জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এখন আলোচনা শুরু হয়েছে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কবে বিদায় নেবেন এবং কোন প্রক্রিয়ায় তাকে বিদায় করা হবে তা নিয়ে। কারণ ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণ করা রাষ্ট্রপতির মেয়াদ এখনো  দুই বছরেরও বেশি সময় বাকি রয়েছে। ফলে তাকে বিদায় দেওয়ার সম্ভাব্য প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলছে নতুন সরকারের নীতিনির্ধারক মহলে।

                          #সমীরণ রায়#
                      ______________

ঢাকা ডেস্ক, ২৩ ফেব্রুয়ারি।।
           বাংলাদেশে ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিপুল বিজয় পায় বিএনপি। পরে গত ১৭ মার্চ সকালে শপথ নেন এমপিরা। পরে বিবেলে শপথ নেন মন্ত্রীরা। ফলে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন বসছে আগামী ১২ মার্চ।  ওইদিন বেলা ১১টায় রাজধানীর শেরে বাংলা নগরে অবস্থিত জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে এই অধিবেশন অনুষ্ঠিত হবে। রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অধিবেশন আহবান করেছেন বলে সোমবার জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের গণসংযোগ অধিশাখা থেকে জানানো হয়েছে।
এদিকে, জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর এখন আলোচনা শুরু হয়েছে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কবে বিদায় নেবেন এবং কোন প্রক্রিয়ায় তাকে বিদায় করা হবে তা নিয়ে। কারণ ২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল দায়িত্ব গ্রহণ করা রাষ্ট্রপতির মেয়াদ এখনো  দুই বছরেরও বেশি সময় বাকি রয়েছে। ফলে তাকে বিদায় দেওয়ার সম্ভাব্য প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা চলছে নতুন সরকারের নীতিনির্ধারক মহলে।
সংস্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনের শুরুতেই নতুন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হবে। নিয়ম অনুযায়ী সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুতে বিদায়ী স্পিকার বা তার অনুপস্থিতিতে ডেপুটি স্পিকার সভাপতি হিসেবে সংসদ পরিচালনা করে নতুন স্পিকার নির্বাচন সম্পন্ন করেন। তবে এবার স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে কে সভাপতিত্ব করবেন তা নিয়ে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হলেও এর সমাধান জাতীয় সংসদের কার্যপ্রণালী বিধিতেই রয়েছে বলে সংস্লিষ্টরা জানিয়েছেন। বিধি অনুযায়ী  স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অবর্তমানে নির্বাচিত ২৯৬ জন সংসদ সদস্যের মধ্যে প্রবীণ যেকোনো একজন সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে সভাপতিত্ব করবেন। তার সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন শুরু হবে এবং তিনিই স্পিকার নির্বাচনের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন। অধিবেশন শুরুর পর প্রথম স্পিকার নির্বাচন হওয়ার পরপরই সংসদ কিছু সময়ের জন্য মুলতবি করা হবে। স্পিকার রাষ্ট্রপতির কাছে শপথ নেওয়ার পর তার সভাপতিত্বে আবার সংসদের অধিবেশন শুরু হবে। নির্বাচিত স্পিকার তখন ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন পরিচালনা করবেন। একই সঙ্গে তিনি স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদের অধিবেশনে সভাপতিত্ব করার জন্য পাঁচ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মনোনয়ন দেবেন। ফলে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংসদের বৈঠকে সভাপতিত্ব কে করবেন তা নিয়ে কোন বিভ্রান্তি হওয়ার সুযোগ নেই।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদের স্পিকার ড. শিরীন শারমিন চৌধুরী পদত্যাগ করে আত্মগোপনে রয়েছেন। আর ডেপুটি স্পিকার অ্যাডভোকেট শামসুল হক টুকু হত্যা মামলায় জেলে রয়েছেন।
জাতীয় সংসদের সদ্য অবসরে যাওয়া পরিচালক কামরুল ইসলাম বলেন, জাতীয় সংসদ পরিচালনায় সব ক্ষেত্রেই কার্যপ্রণালী বিধি অনুসরণ করা হয়ে থাকে। কার্যপ্রণালী বিধির তৃতীয় অধ্যায়ের ১২ নম্বর বিধির ‘সভাপতিমণ্ডলী ও অস্থায়ী সভাপতি’ শিরোনামের ২ উপবিধিতে বলা আছে, ‘যদি কোনো সময় সংসদের কোনো বৈঠকে স্পিকার, ডেপুটি স্পিকার বা সভাপতিমণ্ডলীর সদস্যদের মধ্যে কেহই উপস্থিত না থাকেন, তাহা হইলে সচিব তাহা সংসদকে জানাইবেন এবং সংসদ একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে সদস্যদের মধ্য হইতে একজনকে সভাপতিত্ব করিবার জন্য নির্বাচিত করিবেন।’
সংবিধানের ৫০ (১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, রাষ্ট্রপতি পাঁচ বছরের জন্য নির্বাচিত হলেও মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে স্পিকারের কাছে স্বাক্ষরযুক্ত পত্রের মাধ্যমে পদত্যাগ করতে পারেন। অভিশংসন বা শারীরিক বা মানসিক অক্ষমতার কারণেও তিনি অপসারিত হতে পারেন। সংবিধান লঙ্ঘন বা গুরুতর অসদাচরণের জন্য সংসদের মোট সদস্যের সংখ্যাগরিষ্ঠের নোটিসে স্পিকারের মাধ্যমে রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করা যায়। এছাড়া শারীরিক বা মানসিক অসামর্থ্যের কারণেও সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে তাকে অপসারণ করা সম্ভব। বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হন। পরবর্তীতে ঐ বছরের ২৪ এপ্রিল তিনি রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ গ্রহণ করে দায়িত্ব নেন। সেই হিসেবে বর্তমান রাষ্ট্্রপতির মেয়াদ এখনো দুই বছরেরও বেশি সময় রয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *