পর্ব – ১

রাজনৈতিক ভাবেও নাকি তার হাত বেশ লম্বা। সুমন মাদক মার্কেটে প্রচার করে সে রাজ্য মন্ত্রিসভার এক সদস্যের মূল স্পন্সরার।তাই  পুলিশ থেকে সেল ট্যাক্স, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা থেকে রাজনৈতিক নেতা, সকলকেই সহজেই ম্যানেজ করে নেয় সুমন ওরফে কালা। এই ক্ষমতা বলেই চুরাইবাড়িতে আসাম – ত্রিপুরা গেটে  মাদক কারবারের হাব গড়ে তুলেছে সে।

ডেস্ক রিপোর্টার,১৬ জুলাই।।
                                রাজ্যে প্রতিদিন নেশা সামগ্রী প্রবেশ করছে বহিঃ রাজ্য থেকে,আবার নিয়ম করে রাজ্য থেকে মাদক সামগ্রী রপ্তানী হচ্ছে বহিঃ রাজ্যে। এটাই যেন বিধির বিধান।এই নিয়ম কেউ খন্ডাতে পারবেনা। গোটা সিস্টেমের ভর কেন্দ্র উত্তর জেলার চুরাইবাড়ি গেট ও আন্ত: রাজ্য সীমান্তের ওপারে থাকা আসাম গেট। মূলত এই দুই রাজ্যের সীমান্তের বুক চিরে মাদক বোঝাই লরি প্রবেশ করে রাজ্যে।এবং রাজ্য থেকেও বেরিয়ে যায় অসমের উদ্দেশ্যে।
            মাদক কারবারের গোটা সিস্টেমের পরিচালনার জন্য মূখ্য ভূমিকা পালন করতে হয় “গেট লাইন ম্যানের”। যার হাতে থাকে আসাম – ত্রিপুরা দুই গেটের মাদক সিন্ডিকেটের রিমোট কন্ট্রোল। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দার প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, আসাম – ত্রিপুরা গেটে মাদক কারবারের মূল সিন্ডিকেট পরিচালনা করেথাকে সুমন গোস্বামী ওরফে কালা নামে এক ব্যক্তি।

।সুমন গোস্বামী ওরফে কালা।

চুরাইবাড়ির বাসিন্দা সুমন ওরফে কালা অতীতে ছিলো সেল  ট্যাক্সের একজন প্রথম সারির দালাল।

চুরাইবাড়ির বাসিন্দা সুমন ওরফে কালা অতীতে ছিলো সেল  ট্যাক্সের একজন প্রথম সারির দালাল। দালালির টাকায় তার আর্থিক খায় না মেটানোর কারণে মাদক বাণিজ্যের গেট লাইন ম্যানের কাজ শুরু করেছে কালা।
    গোয়েন্দার দাবী, রাজনৈতিক ভাবেও নাকি তার হাত বেশ লম্বা। সুমন মাদক মার্কেটে প্রচার করে সে রাজ্য মন্ত্রিসভার এক সদস্যের মূল স্পন্সরার।তাই  পুলিশ থেকে সেল ট্যাক্স, কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা থেকে রাজনৈতিক নেতা, সকলকেই সহজেই
ম্যানেজ করে নেয় সুমন ওরফে কালা। এই ক্ষমতা বলেই চুরাইবাড়িতে আসাম – ত্রিপুরা গেটে  মাদক কারবারের হাব গড়ে তুলেছে সে।
           


কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সূত্রটি জানিয়েছে, মাদক অলিন্দে সুমন ওরফে কালা নিজেকে শাসক দলের বড় হনু বলে জাহির করে থাকে। এটা বুঝানোর জন্য নিজের হোয়াটসঅ্যাপের ডিপিতে পদ্ম ফুলের মাঝখানে নিজের হাত জোড় করা (নেতার আদলে) ছবি দিয়ে রেখেছে। মাদক সিন্ডিকেটে এই কৌশলকে কাজে লাগিয়েই ত্রিপুরা – আসাম সীমান্তের চুরাইবাড়ি গেটে এক নম্বর  লাইনম্যান হয়ে উঠেছে সুমন ওরফে কালা।

মাদক কারবারি সুমন অবশ্যই মানুষের আই – ওয়াশের জন্য খুলে বসেছে ট্রান্সপোর্ট ও রাবার ব্যবসা। দিচ্ছে জিএসটি ফাঁকি।

গোয়েন্দার খবর, মাদক কারবারি সুমন অবশ্যই মানুষের আই – ওয়াশের জন্য খুলে বসেছে ট্রান্সপোর্ট ও রাবার ব্যবসা। এই সমস্ত ব্যবসার অন্তরালেই সমান পরিচালনা করে ড্রাগস বাণিজ্য।
তার সম্পত্তির গভীরতা খুঁজলে বেরিয়ে আসবে কেঁচো খুঁড়তে সাপ।খুব শীঘ্রই এন্ড ফোর্সমেন্ট ডিপার্টমেন্ট ( ইডি)  চুরাইবাড়ির গেট লাইন ম্যান সুমন গোস্বামী ওরফে কালারের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করবে। এই সংক্রান্ত তথ্য নিশ্চিত করেছে গোয়েন্দা।


পুলিশ আচ্ছন্ন কালার কালো নোটের গন্ধে।

মাদক বাণিজ্যের রাশ টানার জন্য রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহা পুলিশকে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করতে বলেছেন। তারপরও কিভাবে পুলিশকে ম্যানেজ করে লাইন ম্যান সুমন গোস্বামী ওরফে কালা তার  নেটওয়ার্কে থাকা ড্রাগস মাফিয়াদের মাদক সামগ্রী আমদানি – রপ্তানির দায়িত্ব পালন করছে নিশ্চিন্তে? পুলিশ কি জানে না? অবশ্যই জানে। তবে তারা কালার কালো নোটের গন্ধে আচ্ছন্ন।

।চুরাইবাড়িতে রমরমা মাদক কারবার।(ফাইল – ছবি)

একটি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দার দিল্লিস্থিত অফিস থেকে সুমন গোস্বামীর মাদক কারবার সংক্রান্ত বিষয়ে গোপন রিপোর্ট জমা পড়ে মুখ্যমন্ত্রীর অফিসে।

সম্প্রতি চুরাইবাড়ি গেটের লাইনম্যান সুমন গোস্বামী ওরফে কালার মাদক কারবার নিয়ে রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহার কাছে একটি গোপন রিপোর্ট জমা পড়েছে। এই রিপোর্ট সরাসরি আসে একটি কেন্দ্রীয় গোয়েন্দার দিল্লিস্থিত অফিস থেকে।এরপরেই সুমন গোস্বামীর মাদক কারবারের সিন্ডিকেটের বিষয়টি মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরের নজরে আসে।
সুমন গোস্বামীর বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সহ পুলিশের মহানির্দেশক অনুরাগ ধ্যানকরকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তাই উত্তর জেলার মাদক সম্রাট সুমন ওরফে কালা যে খুব তাড়াতাড়ি পুলিশের জালে উঠবে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।( ক্রমশ চলবে…)


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *