এদিন সন্ধ্যায় গুয়াহাটি থেকে আগরতলায় আসে এক জনজাতি যুবতী। তার বাড়ি বিশ্রামগঞ্জে।যুবতী নাগেরজলা থেকে যাত্রীবাহী বাসে করে বিশ্রামগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। যুবতীর অভিযোগ, “চলন্ত বাসে কোনো যাত্রী তাকে শ্লীলতাহানি করেছে।” কিন্তু রহস্য জনক ভাবে বাসের কোনো যাত্রী বা বাস কন্টাক্টরকে একথা জানায় নি মেয়েটি।
ডেস্ক রিপোর্টার, ৫ আগস্ট।।
আগরতলা থেকে মেলাঘরগামী চলন্ত বাসে( টিএআর ০ -১ ১২২৬) এক জনজাতি যুবতিকে শ্লীলতাহানি করার ঘটনা কেন্দ্র করে অগ্নিগর্ভ বিশ্রামগঞ্জ। বাস চালক , বাস কন্টাক্টর সহ বাসে থাকা যাত্রীদের উপর হামলা করে দুষ্কৃতীরা। নির্বিচারে ভাংচুর করা বাসটিকে। খবর অনুযায়ী, এই ঘটনার রেশ এখন আছড়ে পড়েছে গোটা বিশ্রামগঞ্জের বাঙালি অধ্যুষিত অঞ্চল গুলিতে। অভিযোগ, জনজাতি অংশের একাংশ যুবক বাঙালি লোকজনকে মারধর সহ নানান হুমকি হুজ্জুতি দিচ্ছে।পরিস্থিতি বেগতিক দেখে গোটা বিশ্রামগঞ্জে মোতায়েন করা হয়েছে প্রচুর পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী।ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়েছেন রাজ্য পুলিশের আইজি আইন – শৃঙ্খলা ও সিপাহীজলার এসপি সহ পদস্থ আধিকারিকরা। বিশালগড় থানা, মধুপুর থানা ও টাকারজলা থানা থেকেও জরুরি তলবে পুলিশ কর্মীদের নিয়ে যাওয়া হয়েছে বিশ্রামগঞ্জে। ঘটনা মঙ্গলবার রাতে। তবে পুলিশ জানিয়েছে বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে। নির্যাতিতার চিকিৎসা চলছে স্থানীয় হাসপাতালে। এই ঘটনায় আতঙ্ক বিরাজ করছে গোটা বিশ্রামগঞ্জ সহ আশপাশ এলাকায়। কুচক্রীরা এই ঘটনাকে ষড়যন্ত্র করে সাম্প্রদায়িক রূপ দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে সতর্ক হয়েই কাজ করছে পুলিশ প্রশাসন।

পুলিশ সূত্রের খবর অনুযায়ী, এদিন সন্ধ্যায় গুয়াহাটি থেকে আগরতলায় আসে এক জনজাতি যুবতী। তার বাড়ি বিশ্রামগঞ্জে।যুবতী নাগেরজলা থেকে যাত্রীবাহী বাসে করে বিশ্রামগঞ্জের উদ্দেশ্যে রওনা হয়। যুবতীর অভিযোগ, “চলন্ত বাসে কোনো যাত্রী তাকে
শ্লীলতাহানি করেছে।” কিন্তু রহস্য জনক ভাবে বাসের কোনো যাত্রী বা বাস কন্টাক্টরকে একথা জানায় নি মেয়েটি।
নির্যাতিতার (!) বক্তব্য, বাসে বসেই সে তার দাদাকে শ্লীলতাহানির ঘটনা জানায়। যুবতীর এই কার্যকলাপ সম্পর্কে বাসের অন্যান্য যাত্রী ও বাস কর্তৃপক্ষ ঘুণাক্ষরেও জানেন না। বাস যাত্রীদের অভিযোগ, গন্তব্যস্থল বিশ্রামগঞ্জ বাজারে আসতেই যুবতী বাস থেকে নেমে যায়। যথারীতি বাস কন্টাক্টর মেয়েটির লাগেজ নামিয়ে দেয়। এই সময় কিছু বুঝে ওঠার আগেই একদল উগ্র জনজাতি যুবক হামলা করে বাস কন্টাক্টরকে। প্রকাশ্যে নিরীহ বাস কন্টাক্টরকে ২০-২৫ জন যুবক মারধর শুরু করে। এই অবস্থা দেখে বাসের অন্যান্য যাত্রীরাও আঁতকে উঠেন। কিন্তু মুহূর্তেই উগ্র যুবকরা বাসে উঠে বাসের সমস্ত যাত্রীরা বেধড়ক মারধর শুরু করে।তাদের কাছে পুরুষ – মহিলা – শিশু কোনো বাছ বিচার ছিলো না। একই সঙ্গে বাসের মধ্যে নির্বিচারে ভাংচুর করতে থাকে বাসটিতে।

বাসের মধ্যে যাত্রীদের চিৎকার চেঁচামেচি শুনে ছুটে আসে বিশ্রামগঞ্জ থানার পুলিশ। ওসি অজিত দেববর্মা সহ অন্যান্য পুলিশ কর্মীদের উপস্থিতিতেই উগ্র জনজাতি যুবকরা যাত্রীদের এলোপাথাড়ি মারধর করে। পুলিশ ছিলো ঠুটো জগন্নাথ। তারাও যুবকদের হামলার ঘটনা তাড়িয়ে তাড়িয়ে উপভোগ করছিলো।
পরবর্তী সময়ে পুলিশ যাত্রীদের একে একে নামিয়ে নিয়ে আসে নির্যাতিতার(!) কাছে। কিন্তু কে মেয়েটিকে শ্লীলতাহানি করেছে? তাকে সনাক্ত করতে পারে নি। তারপরেই সন্দেহ আরও তীব্র হয়। তারপরও শান্ত হয় নি জনজাতি অংশের উগ্র যুবকরা । অভিযোগ,তারা গোটা বিশ্রামগঞ্জ বাজারে রীতিমতো আস্ফালন শুরু করে। তাও আবার পুলিশের সামনেই। শেষ পর্যন্ত খবর পেয়ে আগরতলা থেকে ছুটে যান আই জি আইন – শৃঙ্খলা, জেলার এসপি সহ পদস্থ পুলিশ কর্তারা। উগ্র যুবকদের সরানোর জন্য টিএসআর জওয়ানরা লাঠি চার্জ করতে বাধ্য হয়। আতঙ্কগ্রস্ত বাস যাত্রীরা আশ্রয় নেয় বিশ্রামগঞ্জ থানায়। পড়ে তাদেরকে পুলিশী পাহারায় পাঠানো হয় বাড়িতে।
বাসের যাত্রীদের বক্তব্য, এই ঘটনার। পেছনে সুনির্দিষ্ট কোনো ষড়যন্ত্র থাকতে পারে। কারণ কে বা কারা চলন্ত বাসে মেয়েটির সঙ্গে খারাপ ব্যবহার করেছে, এটা স্পষ্ট করে বলতে পারে নি। আবার বাসের মধ্যে কোনো প্রতিবাদ না করে বা বাস কন্টাকটার ও যাত্রীদের না জানিয়ে মেয়েটি তার ভাইকে কেন আগাম জানিয়ে দিয়েছে? তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছে বাস যাত্রীরা। এ ঘটনার পর জনজাতি অংশের একাংশ লোকজন ভোলা জলে মাছ ধরতে নেমে পড়েছে তারা এই ঘটনাকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচার করতে শুরু করেছে এবং জাতিবিদ্বেষী ভাইরাস ছড়িয়ে দিতে কোনরকম কার্পণ্য করছে না।

