ভোটের ঠিক আগমুহূর্তে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনা নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অর্ধকোটি টাকাসহ এক জেলা নেতাকে আটক করা হয়েছে। কুমিল্লায় টাকা বিতরণের অভিযোগে আরেক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শরীয়তপুরের নড়িয়ায় এক জামায়াত নেতার বাড়ি থেকে ৭ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
#সমীরণ রায়#,
_________________
ঢাকা ডেস্ক, ১১ ফেব্রুয়ারি।।
বাংলাদেশে অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বহু প্রতীক্ষিত জাতীয় নির্বাচন। সকাল সাড়ে ৭টা থেকে বিকাল সাড়ে ৪টা পর্যন্ত টানা ভোটগ্রহণ চলবে। নির্বাচন কমিশন প্রশাসনিক প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় জোরদার ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে। তবে ভোটের ঠিক আগমুহূর্তে রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ উদ্ধারের ঘটনা নির্বাচনী পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অর্ধকোটি টাকাসহ এক জেলা নেতাকে আটক করা হয়েছে। কুমিল্লায় টাকা বিতরণের অভিযোগে আরেক নেতাকে গ্রেপ্তার করা হয়। শরীয়তপুরের নড়িয়ায় এক জামায়াত নেতার বাড়ি থেকে ৭ লক্ষ টাকা উদ্ধার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।

নারায়ণগঞ্জেও এক নেতাকে আটকের খবর মিলেছে। এছাড়া মাদারীপুর ও বগুড়ায় টাকা বিতরণের সময় জামায়াতের নেতা-কর্মীদের আটক করার তথ্য জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন। এসব ঘটনায় ভোটের মাঠে অর্থের সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে আলোচনা তীব্র হয়েছে।
অভিযোগ উঠছে, কিছু এলাকায় ভোটের আগে নগদ অর্থের ছড়াছড়ি চলছে। যদিও সংশ্লিষ্ট নেতারা অভিযোগ অস্বীকার করেছেন, প্রশাসনের বক্তব্য, নির্বাচনকে প্রভাবিত করতে পারে এমন যেকোনো আর্থিক লেনদেন কঠোর নজরদারিতে রয়েছে এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। নির্বাচনের প্রাক্কালে একের পর এক এমন ঘটনায় স্বচ্ছ ও প্রভাবমুক্ত ভোট আয়োজন নিয়ে জনমনে নতুন করে প্রশ্ন জোরালো হচ্ছে। নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের মতে, ভোটের সুষ্ঠু পরিবেশ বজায় রাখতে হলে অর্থের অবাধ প্রবাহ বন্ধ করা জরুরি। সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা, এই নির্বাচন হবে শান্তিপূর্ণ, স্বচ্ছ এবং প্রভাবমুক্ত। এখন দেখার বিষয়, অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের মাঝেও কতটা নিরপেক্ষভাবে ভোট প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে পারে কর্তৃপক্ষ।
ভোটের ঠিক আগমুহূর্তে দেশের বিভিন্ন স্থানে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর একাধিক শীর্ষ নেতাকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দর-এ অর্ধকোটি টাকাসহ জেলা জামায়াতের আমিরকে আটক করার ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই কুমিল্লায় টাকা বিতরণের অভিযোগে আরও এক নেতাকে আটকের খবর পাওয়া গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা জানিয়েছেন, নির্বাচনের প্রাক্কালে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
উদ্ধার হওয়া অর্থের উৎস, উদ্দেশ্য এবং সম্ভাব্য ব্যবহার নিয়ে তদন্ত চলছে। বিশেষ করে ভোটের আগে নগদ অর্থ বহন ও বিতরণের অভিযোগ নির্বাচনী পরিবেশকে ঘিরে নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। ভোটের মাঠে এখন মূল আলোচনা-নির্বাচনের ঠিক আগে কেন এত বিপুল পরিমাণ অর্থ লেনদেনের অভিযোগ সামনে আসছে? রাজনৈতিক মহলের একাংশের মতে, যারা আল্লাহর আইন চাই, সৎ লোকের শাসন চাই স্লোগান তুলে ভোটারদের দ্বারে দ্বারে যাচ্ছেন, তাদেরই নেতাদের বিরুদ্ধে অর্থ বিতরণের অভিযোগ ওঠা নৈতিকতার প্রশ্নকে সামনে এনে দিয়েছে। তবে দলটির পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে প্রশাসন বলছে, নির্বাচনকে ঘিরে যেকোনো ধরনের অনিয়ম বা অবৈধ অর্থ লেনদেন কঠোরভাবে দমন করা হবে।
ভোটের প্রাক্কালে এমন ঘটনাগুলো রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তদন্তের ফলাফলই নির্ধারণ করবে অভিযোগগুলোর বাস্তবতা ও এর পেছনের প্রকৃত রহস্য। জেলা পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে অর্ধকোটি টাকা উদ্ধার নিছক ব্যক্তিগত বিষয় বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। রাত পোহালেই ভোট। এর আগে এমন ঘটনা নির্বাচনী স্বচ্ছতা ও সুষ্ঠু পরিবেশ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন ওঠেছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ তদন্তই এখন জনমতের প্রধান দাবি। ভোটের আগের দিন নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থসহ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী-এর এক শীর্ষ নেতাকে আটকের ঘটনায় নির্বাচনী অঙ্গনে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে। আটক ব্যক্তি বেলাল উদ্দিন প্রধান, যিনি ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে বিশেষ অভিযান চালিয়ে বুধবার বেলা ১২টার দিকে তাকে আটক করা হয়। তিনি ঢাকা থেকে নভোএয়ারের একটি ফ্লাইটে সৈয়দপুরে পৌঁছান।
ব্যাগ তল্লাশি করে প্রায় অর্ধকোটি টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। প্রশ্ন উঠেছে, ভোটের ঠিক আগের দিন এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ নিয়ে তিনি কোথায় যাচ্ছিলেন? এই অর্থের উৎস কী এবং ব্যবহারের উদ্দেশ্যই বা কী? নির্বাচন ঘিরে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অতীতে বহুবার উঠেছে। এমন পরিস্থিতিতে একজন জেলা পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতার কাছ থেকে অর্ধকোটি টাকা উদ্ধার নিছক ব্যক্তিগত বিষয় বলে উড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ নেই। পুলিশ জানিয়েছে, অর্থের উৎস ও সম্ভাব্য ব্যবহার খতিয়ে দেখা হচ্ছে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে অর্থের প্রভাব বিস্তার, ভোটার প্রভাবিতকরণ বা অন্য কোনো অনিয়মের সঙ্গে এই অর্থের সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা তদন্তসাপেক্ষ। আইনি প্রক্রিয়া শেষে বিস্তারিত জানানো হবে। কুমিল্লার মুরাদনগরে ভোটারদের মাঝে টাকা বিতরণের অভিযোগে হাবিবুর রহমান হেলালী নামে এক জামায়াত নেতাকে আটক করেছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় তার কাছ থেকে নগদ ২ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।
বুধবার সকালে উপজেলার ছালিয়াকান্দি ইউনিয়নের নেয়ামতকান্দি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আটক হাবিবুর রহমান হেলালী জামায়াতে ইসলামীর ছালিয়াকান্দি ইউনিয়ন নির্বাচন পরিচালনা কমিটির প্রধান সমন্বয়ক। উপজেলা নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট সাকিব হাসান খান ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। পরে নগদ ২ লাখ টাকাসহ হাবিবুর রহমান হেলালীকে আটক করে মুরাদনগর থানায় নিয়ে যাওয়া হয়। তবে হাবিবুর রহমান হেলালী দাবি করেন, তার কাছে এত টাকা ছিল না। নির্বাচনী কেন্দ্রে দায়িত্ব পালনরত জামায়াতে ইসলামীর এজেন্টদের খাবার খরচের জন্য অল্প কিছু টাকা ছিল। তাকে ফাঁসানো হয়েছে। এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আব্দুর রহমান বলেন, টাকা বিতরণের খবর পেয়ে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের টিম পাঠানো হয়। অভিযুক্তকে আটক করে থানায় নেয়া হয়েছে। বিষয়টি যাচাই-বাছাই শেষে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দীনের বহন করা নগদ অর্থের গণনা শেষ হয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তথ্যানুযায়ী, তিনি ৭৪ লাখ টাকা নগদ বহন করছিলেন এবং নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে আটক হন। তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঠাকুরগাঁও জেলা আমির হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। দেশের অভ্যন্তরীণ বিমান রুটে নগদ অর্থ বহনের ক্ষেত্রে সরাসরি কোনো সাধারণ নিষেধাজ্ঞা নেই, এটি সত্য।

তবে প্রশ্ন উঠছে, নির্বাচনের একদিন আগে ঢাকা থেকে ঠাকুরগাঁও যাওয়ার পথে কেন তিনি এত বিপুল পরিমাণ নগদ অর্থ বহন করছিলেন? ৭৪ লাখ টাকার উৎস কী, কোন মাধ্যমে এই অর্থ তার হাতে এসেছে, এবং কী উদ্দেশ্যে তা বহন করা হচ্ছিল, এসব বিষয় স্পষ্ট হওয়া জরুরি। যদি এটি বৈধ ব্যবসায়িক লেনদেন বা ব্যক্তিগত উপার্জনের অর্থ হয়ে থাকে, তাহলে তার একটি সুস্পষ্ট মানিট্রেইল তথা ব্যাংক লেনদেনের নথি কিংবা করসংক্রান্ত প্রমাণ থাকা স্বাভাবিক। কিন্তু একজন জেলা পর্যায়ের রাজনৈতিক নেতা নির্বাচনের আগের দিন এত বড় অঙ্কের নগদ অর্থ বহন করলে তা জনমনে স্বাভাবিকভাবেই সন্দেহের জন্ম দেয়। নির্বাচন কমিশনেরও উচিত স্পষ্টভাবে জানানো, এই নগদ অর্থ বহন নির্বাচনের আচরণবিধিমালা-২০২৫-এর ২২(৩) বিধির পরিপন্থী কি না। নির্বাচনকে ঘিরে অর্থের সম্ভাব্য প্রভাব ও অনিয়মের প্রশ্নে স্বচ্ছ ব্যাখ্যা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। জনস্বার্থে প্রয়োজন, এই অর্থের উৎস, উদ্দেশ্য ও বৈধতার পূর্ণাঙ্গ তথ্য দ্রুত জনসমক্ষে প্রকাশ করা। স্বচ্ছতা নিশ্চিত করাই এখন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।

