#ঢাকা থেকে সমীরণ রায়#
                  ____________________

শনিবার বিকালে হঠাৎ করেই বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকার মোড়ে পুলিশ সদস্যদের বাড়তি উপস্থিতি দেখা যায়। রায়ট গিয়ার, হেলমেট, বডি আর্মারসহ পূর্ণ প্রস্তুতিতে তারা অবস্থান করছিলেন। এ সময় সড়কে পথচারীদের কাউকে সন্দেহ হলে তাদেরকে থামিয়ে সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশিসহ জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখা গেছে। সন্দেহজনক যানবাহন থামিয়েও তল্লাশি করছিলেন তারা।

               আগামী ১৩ নভেম্বর আওয়ামী লীগের বাংলাদেশের ঢাকায় লকডাউন ঘোষণাকে সামনে রেখে  রাজধানীর গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পুলিশের বাড়তি উপস্থিতি দেখা গেছে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যেও প্রশ্ন নানা ধরনের প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। অবশ্য, এটি কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রস্তুতি কিনা জানতে চাইলে পুলিশের ভাষ্য, এটি তাদের ‘নিয়মিত নিরাপত্তা মহড়ার’ অংশ।
শনিবার বিকালে হঠাৎ করেই বাংলাদেশের রাজধানী ঢাকার বিভিন্ন এলাকার মোড়ে পুলিশ সদস্যদের বাড়তি উপস্থিতি দেখা যায়। রায়ট গিয়ার, হেলমেট, বডি আর্মারসহ পূর্ণ প্রস্তুতিতে তারা অবস্থান করছিলেন। এ সময় সড়কে পথচারীদের কাউকে সন্দেহ হলে তাদেরকে থামিয়ে সঙ্গে থাকা ব্যাগ তল্লাশিসহ জিজ্ঞাসাবাদ করতে দেখা গেছে। সন্দেহজনক যানবাহন থামিয়েও তল্লাশি করছিলেন তারা।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকার এক থানার ওসি বলেন, ডিএমপি হেডকোয়ার্টার থেকে বিকাল ৪টা থেকে ৫টা পর্যন্ত আমাদের ডিসপ্লে করার নির্দেশনা রয়েছে। এটি সারা ঢাকাতে সব থানা এলাকাতেই চলছে, এরসঙ্গে অন্যকিছুর সম্পৃক্ততা নেই।
ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গণমাধ্যম ও জনসংযোগ বিভাগের উপকমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, এটা আমাদের নিয়মিত নিরাপত্তা মহড়া; ফোর্স মোবিলাইজেশনের একটা অংশ, যা নিয়মিতই হয়ে থাকে।
কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকির প্রস্তুতি কিনা জানতে চাইলে তিনি বলেন, না, কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি নেই, এটা আমাদের নিয়মিত নিরাপত্তা মহড়ার অংশ।
ঢাকার ফার্মগেট এলাকায় পুলিশের তল্লাশির মুখে পড়া একজন বলেন, আমি মোটরসাইকেলে করে বেশকিছু বইসহ মহাখালীর দিকে যাচ্ছিলাম। এ সময় পুলিশ আমার মোটর সাইকেল থামিয়ে ব্যাগে কী আছে জিজ্ঞাসা করেছে এবং ব্যাগ খুলে বইগুলো দেখেছে। সাধারণত কোনো জরুরি অবস্থা মোকাবেলার জন্য বাহিনীকে একত্রিত করা, প্রস্তুত করা এবং মোতায়েন করার প্রক্রিয়াকে ‘ফোর্স মোবিলাইজেশন’ বলা হয়। এ প্রক্রিয়ায় রিজার্ভ বাহিনীকে সক্রিয় করা, জনবল ও সরঞ্জাম জরুরি অবস্থার জন্য প্রস্তুত করাসহ বিভিন্ন কার্যক্রম অন্তর্ভুক্ত থাকতে পারে।
ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে প্রায়ই ঝটিকা মিছিল বের করছে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের কর্মীরা। সম্প্রতি ভারতে অবস্থান করা আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক ১৩ নভেম্বর ‘লকডাউনের’ মতো কর্মসূচি পালনের ঘোষণা দিয়েছেন। এমন প্রেক্ষাপটে পুলিশের এই তৎপরতা কিনা জানতে চাইলে পুলিশের কোনো সদস্যই স্বীকার করেননি।
তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, নিয়মিত মিছিলসহ বিভিন্নস্থানে ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনার সঙ্গে আগামী ১৩ নভেম্বর নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ কর্মসূচি ঘোষণা করেছে। সবকিছু মিলিয়ে নিয়মিত তৎপরতার অংশ হিসেবেই পুলিশের এই নিয়মিত তৎপরতা।
গত শুক্রবার রাতে ঢাকার ধানমন্ডিতে মশাল মিছিল করে আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গসংগঠনের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মী। এসময় কয়েকটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনাও ঘটে। এ সময় মিছিল থেকে সুজিত রঞ্জন সরকার নামে একজনকে আটকের কথা জানিয়েছে ধানমন্ডি থানা পুলিশ। এর কয়েক ঘণ্টা পর রাত পৌনে ১১টার দিকে কাকরাইলের সেন্ট মেরিস ক্যাথেড্রাল চার্চের ফটকে একটি হাতবোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
রাজধানী ঢাকার কাকরাইলে গির্জার ফটকের স্টিলের পাতে বোমাটি বিস্ফোরিত হয়, পরে গির্জার ভেতর থেকে অবিস্ফোরিত অবস্থায় আরেকটি হাতবোমা উদ্ধার করে পুলিশ।
শনিবার ওই চার্চের সামনে গিয়ে দেখা যায়, বেশ কয়েকজন পুলিশ প্রধান ফটকের সামনে দায়িত্ব পালন করছেন। চার্চের স্বাভাবিক কার্যক্রম চলছে এবং এ নিয়ে কোনো ‘সমস্যা নেই’ বলে জানিয়েছেন রমনা থানার এএসআই নাজমূল হুদা।
হামলার বিষয়ে ঢাকার রমনা বিভাগের উপ কমিশনার মাসুদ আলম বলেন, একটি মোটরসাইকেলে দুইজন এসে ককটেল দুইটি ছুড়ে মারে, এমন প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ মিলেছে। তবে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। তাদের শনাক্তের চেষ্টা চলছে, কী উদ্দেশ্যে এই হামলা, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *