প্রকাশ্যে মাইক নিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রাম প্রসাদ পাল হুমকি দিয়েছেন রাজ্যের কোনো মুখিয়া সাংবাদিক শানিত দেবরায়কে রক্ষা করতে পারবে না। তারপরেও এডি নগর থানা এখন পর্যন্ত এই হুমকির বিরুদ্ধে শানিত দেবরায়ের দাখিল করা এফআইআর নথিভুক্ত করেনি। ৪৮ ঘন্টা অতিক্রান্ত।

ডেস্ক রিপোর্টার,১৬ ফেব্রুয়ারি।।
          মুখে মারিতং জগৎ। কাজের বেলায় অষ্টরম্ভা। ভাষণবাজিতে আইনের শাসন। অথচ আরএনআই ভুক্ত রাজ্যের প্রভাতী দৈনিকের সম্পাদকের এফআইআর দীর্ঘ ৪৮ ঘণ্টা অতিক্রম হওয়ার পরেও নথিভুক্ত করেনি আরক্ষা প্রশাসন। একইভাবে এক টিভি মিডিয়ার সম্পাদকের দায়ের করা ছয় ছয় টি মামলাও আমলে নেয়নি পুলিশ। এ কোন ধরনের আইনের শাসন? জবাব দেবে কি রাজ্যের আরক্ষা প্রশাসনের দণ্ডমুণ্ডের কর্তারা?

Table of Contents

রাজ্য বিধানসভার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হলেই কি বিধায়ক রাম প্রসাদ পাল আইনের উর্ধ্বে?

রাজ্য বিধানসভার ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ হলেই কি বিধায়ক রাম প্রসাদ পাল আইনের উর্ধ্বে? তিনি ইচ্ছা করলেই, কি যা খুশি বলতে পারেন? যাকে খুশি তাকে হুমকি দিতে পারেন? ভারতের সংবিধান কি এই অধিকার কাউকে দিয়েছে? প্রকাশ্যে মাইক নিয়ে ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ রাম প্রসাদ পাল হুমকি দিয়েছেন রাজ্যের কোনো মুখিয়া সাংবাদিক শানিত দেবরায়কে রক্ষা করতে পারবে না।


একজন সাংবাদিক সম্পাদকের বাড়ির সামনে বিধানসভার অধ্যক্ষ রাম প্রসাদ পাল স্ব-শরীরে উপস্থিত থেকে জমায়েত করে হুমকি দিয়েছেন।

তারপরেও এডি নগর থানা এখন পর্যন্ত এই হুমকির বিরুদ্ধে শানিত দেবরায়ের দাখিল করা এফআইআর নথিভুক্ত করেনি। ৪৮ ঘন্টা অতিক্রান্ত। একজন সাংবাদিক সম্পাদকের বাড়ির সামনে বিধানসভার অধ্যক্ষ রাম প্রসাদ পাল স্ব-শরীরে উপস্থিত থেকে জমায়েত করে হুমকি দিয়েছেন।এই ঘটনা ভূ – ভারতে নজিরবিহীন। তারপরেও থানা এফআইআর গ্রহণ করেনি অধ্যক্ষের পা চাটা শহরের অরুন্ধতী নগর থানার পুলিশ।
  


সাংবাদিক সম্পাদকের ছবির উপর ক্রস চিহ্ন ( লাল কালি)দিয়ে ফিল্মি কায়দায় মাফিয়া ডনের স্টাইলে শানিত দেবরায়কে কুতল করার ইঙ্গিত দিয়ে পোস্টার লাগানো হয়েছিলো অধ্যক্ষের বিক্ষোভ সভায় থাকা গাড়ি গুলিতে। তারপরেও করিৎকর্মা থানা বাবুরা এখনো এফআইআর নথিভুক্ত করেনি।


“কোন পাসপোর্টে জেনেভা গিয়েছিলেন একবার বলবেন কি? যদি ভারতীয় পাসপোর্ট জেনেভা গিয়ে থাকেন তাহলে সেই পাসপোর্টটা একবার যদি দেখিয়ে দেন।”

একই ঘটনা শাসক-শরিক এক উগ্র-বিধায়কের ক্ষেত্রেও। একটি টিভি মিডিয়া সংবাদ সম্প্রচার করেছে, “উগ্র বিধায়কের বাংলাদেশীয় নাগরিকত্ব রয়েছে।” এই সংবাদ যদি ভুল হয়ে থাকে তাহলে এর প্রতিবাদ করুক কিংবা আইনি ব্যবস্থা নিক। কিন্তু প্রতিবাদ করার নামে ওই টিভি মিডিয়ার সম্পাদকের বিরুদ্ধে কুৎসা রটাচ্ছেন সেই উগ্র-বিধায়ক। এই বিধায়কের কাছে একটি প্রশ্ন – “আপনি কোন পাসপোর্টে জেনেভা গিয়েছিলেন একবার বলবেন কি? যদি ভারতীয় পাসপোর্ট জেনেভা গিয়ে থাকেন তাহলে সেই পাসপোর্টটা একবার যদি দেখিয়ে দেন, তাহলেই তো সমস্ত বিতর্কের অবসান হয়ে যায়। তা না করে খমুখা বাজার গরম করছেন কেন?”  একজন সম্পাদকের বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়ে বিধায়ক পদের অবশিষ্টাংশকেও তো কালিমালিপ্ত করছেন।    
            

প্রতীকী ছবি।

বিধায়করা গণ ভোটে নির্বাচিত  হলেও যা খুশি তা করতে পারেন না। তারাও আইনের বৃত্তের বাইরে নয়।

বিধায়করা গণ ভোটে নির্বাচিত  হলেও যা খুশি তা করতে পারেন না। তারাও আইনের বৃত্তের বাইরে নয়।কিন্তু দুর্ভাগ্যের হলেও সত্যি আইনের রক্ষাকর্তারা তো জনগণের পয়সায় বেতন নিলেও তাবেদারি করে দুর্নীতিবাজ নেতাদের। এক্ষেত্রেও ব্যতিক্রম ঘটেনি। টিভি মিডিয়ার সম্পাদক ছয় ছয়টি মামলা করলেও একটি মামলাও নথিভুক্ত করেনি আরক্ষা প্রশাসনের পুলিশবাবুরা। সম্প্রতি এই সমস্ত ঘটনা নিয়ে সাংবাদিকদের প্রতিনিধি দল সাক্ষাৎ করেছিল।

ডিজিপির দেওয়া বিবৃতির সারমর্ম ছিল, “ধরি মাছ, না ছুই পানি গোছের”।

রাজ্য পুলিশের মহা নির্দেশকের সঙ্গে। তখন ডিজিপি  অনুরাগ প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেছিলেন,” অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে পুলিশ ব্যবস্থা নেবে।”  কিন্তু ঘটনার ৪৮ ঘণ্টা পেরিয়ে যাবার পরেও নিজের দেওয়া প্রতিশ্রুতি রাখতে পারেন নি পুলিশ মহানির্দেশক।” সাংবাদিকদের ডেপুটেশনের পর ডিজিপি অনুরাগ একটি বিবৃতি দিয়েছিলেন। মূলত তাঁর দেওয়া বিবৃতির সারমর্ম ছিল, “ধরি মাছ না ছুই পানি গোছের”।

।ডিজিপি অনুরাগ ধ্যানকর।

কথায় আছে, যারা অতীত ভুলে, তাদের মতিভ্রম হয়। রাজ্য প্রশাসন কি তাহলে সেই দিকেই এগোচ্ছে? জনমনে উঠছে এই প্রশ্ন।

গণতন্ত্রের চতুর্থ স্তম্ভের কাছে যখন আইনের শাসন ধোঁয়াশা সৃষ্টি করে, তখন সাধারণ মানুষের কাছে আইনের শাসন কতখানি কার্যকরী তা সহজেই অনুমেয়। মুখে মুখে আইনের শাসনের বুলি! কাজের বেলায় অষ্টরম্ভা। তবে কথায় আছে, যারা অতীত ভুলে, তাদের মতিভ্রম হয়। রাজ্য প্রশাসন কি তাহলে সেই দিকেই এগোচ্ছে? জনমনে উঠছে এই প্রশ্ন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *