সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন। তবে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিস্টের দোসর, সংসদে তার ভাষণ দেওয়ার অধিকার নেই।সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। তবে এবার ডেপুটি স্পিকারের পদটি বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি।

               
                        #সমীরণ রায় #
                      ______________

ঢাকা,১১ মার্চ।।
    ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে  বৃহস্পতিবার। বেলা ১১টায় জাতীয় সংসদ ভবনের সংসদ কক্ষে স্পিকার-ডেপুটি স্পিকারের অনুপস্থিতিতে কার্যপ্রনালী বিধি অনুযায়ী সিনিয়র একজন সংসদ সদস্য উদ্বোধনী বৈঠকে সভাপতিত্ব করবেন। অধিবেশনের শুরুতে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশ্যে বক্তৃতা করবেন সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি সংসদের স্পিকার নির্বাচনী সেশনে বক্তৃতা করার জন্য একজন সিনিয়র সংসদ সদস্যের নাম প্রস্তাব করবেন। সেই প্রস্তাব সংসদ সদস্যরা সমর্থন করলে ওই সংসদ সদস্য স্পিকারের আসনে বসে অধিবেশন পরিচালনা করবেন। তার সভাপতিত্বেই নতুন সংসদের স্পিকার নির্বাচন করা হবে।এদিকে, বুধবার স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার মনোনয়নের জন্য বিএনপি সংদলীয় দলীয় দলের বৈঠক হলেও আনুষ্ঠানিক ভাবে কারো নাম প্রকাশ করা হয়নি। সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দেবেন। তবে জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিস্টের দোসর, সংসদে তার ভাষণ দেওয়ার অধিকার নেই।সংখ্যাগরিষ্ঠতা থাকায় সাধারণত ক্ষমতাসীন দলের মনোনীত প্রার্থীই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন। তবে এবার ডেপুটি স্পিকারের পদটি বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীকে দেওয়ার প্রস্তাব দিয়েছে বিএনপি। জামায়াতে ইসলামী এই পদটি নেবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়। বুধবার বিরোধী দলের বৈঠকের পর জানানো হয়  ‘জুলাই সনদ বাস্তবায়ন হলে’ ডেপুটি স্পিকারের পদ নেবে জামায়াত।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সরকারি দল থেকে স্পিকার ও বিরোধী দল থেকে ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। স্পিকার নির্বাচনের পর ২০ মিনিটের জন্য অধিবেশন মূলতবি করা হবে। ওই সময়ে নবনির্বাচিত স্পিকার শপথ গ্রহণ করবেন। রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিন সংসদ ভবনে রাষ্ট্্রপতির কার্যালয়ে স্পিকারকে শপথ পাঠ করাবেন। শপথ নিয়েই স্পিকার অধিবেশন কক্ষে যাবেন এবং বৈঠক পরিচালনা করবেন। তিনি ৫ সদস্যের সভাপতিমণ্ডলীর নাম প্রস্তাব করারর পর শোক প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। শোক প্রস্তাবে গুরুত্ব পাচ্ছে সাবেক প্রধান মন্ত্রী ও বিরোধী দলীয় নেতা বেগম খালেদা জিয়া এবং চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের শহীদরা। তাদের ত্যাগ ও অবদান নিয়ে সংসদে বিস্তারিত আলোচনা শেষে শোক প্রস্তাব গ্রহণ করা হবে। প্রথম দিনেই বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ উত্থাপন করা হবে। ওই অধ্যাদেশগুলো বিষয়ে সরকার ও বিরোধী দলের সদস্যদের নিয়ে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হবে। যে কমিটির সুপারিশে অধ্যাদেশগুলোর ভাগ্য নির্ধারণ করা হবে। সংসদে রাষ্ট্রপতি মো. শাহাবুদ্দিনের ভাষনের পর অধিবেশন মূলতবি করা হবে। তবে এই অধিবেশন কত দিন চলবে, তা এখনো চূড়ান্ত হয়নি। নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনের প্রথম বৈঠকে সংসদের স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন করা হয়। বিদায়ী স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার প্রথম বৈঠকের শুরুতে সভাপতিত্ব করেন। তবে এবার দ্বাদশ সংসদের স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বরে পদত্যাগ করার পর তাঁকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। আর হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে বিদায়ী ডেপুটি স্পিকার শামসুল হক (টুকু) কারাগারে থাকায় উদ্বোধনী বৈঠকে কিছুটা ব্যতিক্রম হচ্ছে।সংবিধান অনুযায়ী, নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে এবং বছরের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ দিয়ে থাকেন। ফলে শোক প্রস্তাব গ্রহণের পর সংসদে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি। এরপর রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর ধন্যবাদ প্রস্তাব উত্থাপন করা হবে। অধিবেশনজুড়ে এই প্রস্তাবের ওপর আলোচনা করবেন সংসদ সদস্যরা। এ ছাড়া অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে জারি করা অধ্যাদেশগুলো সংসদের প্রথম অধিবেশনে উত্থাপন করার সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা আছে। উত্থাপনের ৩০ দিনের মধ্যে সংসদ কোনো অধ্যাদেশ অনুমোদন না করলে সেটার কার্যকারিতা থাকবে না।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে বেশ কিছু ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত হতে পারে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। একইসঙ্গে বৃহস্পতিবার শুরু হতে যাওয়া এ অধিবেশনেই স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হবেন এবং তাদের শপথ পড়াবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন। বুধবার জাতীয় সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান। সালাহউদ্দিন আহমদ জানান, প্রথম অধিবেশনে বেশ কিছু ভাল প্রস্তাব আসবে এবং সেগুলোর ওপর আলোচনা হবে।তবে জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ও বিরোধী দলীয় উপনেতা ডা. সৈয়দ আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেছেন, রাষ্ট্রপতি ফ্যাসিস্টের দোসর, সংসদে তার বক্তব্য দেওয়ার অধিকার নেই। বুধবার দুপুরে সংসদের বিরোধী দলের এমপিদের নিয়ে বৈঠক শেষে তিনি এ মন্তব্য করেন। আব্দুল্লাহ মোহাম্মদ তাহের বলেন, বৃহস্পতিবার যে সংসদ বসবে, সেখানে আমাদের ভূমিকা কী হওয়া উচিত, বৈঠকে সেই বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। যেহেতু অধিকাংশ সংসদ সদস্য নতুন, সংসদের ক্রাইটেরিয়া, ক্যারেক্টার বিষয়ে আমরা কিছু দিকনির্দেশনা দিয়েছি।





       
     







Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *