মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে। শপথের আমন্ত্রণপত্র ইস্যু করা হচ্ছে। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের কাছে শপথের আমন্ত্রণপত্র কোনো কারণবশত হস্তগত না হলে শপথ গ্রহণের দিন সংসদ ভবনের টানেলের অভ্যন্তরস্থ মূল প্রবেশপথে অবস্থিত ফ্রন্ট ডেস্ক থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন।
#সমীরণ রায়#,
_______________
ঢাকা, ১৬ ফেব্রুয়ারি।।
ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ অনুষ্ঠান মঙ্গলবার সকাল ১০ টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে আয়োজন করা হয়েছে। এদিন দুটি শপথ পাঠ করানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একটি সংসদ সদস্য হিসেবে, আরেকটি জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে। স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে সংবিধান অনুযায়ী সংসদ সদস্যদের শপথ পাঠ করাবেন প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিন। এর পর বিকেল ৪ টায় সংসদের দক্ষিন প্লাজায় নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিন। তবে, এ নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হতে যাচ্ছেন বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তবে বিএনপির পক্ষ থেকে সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়েছে। দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘অনেকগুলো হয়-এর পরে’ সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ হলে হতে পারে।
সোমবার সাংবাদিকদের তিনি বলেন ‘সংবিধান সংস্কার পরিষদ, এটা যদি কনস্টিটিউশনে (সংবিধান) ধারণ হয়, সেই মর্মে অ্যামেন্ডমেন্ট (সংশোধন) হয় এবং সেই শপথ পরিচালনার জন্য সংবিধানের তৃতীয় তফসিলে ফরম হয়, কে শপথ পাঠ করাবেন সেটা নির্ধারিত হয় এতগুলো হয় এর পরে তারপরে হলে হতে পারে।’ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, নির্বাচন কমিশনের সাংবিধানিক দায়িত্ব হলো জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন পরিচালনা করা। সাংবিধানিকভাবে স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার অ্যাভেইলেবল না থাকলে বা অপারগ হলে বা তাঁদের মনোনীত প্রতিনিধি না থাকলে দ্বিতীয় বিকল্প হচ্ছে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথ পড়াবেন। সে হিসেবে মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদে নির্বাচিত সদস্যদের শপথ হবে। এটা সিইসির সাংবিধানিক এখতিয়ার আছে।
বাংলাদেশের সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল ১০টায় জাতীয় সংসদ ভবনের শপথ কক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের শপথগ্রহণ এবং সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ পর্যায়ক্রমে অনুষ্ঠিত হবে। শপথের আমন্ত্রণপত্র ইস্যু করা হচ্ছে। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের কাছে শপথের আমন্ত্রণপত্র কোনো কারণবশত হস্তগত না হলে শপথ গ্রহণের দিন সংসদ ভবনের টানেলের অভ্যন্তরস্থ মূল প্রবেশপথে অবস্থিত ফ্রন্ট ডেস্ক থেকে সংগ্রহ করতে পারবেন। নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের এনআইডি সঙ্গে রাখার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা জানান, দীর্ঘদিনের প্রথা অনুযায়ী বঙ্গভবনে নতুন মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হয়ে আসছে। কিন্তু পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম প্রচলিত প্রথা ভেঙে বঙ্গভবনের পরিবর্তে সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় খোলা আকাশের নিচে নতুন সরকারের মন্ত্রিপরিষদ সদস্যদের শপথ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। মঙ্গলবার সকাল ১০টায় সংসদ ভবনের শপথকক্ষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যরা শপথ গ্রহণ করবেন। এরপর দুপুর ১২টায় জাতীয় সংসদ ভবনে সরকারি দলের সভাকক্ষে সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের সভায় সংসদ নেতা নির্বাচিত হবেন। পরে বিকেল ৪টায় উৎসবমুখর পরিবেশে সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় উন্মুক্ত মঞ্চে হাজারো অতিথির উপস্থিতিতে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন প্রথমে প্রধানমন্ত্রীকে শপথ পড়াবেন। এরপর পর্যায়ক্রমে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপমন্ত্রীদের শপথ পড়াবেন। শপথের পর প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে দপ্তর বণ্টন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে। আর নতুন সরকারের শপথ গ্রহণের মধ্য দিয়ে বিলুপ্তি ঘটবে অন্তর্বর্তী সরকারের। জাতীয় নির্বাচনে নিরঙ্কুশ জয় পাওয়া দল বিএনপির চাওয়া অনুসারে ব্যতিক্রমী এই আয়োজনের প্রস্তুতি শুরু হয়েছে।

সংসদ সচিবালয় সূত্র জানায়, শপথ গ্রহণের জন্য ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে বিজয়ী সংসদ সদস্যদের রোববার আমন্ত্রণপত্র পাঠানো হয়েছে। তাদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। মঙ্গলবার শপথ এরপর সংসদ সদস্যরা শপথ বইয়ে স্বাক্ষর করবেন, ছবি তুলবেন এবং অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নিবেন। সংসদ সদস্যদের শপথের পর দুপুর ১২টায় নির্বাচনে সংগরিষ্ঠতা পাওয়া বিএনপির সংসদীয় দলের সভা অনুষ্ঠিত হবে। সেখান থেকে সংসদনেতা নির্বাচিত হবেন। তারপর দলের নেতা রাষ্ট্রপতির সঙ্গে দেখা করে বলবেন, সংসদে তাঁদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা আছে। তাঁকে সরকারপ্রধান করার জন্য রাষ্ট্রপতির প্রতি অনুরোধ জানাবেন। তখন রাষ্ট্রপতি দলনেতাকে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেবেন। এরপর প্রধানমন্ত্রী তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের নির্বাচিত করবেন। প্রধানমন্ত্রী এবং মন্ত্রিসভার সদস্যদের রাষ্ট্রপতি শপথ পাঠ করাবেন।
জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা সাংবাদিকদের জানান, শপথ অনুষ্ঠানের সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন করা হয়েছে। শপথকক্ষ ও সেখানকার সাউন্ড সিস্টেম প্রস্তুত রাখা হয়েছে। অনুষ্ঠানের লাইভ করার জন্য বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বাংলাদেশ বেতারকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পেশাদারি, আন্তরিকতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে নিজ নিজ দায়িত্ব পালনের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
এ অনুষ্ঠানে প্রায় ১ হাজার ২০০ দেশি-বিদেশি অতিথিকে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমন্ত্রিতদের মধ্যে ভারতের লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লা দিল্লির প্রতিনিধি হিসেবে উপস্থিত থাকছেন। এছাড়া বিদেশি অতিথিদের তালিকায় রয়েছেন, ভুটানের প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগে, মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জু, পাকিস্তানের পরিকল্পনামন্ত্রী আহসান ইকবাল, নেপালের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বালা নন্দ শর্মা ও শ্রীলঙ্কার স্বাস্থ্যমন্ত্রী নলিন্দা জয়তিসার। যুক্তরাজ্যের ভারত–প্রশান্ত মহাসাগরবিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি সীমা মালহোত্রারও অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে বলে দলীয় সূত্রে উল্লেখ করা হয়েছে।

