#সমীরণ রায়#
                       ______________

বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, আপনি যদি বিগত পাঁচ বছরের আমাদের রপ্তানি-আমদানির চিত্র দেখেন, আপনি বছরভিত্তিক ওঠা-নামা দেখবেন তার পরিপ্রেক্ষিতেই হয়েছে (বাণিজ্য)। আমাদের প্রয়োজন, আমাদের আমদানি প্রয়োজন, আমাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আমাদের রপ্তানির উদ্দেশ্যে আমদানি সকল কিছু মিলিয়েই আমাদের এই পরিমাণগত যে পরিবর্তনগুলো হয়।

ঢাকা, ১১ জানুয়ারি।।
       ক্রিকেটার মুস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার ইস্যুতে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কের যে অবনতি হয়েছে তাতে বাণিজ্যে কোনো প্রভাব পড়বে না বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
রোববার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নে জবাবে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, আমাদের এই মুহূর্তে, আমরা কোনো কিছু দেখছি না যে কোনো প্রভাব পড়বে, এরকম কোনো কিছু আমরা দেখতে পারছি না।
এদিকে, গত ৩ জানুয়ারি ভারতের ফ্রাঞ্চাইজি লীগ আইপিএলের দল কলকাতা নাইট রাইডার্সকে তাদের দল থেকে মুস্তাফিজকে বাদ দিতে বোর্ড অব কন্ট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়া (বিসিসিআই) নির্দেশ দেওয়ার খবর আসে। পরে কলকাতা নাইট রাইডার্স জানায়, তারা মুস্তাফিজকে ছেড়ে দিয়েছে।
এ ঘটনায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত বাংলাদেশে আইপিএলের সকল খেলা ও অনুষ্ঠান সম্প্রচার বন্ধ রাখতে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালায়। নিরাপত্তা শঙ্কায় ভারতে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে দল না পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি)।
এরই প্রেক্ষিতে আইপিএল থেকে মুস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় দুদেশের সম্পর্কের টানাপোড়েনের মধ্যে বাণিজ্যের প্রভাব জানতে চাইলে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, আপনি যদি বিগত পাঁচ বছরের আমাদের রপ্তানি-আমদানির চিত্র দেখেন, আপনি বছরভিত্তিক ওঠা-নামা দেখবেন তার পরিপ্রেক্ষিতেই হয়েছে (বাণিজ্য)। আমাদের প্রয়োজন, আমাদের আমদানি প্রয়োজন, আমাদের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আমাদের রপ্তানির উদ্দেশ্যে আমদানি সকল কিছু মিলিয়েই আমাদের এই পরিমাণগত যে পরিবর্তনগুলো হয়। তাই, সেই ক্ষেত্রে আমরা এমন কোনো কিছু দেখছি না। চব্বিশের অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে ভারত ও বাংলাদেশের কূটনৈতিক সম্পর্ক নানা টানাপড়েনের মধ্যে দিয়ে যাচ্ছে। পাল্টাপাল্টি বিধিনিষেধ আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে। চলতি বছরের ১৮ মে বাংলাদেশ থেকে স্থলবন্দর দিয়ে প্রক্রিয়াজাত খাদ্যপণ্য, পোশাকসহ প্রায় সাত ধরনের পণ্য আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ভারত সরকার।


বাংলাদেশ স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় সুতা আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা আরোপের এক মাসের মাথায় ভারতের ওই পাল্টা নিষেধাজ্ঞা দেয়, যা তাৎক্ষণিকভাবে কার্যকর করার কথা জানায় দেশটির বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
অক্টোবরের শেষ দিকে এসে বেনাপোল বন্দর দিয়েও আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম সীমিত করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। কোনো পূর্ব ঘোষণা বা প্রস্তুতি ছাড়াই বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে সন্ধ্যা ৬টার পর সব ধরনের আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম বন্ধ রাখা হয়। সবশেষ ১৮ ডিসেম্বর বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে চলাচল করা ভারতের সকল পণ্যবাহী ট্রাকের গতিবিধি এখন থেকে সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখবে বলে নতুন সিদ্ধান্তের কথা জানায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড-এনবিআর।
এসবের দিকে ইঙ্গিত করে বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, দুদেশের বাণিজ্যে কোনো প্রভাব পড়বে কিনা, তা সময়ের সঙ্গে বলা যাবে। তবে আমাদের বিভিন্ন রকমের ‘ট্রেড মেজারস’ নেওয়া হয়েছে, আপনারা জানেন আমাদের কিছু ‘বর্ডার মেজারস’ দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যের ক্ষেত্রে নেওয়া হয়েছে। সেটা কোনো প্রভাব ফেলছে কি না, আমরা এই মুহূর্তে স্পষ্ট করে বলতে পারছি না।
তার ভাষ্য, পৃথিবীর সমগ্র দেশের সাথে উদার বাণিজ্যে আমাদের কার্যক্রম বিদ্যমান আছে। তাই, আমাদের দেশ সুনির্দিষ্ট, মানে যতক্ষণ পর্যন্ত না আমরা মনে করি যে কোনো একটা নির্দিষ্ট বাণিজ্যে আমাদের স্থানীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত করছে, ততক্ষণ পর্যন্ত আমরা কোনো দ্বিপক্ষীয় সিদ্ধান্ত নিই না।সুতরাং আমাদের সামগ্রিকভাবেই, আমরা উদার বাণিজ্যে বিশ্বাসী।
বিদ্যমান আমদানি নীতি আদেশের (২০২১-২৪) থেকে বড় পরিবর্তন এনে ২০২৫-২০২৮ মেয়াদের জন্য নতুন আমদানি নীতি আদেশের (আইপিও) খসড়া তৈরি করা হয়েছে বলে তুলে ধরেন বাণিজ্য উপদেষ্টা। আমরা নতুন আইপিও করছি, আমরা বাণিজ্য উদারীকরণ করার ক্ষেত্রে, বাণিজ্যকে অন্তর্ভুক্তিমূলক করার ক্ষেত্রে, ন্যায় নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে আমরা কাঠামোগত পদ্ধতিগত এবং আমাদের যে কালচারাল যে চেঞ্জগুলো আমরা আনতে পেরেছি। আমাদের যতগুলো অঙ্গ প্রতিষ্ঠান রয়েছে সকল প্রতিষ্ঠান সম্মিলিতভাবে আমরা কাজ করেছি।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *