২০২৪ সালের অগাস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দৃশ্যপটে ছিলেন না শিরীন শারমিন। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ধানমন্ডির ৮/এ রোডের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।
#সমীরণ রায় #
_____________
ঢাকা, ৭ এপ্রিল।।
জুলাই আন্দোলনের সময়ের আশরাফুল হত্যা চেষ্টা মামলায় প্রাক্তন স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত। এ মামলায় তাকে দুই দিন রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদের আবেদন করেছিল গোয়েন্দা পুলিশ। অন্যদিকে, শিরীন শারমিনের পক্ষে জামিনের আবেদন করেছিলেন তার আইনজীবী।
মঙ্গলবার শুনানি শেষে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আবেদন দুটি নাকচ করে শিরীন শারমিনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
২০২৪ সালের অগাস্টে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকে দৃশ্যপটে ছিলেন না শিরীন শারমিন। মঙ্গলবার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে ধানমন্ডির ৮/এ রোডের বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবি পুলিশ।
মঙ্গলবার দুপুর ২টার দিকে তাকে আদালতে হাজির করে আশরাফুল হত্যাচেষ্টা মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে দুই দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের লালবাগ জোনাল টিমের পরিদর্শক মোহসীন উদ্দীন। অন্যদিকে শিরীন শারমিনের আইনজীবী জামিনের আবেদন করেন।
আবেদনে বলা হয়, মামলার ১ নম্বর আসামি শেখ হাসিনা ও ৩ নম্বর আসামি শিরীন শারমিন চৌধুরীসহ অন্যরা রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গ্রহণে ‘কুশীলব’ ছিলেন। তাদের সিদ্ধান্ত, পরিকল্পনায় পরোক্ষ ও প্রত্যক্ষ নির্দেশে সশস্ত্র মামলার ঘটনা ঘটেছে বলে জানা গেছে। জিজ্ঞাসাবাদে আসামি তার নাম-ঠিকানা এবং মামলার তদন্ত সহায়ক গুরত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন।

তাকে আরো জিজ্ঞাসাবাদের জন্য দুই দিন রিমান্ডে নেওয়ার আর্জি জানানো হয় ওই আবেদনে।
মামলার বিবরণে বলা হয়, জুলাই আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই বিকালে আজিমপুর বাসস্ট্যান্ডে আন্দোলন চলছিল। সেখানে দেশি-বিদেশি অস্ত্র নিয়ে তাদের ওপর হামলা চালোনা হয়। একটি গুলি আশরাফুল ওরফে ফাহিমের চোখে লাগে। বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নেন তিনি। এ ঘটনায় গত বছরের ২৫ মে শেখ হাসিনাসহ ১৩০ জনের নাম উল্লেখ এবং অচেনা ১১৫-১২০ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন আশরাফুল। ২০২৪ সালের ৫ অগাস্ট শেখ হাসিনার দেশত্যাগের পরদিনই সংসদ ভেঙে দেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।
সংবিধানের নিয়ম অনুযায়ী, সংসদ ভেঙে দেওয়া হলেও স্পিকারের পদ তাৎক্ষণিভাবে শূন্য হয় না। পরবর্তী স্পিকারের শপথ পর্যন্ত তিনি দায়িত্বে থেকে যান। তবে সেই সময় পর্যন্ত অপেক্ষা না করে ২৭ দিনের মাথায় ২ সেপ্টেম্বর পদত্যাগ করেন শিরীন শারমিন। ২০০৯ সালে সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য হিসাবে জাতীয় সংসদে আসেন শিরীন। তাকে দেওয়া হয় মহিলা ও শিশু বিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্ব।
নবম সংসদের শেষ দিকে রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানের মৃত্যুর পর সেই জায়গায় আসেন তখনকার স্পিকার আবদুল হামিদ। এরপর ২০১৩ সালে ৩০ এপ্রিল বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার নির্বাচিত হন শিরীন শারমিন। তারপর থেকে তিন মেয়াদে তিনিই টানা স্পিকারের চেয়ারে ছিলেন।

