চেষ্টা চলছে। এমনকি সীমান্ত দিয়ে তেল পাচারের অভিযোগও পাওয়া গেছে। এসব বন্ধে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে চিরুনি অভিযান ও কঠোর ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রী জেলা ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ করতে এমপিদের নির্দেশনা আছে। বিশেষ করে কেউ যাতে অপ্রয়োজনে অতিরিক্ত তেল মজুত করতে না পারে এবং তেলের দাম যেন কোথাও না বাড়ে, সেদিকে নজর রাখতে বলা হয়েছে। ২৯ মার্চ সংসদ অধিবেশনে এ বিষয়ে ৩০০ বিধিতে জ্বালানি মন্ত্রীর বিস্তারিত বক্তব্য রাখার কথা রয়েছে।
চিফ হুইপ বলেন, বাংলাদেশে এই প্রথম প্রধানমন্ত্রী মন্ত্রীদের বাধ্য করেছেন সংসদ সদস্যদের বিস্তারিত তথ্য দিয়ে অবহিত করতে, যাতে তারা এলাকাভিত্তিক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারেন। এখন থেকে প্রতি মাসে এ ধরনের ব্রিফিংয়ের ব্যবস্থা করা হবে বলেও তিনি জানান।
সংসদ শুরুর আগে রেওয়াজ অনুযায়ী বৈঠক হয়েছে। দীর্ঘ বিরতির পর সংসদ বসবে সে কারণে আলোচনা হয়েছে। যুদ্ধ চলছে, সমগ্র বিশ্ব টালমাটাল। কিন্তু বাংলাদেশে তেলের দাম বৃদ্ধি করা হয়নি। ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানি সরবরাহ চলছে। সরবরাহের ঘাটতি নেই। প্যানিক না হওয়ার আহবান। ২ লাখ মেট্রিকটন তেলবাহি জাহাজ ইতোমধ্যে পৌঁছেছে। আরও দুই লাখ মেট্রিকটন লোড হচ্ছে। পর্যাপ্ত মজুদ আছে। কৃত্রিম সংকট তৈরী করা হচ্ছে। প্রত্যেক সাংসদদের এ বিষয়ে খোঁজ রাখার নির্দেশনা। সবাইকে বিষয়ে সচেতন থাকার আহবান। যারা প্রয়োজনের অতিরিক্ত তেল মজুত করছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করবে সরকার।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *