ভারতীয় দলের হেড কোচ গৌতম গম্ভীরের রেকর্ডের কাছে টিকল না কোনও অভিশাপ। খেলোয়াড় হিসেবে বা ভারতীয় দলের কোচ হিসেবে – গম্ভীর যখনই আইসিসি টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছেন, তখনই টিম ইন্ডিয়া কাপ জিতে মাঠ ছেড়েছে। আজ টি-টোয়েন্টি ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে ধ্বংস করে দিল ভারত। প্রথমে ব্যাট করে ২৫৫ রান তোলে ভারত। জবাবে ১৫৯ রানেই গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড।

স্পোর্টস ডেস্ক,৮ মার্চ।।
           তিন ‘অভিশাপ’ ভেঙে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জিতল ভারত। এতদিন কোনও দল পরপর দুটি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতেনি। ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জেতেনি কোনও দল। রবিবার রাতে সেইসব অভিশাপ ধুয়ে-মুছে সাফ হয়ে গেল। আর সবথেকে বড় যে ‘অভিশাপ’ ঘুচল, সেটা হল ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বরের হৃদয়ভঙ্গের রাতে। ২০২৩ সালের ১৯ নভেম্বর আমদাবাদের যে নরেন্দ্র মোদী স্টেডিয়ামে অভিশপ্ত রাত কেটেছিল, ২০২৬ সালের ৮ মার্চ সেটাই পরিণত হল বিজয়োল্লাসের রাতে। যা দেখে অনেকে বলতে শুরু করেছেন, ভারতীয় দলের হেড কোচ গৌতম গম্ভীরের রেকর্ডের কাছে টিকল না কোনও অভিশাপ। খেলোয়াড় হিসেবে বা ভারতীয় দলের কোচ হিসেবে – গম্ভীর যখনই আইসিসি টুর্নামেন্টের ফাইনালে উঠেছেন, তখনই টিম ইন্ডিয়া কাপ জিতে মাঠ ছেড়েছে। রবিবাসরীয় রাতে টি-টোয়েন্টি ফাইনালে নিউজিল্যান্ডকে ৯৬ রানে ধ্বংস করে দিল ভারত। প্রথমে ব্যাট করে ২৫৫ রান তোলে ভারত। জবাবে ১৫৯ রানেই গুটিয়ে যায় নিউজিল্যান্ড।
   আর সেইসব অভিশাপ কাটানোর জন্য যেন রবিবার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ হয়ে মাঠে নেমেছিল টিম ইন্ডিয়া। প্রথমে ব্যাট করে নির্ধারিত ২০ ওভারে পাঁচ উইকেটে ২৫৫ রান তোলে। যা টি-টোয়েন্টিতে ভারতের সর্বোচ্চ স্কোর। তাও রানটা বেশি হতে পারত কিছুটা। কিন্তু ১৬ তম ওভার থেকে ১৯ ওভার পর্যন্ত চার ওভারে মাত্র ২৮ রান ওঠে। তারপরও যে ভারত ২৫৫ রান তুলে ফেলে, সেটার নেপথ্যে ছিলেন অভিষেক শর্মা, সঞ্জু স্যামসন এবং ইশান কিষান।
  প্রথম উইকেটে ৭.১ ওভারে ৯৮ রান যোগ করেন অভিষেক এবং সঞ্জু। তারপর দ্বিতীয় উইকেটে সঞ্জুর সঙ্গে ৪৮ বলে ১০৫ রান যোগ করেন ইশান। সঞ্জু ৪৬ বলে ৮৯ রান করেন। ২১ বলে ৫২ রান করেন অভিষেক। ২৫ বলে ৫৪ রান করেন ইশান। আর শেষের দিকে আট বলে ২৬ রান অপরাজিত থাকেন শিবম দুবে। শেষ ওভারেই তিনি ২৪ রান তোলেন।
  সেই ছন্দে বোলিংয়েও ধরে রাখে ভারত। প্রথম ওভারে ফিন অ্যালেনের ক্যাচ ফস্কানো এবং দ্বিতীয় ওভারে ২০ রান হজম করার পরে অক্ষর প্যাটেলকে নিয়ে ফাটকা খেলেন ভারতীয় অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। যা পুরোপুরি কাজে দেয়। প্রথম ওভারেই বিধ্বংসী অ্যালেনকে আউট করে দেন। পরের ওভারেই বল হাতে নিয়ে প্রথমেই রাচিন রবীন্দ্রকে আউট করেন জসপ্রীত বুমরাহ। তবে সেটার কৃতিত্ব পাওয়া উচিত ইশানেরও। দুর্ধর্ষ ক্যাচ ধরেন তিনি।
আর সেখান থেকেই নিজেদের হাতে ম্যাচের রাশ তুলে নেয় ভারত। টিম সেফার্ত কিছুটা চেষ্টা করলেও তাঁর উইকেট তুলে নিয়ে কিউয়িদের কফিনে শেষ পেরেক পুঁতে দেন বরুণ চক্রবর্তী। যিনি গত ম্যাচের মতো ফাইনালেও সেরকম ছন্দে ছিলেন না। কিন্তু ২৬ বলে ৫২ রান করা সেফার্তকে আউট করে দিয়ে নিজের ছাপ রেখে যান। তাছাড়া ভারতের হয়ে চার ওভারে ১৫ রান দিয়ে চার উইকেট নেন বুমরাহ। যা টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনালে কোনও পেসারের সেরা বোলিং ফিগার। সেইসঙ্গে তিনটি উইকেট পান অক্ষর। তিন ওভারে ২৭ রান খরচ করেন।( এইচটিবি)


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *