শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান বলে জানান সেখানকার সহকারী অধ্যাপক শাওন বিন রহমান। এর আগে গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডামুড্যার কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই বাজারের কাছে তাকে কুপিয়ে ও শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়া হয় বলে জানান শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) তানভীর হোসেন।
#সমীরণ রায়#
ঢাকা, ৩ জানুয়ারি।।
বাংলাদেশের শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলায় ছুরিকাঘাতের পর শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়া ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাস ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। নিহত খোকন চন্দ্র দাস (৫০) তিলই এলাকার পরেশ চন্দ্র দাসের ছেলে। খোকন চন্দ্র উপজেলার কেউরভাঙা বাজারের ওষুধ ব্যবসায়ী ও এজেন্ট ব্যাংকিং করতেন।
শনিবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান বলে জানান সেখানকার সহকারী অধ্যাপক শাওন বিন রহমান। এর আগে গত বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে ডামুড্যার কনেশ্বর ইউনিয়নের তিলই বাজারের কাছে তাকে কুপিয়ে ও শরীরে পেট্রোল ঢেলে আগুন দেওয়া হয় বলে জানান শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস্) তানভীর হোসেন। এ ঘটনায় গত বৃহস্পতিবার রাতে খোকন দাসের বাবা বাদী হয়ে তিনজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। তবে এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।
আসামিরা হলেন- কনেশ্বর এলাকার বাবুল খানের ছেলে সোহাগ খান (২৭), সামছুদ্দিন মোল্যার ছেলে রাব্বি মোল্যা (২১) এবং শহীদ সরদারের ছেলে পলাশ সরদার (২৫)।
পুলিশ ও স্বজনরা জানিয়েছেন, ঘটনার দিন আগে রাতে দোকান বন্ধ করে বাড়ি ফেরার পথে ছুরিকাঘাতের শিকার হন খোকন চন্দ্র দাস। এ সময় তিনি হামলাকারীদের চিনে ফেললে তার শরীর পেট্রোল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। পরে তার চিৎকারে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালিয়ে যান। স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে রাতে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে রাতেই ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে ঢাকার জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে তার ক্ষতস্থানে অস্ত্রোপচার করা হয়। তার শরীরের ৩০ শতাংশ দগ্ধ হয়েছিল বলে জানিয়েছেন চিকিৎসক।
চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিন দিন পর সকালে খোকন দাস মারা যান। এ ঘটনায় জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেছেন স্বজন ও এলাকাবাসী।
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার তানভীর হোসেন বলেন, স্বজনদের কাছ থেকে মৃত্যুর বিষয়টি জানতে পেরেছি। তারপরও বিষয়টি খোঁজখবর নিচ্ছি। এ ঘটনায় দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবি করেছেন বাংলাদেশ বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ শরীয়তপুর জেলা শাখার সভাপতি অমিত ঘটক চৌধুরী।
তিনি বলেন, খোকন দাসের মৃত্যুতে আমরা শোকাহত। সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলাম তাকে বাঁচাতে, তার পাশে থাকতে। ভবিষ্যতে এ ধরনের ন্যক্কারজনক ঘটনার পুনরাবৃত্তি যাতে না ঘটে, সেজন্য অপরাধীদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।
নিহত খোকন দাসের ভাগনিজামাই প্রান্ত দাস বলেন, গত বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে ঢাকায় জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন ছিলেন খোকন চন্দ্র দাস। শনিবার ভোরের দিকে হঠাৎ তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হতে থাকে। সকাল সাড়ে সাতটার দিকে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটের বিভাগীয় প্রধান বিধান সরকার বলেন, খোকন চন্দ্র দাস নামের এক রোগীকে ঢাকা মেডিকেলে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছিল। তার শরীরের প্রায় ৩০ শতাংশ দগ্ধ ছিল। তাই উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি আজ সকালে মারা গেছেন।
ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ রবিউল হক বলেন, কেউরভাঙ্গা বাজারের ব্যবসায়ী খোকন চন্দ্র দাস ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন, এমন তথ্য পেয়েছি। সেখানে ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের সদস্যদের কাছে লাশ বুঝিয়ে দেওয়া হবে। আর ওই ঘটনায় করা মামলার এজাহারভুক্ত আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য চেষ্টা করছে পুলিশ।

