বাংলাদেশে নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’কে বিবেচনায় রাখা হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার নতুন কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠার অপেক্ষায়।দেশের জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে।

                            #সমীরণ রায়#
                           ______________

দীর্ঘ রাজনৈতিক প্রতিক্ষার অবসান ঘটিয়ে দুই তৃতীয়াংশ আসন পেয়ে দেশের শাসনভার গ্রহণ করতে যাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। বাংলাদেশে মঙ্গলবার বিকেলে নতুন মন্ত্রিসভার শপথ অনুষ্ঠিত হবে। হবু মন্ত্রিসভার জন্য ইতোমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে ৪০টি সরকারি বাসভবন ও ৫০টি বিলাসবহুল গাড়ি।
নতুন প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন ‘যমুনা’কে বিবেচনায় রাখা হয়েছে, যা রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার নতুন কেন্দ্রবিন্দু হয়ে ওঠার অপেক্ষায়। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজা থেকে বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকার যাত্রা শুরু করতে যাচ্ছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় সংসদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। একই স্থানে বিকেল ৪টায় শপথ নেবে নতুন সরকারের মন্ত্রিসভা।
নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের জন্য ঢাকার বেইলি রোড, গুলশান, ধানমন্ডি এবং মিন্টো রোড এলাকায় প্রায় ৪০টি বাসভবন প্রস্তুত রাখা হয়েছে। গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সংস্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, আগের সরকারের আমলের মন্ত্রী ও বর্তমান উপদেষ্টারা যেসব বাসভবন ছেড়ে দিয়েছেন, সেগুলো মিলিয়ে ৪০টি বাসভবন এখনই ওঠার মতো অবস্থায় রয়েছে। এগুলো আগের মন্ত্রীদের জন্য বরাদ্দ দেওয়া ছিল। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের কয়েকজন উপদেষ্টা কয়েকটি বাড়ি ব্যবহার করেছেন, আবার অনেকগুলো বর্তমানে ফাঁকা আছে। মন্ত্রীদের আবাসন নিয়ে আপাতত কোনো সমস্যা হবে না। বর্তমানে ৪০টি বাড়ি প্রস্তুত থাকলেও নতুন সরকারের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে এই সংখ্যা আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।


নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী কোথায় থাকবেন, সে বিষয়ে এখনো সুনির্দিষ্ট কোনো সরকারি নির্দেশনা আসেনি বলে জানিয়েছেন গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তারা জানান, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বর্তমান বাসভবন ‘যমুনা’ নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রাথমিকভাবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে। এছাড়া স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন একীভূত করে প্রধানমন্ত্রীর স্থায়ী বাসভবন করার বিষয়ে আগের একটি কমিটির সুপারিশ থাকলেও সেটা করা হবে না। প্রধানমন্ত্রীর আবাসনের বিষয়ে আগাম কোনো সুনির্দিষ্ট প্রস্তুতি নেই। তিনি কোথায় থাকবেন, তা সম্পূর্ণ তার ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। বর্তমানে তাৎক্ষণিক ব্যবহারের উপযোগী হিসেবে একমাত্র ‘যমুনা’ প্রস্তুত আছে। তিনি যদি সেখানে থাকার সিদ্ধান্ত নেন, তাহলে প্রধান উপদেষ্টা বাসভবনটি ছাড়ার পর তাদের চূড়ান্ত প্রস্তুতির কাজ শুরু হবে। তবে নতুন প্রধানমন্ত্রী চাইলে নিজের বর্তমান বাসভবনেও থাকতে পারেন অথবা নতুন কোনো বাসভবন তৈরির নির্দেশনাও দিতে পারেন।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *