“ধর্মনগরে একটি আধুনিক ইনডোর স্টেডিয়ামের দাবি দীর্ঘদিনের ছিল। পূর্ববর্তী সরকারগুলির সময় এই প্রকল্প থমকে থাকলেও বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর একে অগ্রাধিকার দিয়ে সম্পন্ন করেছে। তবে পুরনো নকশায় কাজ শুরু হওয়ায় গ্যালারির আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে।” : মন্ত্রী
স্পোর্টস ডেস্ক,২৫ জানুয়ারি।।
ধর্মনগর তথা উত্তর জেলার ক্রীড়া প্রেমীদের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান হলো। ধর্মনগর স্পোর্টস কমপ্লেক্স সংলগ্ন এলাকায় নবনির্মিত ব্যাডমিন্টন ও জুডো ইনডোর হলের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হলো। ১ কোটি ৩৩ লক্ষ টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই আধুনিক ক্রীড়া পরিকাঠামোটি উৎসর্গ করা হয়েছে ত্রিপুরার কৃতি ব্যাডমিন্টন খেলোয়াড় গৌরীশেখর রায়ের স্মৃতির উদ্দেশে। রবিবার এক বর্ণাঢ্য অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই ইনডোর হলের দ্বারোদঘাটন করেন রাজ্যের যুব বিষয়ক ও ক্রীড়া দপ্তরের মন্ত্রী টিংকু রায়। এদিনের অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন উত্তর জেলার জেলাশাসক চাঁদনী চন্দন, জেলা পুলিশ সুপার অবিনাশ কুমার রাই, ওয়াইএএস-এর এল ডারলং এবং জেলা পরিষদের সহকারী সভাধিপতি ভবতোষ দাস সহ বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ। বৃক্ষে জলসঞ্চয় এবং তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের উদ্বোধনী সংগীতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সূচনা হয়। এরপর প্রথা মেনে নারকেল ফাটিয়ে ও ফিতা কেটে হলটির উদ্বোধন করেন মন্ত্রী টিঙ্কু রায়। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ছাত্রছাত্রীদের আকর্ষণীয় জুডো ও থাংতা প্রদর্শনী উপস্থিত দর্শকদের নজর কেড়েছে।
প্রধান অতিথির ভাষণে মন্ত্রী টিংকু রায় বলেন, “ধর্মনগরে একটি আধুনিক ইনডোর স্টেডিয়ামের দাবি দীর্ঘদিনের ছিল। পূর্ববর্তী সরকারগুলির সময় এই প্রকল্প থমকে থাকলেও বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর একে অগ্রাধিকার দিয়ে সম্পন্ন করেছে। তবে পুরনো নকশায় কাজ শুরু হওয়ায় গ্যালারির আসন সংখ্যা বৃদ্ধি করার ক্ষেত্রে কিছু সীমাবদ্ধতা রয়ে গেছে।”
মন্ত্রীর বক্তব্য, খেলাধুলার প্রসারে ধর্মনগরের দীননাথ নারায়ণী বিদ্যামন্দির মাঠে একটি ক্রিকেট স্টেডিয়াম নির্মাণের পরিকল্পনাও সরকারের সক্রিয় বিবেচনাধীন রয়েছে।
স্বাগত ভাষণে এল ডারলং এই ইনডোর হলের বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরেন। স্থানীয় ক্রীড়ামোদীদের মতে, এই নতুন হলের ফলে অঞ্চলের উদীয়মান খেলোয়াড়রা জাতীয় স্তরে সাফল্যের জন্য প্রয়োজনীয় উন্নত প্রশিক্ষণের সুযোগ পাবে। তবে এদিনের অনুষ্ঠানে অব্যবস্থাপনার একটি বিচ্ছিন্ন চিত্রও নজরে এসেছে। সাংবাদিকদের জন্য সংরক্ষিত আসনগুলি সাধারণ মানুষের দখলে চলে যায় । সংবাদকর্মীদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে কিছুটা অসুবিধার সম্মুখীন হতে হয়। তা নিয়ে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে সাময়িক অসন্তোষ দেখা দেয়।
সামগ্রিকভাবে, টিআইডিসি (TIDC) দপ্তরের উদ্যোগে নির্মিত এই ইনডোর হলটি উত্তর জেলার ক্রীড়া মানচিত্রে এক মাইলফলক হয়ে থাকবে বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।

