চিঠিতে বলা হয়, এমন সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জনগণকে ব্যথিত, মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আইপিএলের সব ম্যাচ ও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠান বাংলাদেশে প্রচার বা সম্প্রচার বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।
ঢাকা, ৫ জানুয়ারি।।
বাংলাদেশের ক্রিকেটপ্রেমীদের আবেগে নাড়া দেওয়া এক সিদ্ধান্তের জেরে ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ (আইপিএল) সম্প্রচার বন্ধ রাখার নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। জাতীয় দলের তারকা পেসার মোস্তাফিজুর রহমানকে আইপিএল দল কলকাতা নাইট রাইডার্স (কেকেআর) থেকে বাদ দেওয়ার ঘটনায় প্রতিক্রিয়া হিসেবেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। সোমবার তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রক দেশটির টেলিভিশন চ্যানেল ও সংশ্লিষ্ট সম্প্রচার মাধ্যমগুলোকে পাঠানো এক চিঠিতে জানায়, ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড বিসিসিআইয়ের নির্দেশে মোস্তাফিজুর রহমানকে আসন্ন আইপিএল থেকে বাদ দেওয়ার বিষয়টি দৃষ্টিগোচর হয়েছে। অথচ এই সিদ্ধান্তের পেছনে কোনো স্পষ্ট বা যৌক্তিক কারণ এখনো জানা যায়নি। চিঠিতে বলা হয়, এমন সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জনগণকে ব্যথিত, মর্মাহত ও ক্ষুব্ধ করেছে। এই প্রেক্ষাপটে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত আইপিএলের সব ম্যাচ ও সংশ্লিষ্ট অনুষ্ঠান বাংলাদেশে প্রচার বা সম্প্রচার বন্ধ রাখার জন্য অনুরোধ জানানো হয়।

ক্রীড়াঙ্গনের ভাষায় এটি শুধু একটি সম্প্রচার সিদ্ধান্ত নয়, বরং একজন খেলোয়াড়ের প্রতি সম্মান ও ক্রীড়া ন্যায্যতার প্রশ্নে একটি স্পষ্ট অবস্থান হিসেবেও দেখা হচ্ছে। এই ধরনের সিদ্ধান্ত আসতে পারে, এমন আভাস আগেই মিলেছিল। মোস্তাফিজকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে আইপিএল সম্প্রচার বন্ধের উদ্যোগ নিতে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টাকে অনুরোধ করেছিলেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। এ বিষয়ে আগের দিন তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান জানিয়েছিলেন, আইনি ভিত্তি ও প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। মোস্তাফিজুর রহমানের আইপিএলে খেলার কথা ছিল কেকেআরের হয়ে। তবে গত ৩ জানুয়ারি বিসিসিআইয়ের নির্দেশে তাকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়। এই সিদ্ধান্তের পর বাংলাদেশে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতির ধারাবাহিকতায় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে ভারতে না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলেও জানা গেছে। ক্রিকেট কূটনীতির ভাষায়, এই পদক্ষেপ দক্ষিণ এশিয়ার ক্রীড়াঙ্গনে একটি স্পষ্ট বার্তা খেলা মাঠেই সীমাবদ্ধ থাকুক, কিন্তু খেলোয়াড়ের মর্যাদা ও ন্যায্যতা প্রশ্নে আপস নয়।

