সোনামুড়া ডেস্ক, ৬ আগস্ট।।
স্বর্ণ যুগ এবং হিরা যুগকে পেছনে ফেলে রাজ্যে এখন চলছে সন্ত্রাসের যুগ। তথাকথিত রাজ্যে সুশাসন যুগে, ফের একবার ডাকাতির মত নৃশংস ঘটনা ঘটলো রাজ্যের সীমান্ত মহকুমা সোনামুড়াতে। ডাকাতদলের পান্ডারা গৃহস্থের সর্বস্ব লুটের পর গৃহকর্তাকে নৃশংস ভাবে হত্যা করে। রক্তাক্ত করে গৃহকর্তীকেও। গৃহকর্তা ও গৃহকর্তী উভয়ই বয়সে বৃদ্ধ। অর্থাৎ বৃদ্ধ দম্পতির উপর রাতের আঁধারে নৃশংস ভাবে হামলা করে ডাকাত দলের চাইরা। খুন হওয়া গৃহকর্তা শান্তি রঞ্জন দাস (৮০), রক্তাক্ত অবস্থায় জিবি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন তার বৃদ্ধা স্ত্রী নমিতা দাস (৭০)। ঘটনা মঙ্গলবার গভীর রাতে। ঘটনাস্থল মেলাঘরের ঘ্রানতলী এলাকায়। ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে সোনামুড়া মহকুমা পুলিশ। ডাকাতির ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে স্থানীয় কাঠালিয়া থেকে তিন যুবককে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।চলছে তাদের জিজ্ঞাসাবাদ।
তদন্তকারী পুলিশ জানিয়েছে, বুধবার গভীর রাতে বাড়ির নির্জনতার সুযোগ নিয়ে ১০/১২ জনের একটি ডাকাত দল প্রবেশ করেন শান্তি রঞ্জন দাসের বাড়িতে। বাড়িতে বৃদ্ধ দম্পতি একাই থাকেন। তাদের তিন পুত্র কর্মসূত্রের কারণে থাকেন বাড়ির বাইরে। স্বাভাবিক ভাবেই দুষ্কৃতীরা এই দাস দম্পতির বাড়িতেই সফট টার্গেট করে। এবং পূর্ব পরিকল্পনা মাফিক রাতের আঁধারে ডাকাতির উদ্দেশ্যে এই বাড়ীতে প্রবেশ করে।

তদন্তকারী পুলিশের দেওয়া প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, দুষ্কৃতীরা ঘরে প্রবেশ করে বৃদ্ধ দম্পতির স্বর্ণালংকার ও নগদ টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার অপারেশন শুরু করে। সিন অফ ক্রাইম অনুযায়ী, সম্ভবত এই সময় বৃদ্ধ দম্পতি দুষ্কৃতীদের বাধা দেন। তখনই ডাকাত দলের সদস্যরা অস্ত্রের মুখে ঘরের মধ্যে বৃদ্ধ দম্পতিকে দড়ি দিয়ে বেঁধে ফেলে। কাপড় দিয়ে বেঁধে দেওয়া হয় তাদের চোখ-মুখ। এর ফলে বৃদ্ধ দম্পতি চিৎকার দেওয়ার ক্ষমতা হারিয়ে ফেলেন। দুষ্কৃতীরা স্বর্ণালংকার সহ নগদ টাকা হাতিয়ে নিয়ে ফিরে যাওয়ার সময় দা দিয়ে কুপিয়ে নিশংসভাবে হত্যা করে গৃহকর্তা শান্তি রঞ্জন দাসকে। একইভাবে রক্তাক্ত করে তার স্ত্রী নমিতা দাসকে। সমস্ত অপারেশন শেষ করে ডাকাত দলের সদস্যরা নিরাপদেই গা ঢাকা দেয় তাদের গোপন ডেরায়। ঘুণাক্ষরেও সোনামুড়া পুলিশ এই ঘটনার আঁচ করতে পারে নি।
বুধবার সকালে প্রতিবেশীরা এই ঘটনা দেখে খবর দেয় পুলিশে। ঘটনাস্থলে পৌঁছায় মহকুমা পুলিশের পদস্থ আধিকারিকরা। কর্ডন করে অকুস্থল।। উদ্ধার করে শান্তি রঞ্জন দাসের মৃতদেহ এবং তার রক্তাক্ত স্ত্রীকে। উন্নত চিকিৎসার জন্য সঙ্গে সঙ্গেই পাঠানো হয় জিবি হাসপাতালে। তদন্তকারী পুলিশের দাবি, এএই ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যে তিন যুবককে গ্রেফতার করা হয়েছে। তাদের বাড়ি কাঠালিয়া এলাকায়।
এদিনের এই ঘটনায় তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়েছে গোটা এলাকার জনমনে। প্রশ্ন উঠছে সোনামুড়া পুলিশের নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে। কারণ রাতের আঁধারে সীমান্ত মহকুমার সোনামুড়া কতটা নিরাপত্তাহীন? তার জ্বলন্ত প্রমাণ এই ডাকাতির ঘটনা।

