পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের খবর সংগ্রহ করতে দেশে আসতে ইচ্ছুক ভারতীয় সাংবাদিকদের ভিসা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে সাধারণ ভিসা বন্ধ থাকবে এবং আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সেটি চালু করা সমীচীন হবে না।

                       #সমীরণ রায়#
                    ________________

ঢাকা ডেস্ক, ২৯ জানুয়ারি।।
         ঢাকায় কর্মরত ভারতীয় কর্মকর্তাদের পরিবারকে দেশে ফেরত নিলে কিছু করার নেই মন্তব্য করে অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন বলেছেন, ভারতীয় মিশন থেকে কূটনীতিকদের পরিবারের সদস্যদের ফিরিয়ে নেওয়ার কারণ খুঁজে পাচ্ছে না বাংলাদেশ সরকার। তিনি বলেন, ‘এটা তাদের একেবারে তাদের নিজস্বতা। তারা তাদের কর্মচারীদের পরিবারকে চলে যেতে বলতেই পারেন, যেকোনো সময়। কেন বলেছেন তারা আমি কোনো কারণ বুঝতে পারি না। বাংলাদেশে এমন কোনো পরিস্থিতি বিদ্যমান নেই যে, তাদের কর্মকর্তারা তাদের পরিবার-পরিজন অনেক বিপদে আছে। ইনসিডেন্ট এরকম কিছু ঘটেনি এখনও পর্যন্ত। আশঙ্কা তাদের মনে হয়তো আছে, অথবা হয়তো তারা ভাবছেন, এটা তারা কোনো মেসেজ দিতে চাচ্ছেন কিনা, হতে পারে। আমি আসলে সঠিক কোনো মেসেজ এটার মধ্যে খুঁজে পাচ্ছি না। তবে আমি এটাকে এভাবে বলবো, তারা যদি তাদের পরিবার- পরিজনকে ফেরত নিতে চান, তো এ ব্যাপারে আমাদের তো কিছু করার নেই, নিতেই পারেন।’বুধবার বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।তিনি বলেন, ‘নিরাপত্তা সার্বিকভাবে আমরা মনে করি, এখনো পর্যন্ত নিরাপত্তার তেমনভাবে কোনো বিঘ্ন ঘটেনি। আমরা যদি এর আগের দিকেও তাকাই, পূর্ববর্তী যখন নির্বাচন হতো, তখনও কিন্তু নির্বাচনকালীন সময়ে ছোটখাটো কিছু সময় কিছু মারামারি, কিছু ধাক্কাধাক্কি, এগুলো হতো সবসময়। এবার তার থেকে কোনো বেশি কিছু হয়েছে, এটা তো আমারও মনে হচ্ছে না। আপনাদের যদি কারও মনে হয়, তাহলে বলতে পারেন। আমার তো মনে হচ্ছে না, তেমন কোনো নিরাপত্তাজনক পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, যে কারণে আসলে এই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার দরকার আছে। এর আগে কখনো নেয়নি।অপর এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘তারা কোনো বিপদে আছে, এমন কথা আমাদের কখনও বলেনি।
পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, নির্বাচনের খবর সংগ্রহ করতে দেশে আসতে ইচ্ছুক ভারতীয় সাংবাদিকদের ভিসা দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তবে সাধারণ ভিসা বন্ধ থাকবে এবং আগামী কয়েকদিনের মধ্যে সেটি চালু করা সমীচীন হবে না। ‘সাংবাদিকদের আসার ব্যবস্থা মানে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে, তারা যেন আসতে পারেন সে ব্যবস্থা করার জন্য। সাধারণ ভিসা প্রসেসিং এখনও বন্ধ আছে। আমরা সময় হলে খুলবো। তবে আগামী ৮-১০ দিনের মধ্যে এটা না করাই সমীচীন হবে।বিভিন্ন দেশ থেকে পর্যবেক্ষক আসা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ব্যাপারে আমার কাছে খুব ডিটেইলস তথ্য নেই। কারণ, তথ্যটা সরাসরি চলে যায় ইলেকশন কমিশনে এবং আমরা প্রথম থেকেই এমনো বলেছি— আমরা আগ বাড়িয়ে কোনো হেল্পও করতে যাবো না। কারণ, তাহলেই মনে হবে, আমরা কোনো পক্ষ নেওয়ার চেষ্টা করছি। কোনো হেল্প লাগলে আমরা হেল্প করবো। বাকিটা নির্বাচন কমিশন যেভাবে হ্যান্ডেল করবে, তারা করবে
নির্বাচনে সংঘাতের আশঙ্কা দেখছেন কিনা, জানতে চাইলে তৌহিদ হোসেন বলেন, না আমরা মোটেই সেরকম নিশ্চিত নই। কিন্তু আশঙ্কা হচ্ছে, কোনো অপচেষ্টা হতে পারে সংঘাতের, সেটার ডিটেইলস হয়তো হোম মিনিস্ট্রির লোকজন আরও ভালো বলতে পারবেন। কিন্তু আমরা মনে করছি, যেকোনো  বিপদ বা এ ধরনের কোনো সংঘাত যদি হয়, নরমালি হওয়ার কথা না। কারণ যারা নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছেন, তারা প্রত্যেকেই তাদের কার্যকলাপে যথেষ্ট সুষমভাবে পরিচয় দিচ্ছেন। কাজেই যারা নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন না, বা নিতে পারছেন না তাদের দ্বারা গণ্ডগোল হওয়া সম্ভব। এ কারণে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এর দায় আওয়ামী লীগের।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *