বলতে হয় ,লজ্জার সুশাসন।এটা নিতান্তই নেশাখোড় এক ছিচকের চুরি নয়। দিনদুপুরে ডাকাতি বলা যায়।মোটিভ স্পষ্ট , গৃহস্বামীকে খুন করে দিনদুপুরে ডাকাতির চেষ্টা। এটাই ছিলো অভিযুক্ত জানের উদ্দেশ্য। অবশ্যই বরাত জোরে বেঁচে যান ইঞ্জিনিয়ার ভাস্কর দত্ত।
ডেস্ক রিপোর্টার,২০ জানুয়ারি।।
বেআব্রু শহরের পুলিশি নিরাপত্তা। একে বারে পুলিশ ফাঁড়ির নাকের ডগায় দিন দুপুরে বাড়িতে ঢুকে ইঞ্জিনিয়ারকে হত্যার চেষ্টা।”গৃহকর্তা” ইঞ্জিনিয়ারকে রক্তাক্ত করে লুটপাট করে নিয়ে যায় জিনিস পত্র। আক্রান্ত ইঞ্জিনিয়ারের নাম ভাস্কর দত্ত। ঘটনা সোমবার দুপুরে বিটারবনে। অভিযুক্ত সংশ্লিষ্ট এলাকার যুবক ” জান “। সে সর্বক্ষণ মাদকাসক্ত হয়ে থাকে। পুরো ঘটনা জানিয়ে আক্রান্ত ইঞ্জিনিয়ার ভাস্কর দত্ত রামনগর ফাঁড়িতে মামলা দায়ের করেছেন। তবে এই মামলায় পুলিশি তদন্ত গো স্লো।
বলতে হয় ,লজ্জার সুশাসন।এটা নিতান্তই নেশাখোড় এক ছিচকের চুরি নয়। দিনদুপুরে ডাকাতি বলা যায়।মোটিভ স্পষ্ট , গৃহস্বামীকে খুন করে দিনদুপুরে ডাকাতির চেষ্টা। এটাই ছিলো অভিযুক্ত জানের উদ্দেশ্য। অবশ্যই বরাত জোরে বেঁচে যান ইঞ্জিনিয়ার ভাস্কর দত্ত।
তদন্তের প্রাথমিক অনুসন্ধানে,গৃহস্বামীকে খুনের মরিয়া চেষ্টার নেপথ্যে কে বা কারা? এই চিত্র পরিষ্কার। এলাকাবাসী এবং পুলিশ ইতিমধ্যে অপরাধীর নাম ঠিকানা জেনে গেছে।তবে পুলিশের ভাষায়, অভিযুক্ত জান এখনও ফেরার। এটা অবশ্যই সুশাসনের লজ্জা!
এলাকাবাসী এবং পুলিশ সূত্রে খবর অনুযায়ী,বিটারবন এলাকার লিস্টেড সমাজদ্রোহী জান। বছর ত্রিশের এক মাদকাসক্ত যুবক। সে-ই ইঞ্জিনিয়ার ভাস্কর দত্তের বাড়িতে ঘটনা সংঘটিত করেছে। জান মূলত রাস্তাঘাটে বোতল,টিন,লোহা- লস্কর কুড়িয়ে বেড়ায়।সুযোগ বুঝে এ বাড়ি ও বাড়িতে হানা দেয় ।চুরি ছিনতাই করে।জান বিটারবনের কুখ্যাত কৌটাখোড়,(ড্রাগ এডিক্ট)।চোর, ছিনতাই বাজ।সেই তথ্য বের করতে পুলিশকে বেশি কসরত করতে হয়নি। পুলিশের খাতায়,গোটা পরিবারটাই এলাকার ত্রাস।জানের নাম নিলে আরেকটা নাম আসে।পরান।দুই ভাই জান- পরান এলাকায় কুখ্যাত সমাজদ্রোহী বলে বহু আগে থেকেই চিহ্নিত।ওরা পাঁচ ভাই ছিল।দুই ভাই মৃত।এখন তিনজন আছে।বাবা হারা জান- পরান বিটারবন নদীর পাড়ে মায়ের সঙ্গে থাকে।মা ও রাস্তাঘাটে এটা, ওটা কুড়ায়। পারিবারিক পেশা।অতীতে জান -পরান দু ভাই- ই চুরি ছিনতাই করে পুলিসে ধরা পড়েছিল।পরান দীর্ঘদিন নেশা মুক্তি কেন্দ্রে ছিল। কিছুদিন আগে বাড়ি ফিরেছে।পরানের বউ রান্নাবান্না করে খাওয়ায়। এলাকাবাসী বক্তব্য, কিছুদিন ধরে জানের তান্ডব বেড়েই চলেছে। এখন আর থানা পুলিশ কিছুই পরোয়া করে না।চুরি ছিনতাই তো করেই,এখন অস্ত্রের ব্যবহারও শিখেছে। হাত পাকিয়েছে।সোমবার বিকেলে ভাটি অভয়নগরে চুরি করতে গিয়ে দা দিয়ে খুনের চেষ্টা করেছে ইঞ্জিনিয়ার ভাস্কর দত্তকে ।একটুর জন্য তিনি প্রানে বেঁচে যান । জান – পরানের অতীত ইতিহাস এবং সোমবারের রোমহর্ষক ঘটনার সঙ্গে ওয়াকিবহাল রামনগর আউট পোষ্ট।ঘটনার ২৪ ঘন্টা পরেও জানের মতো ছিচকে দুষ্কৃতির টিকির নাগাল পায়নি পুলিশ। ঘটনা পুলিশ ফাঁড়ির ত্রিশ মিটারের মধ্যে। তা থেকে স্পষ্ট নগরবাসী কতটা নিরাপদে আছে? আক্রান্ত ইঞ্জিনিয়ার ভাস্কর দত্তের বাড়ির বিপরীতে কর্পোরেটর গৌতম চন্দের বাড়ি। দিনদুপুরে জান নৃশংস ভাবে ইঞ্জিনিয়ারকে রক্তাক্ত করলেও কোনো আঁচ করতে পারেনি রামনগর ফাঁড়ির বড় বাবু – মেজ বাবু – ছোট বাবুরা। অপরাধী জান মুহূর্তেই ভাস্কর দত্তের বাড়িতে ঢুকে তাকে রক্তাক্ত করে গলায় থাকা সোনার চেইন ছিনতাই করে। এবং ঘরের জিনিসপত্র লণ্ডভণ্ড করে দেয়। অপরাধী জানের দায়ের কোপে ঘরের মেঝেতে লুটিয়ে পড়েন ইঞ্জিনিয়ার ভাস্কর দত্ত।মেঝেতে হয় রক্তের বন্যা।নির্মম ঘটনার তদন্তে পুলিশ বেশিদূর এগোতেই পারল না। এখনো গ্ৰেপ্তার হল না ইঞ্জিনিয়ারকে খুনের চেষ্টায় অভিযুক্ত দুষ্কৃতী জান।
খবর অনুযায়ী, দুষ্কৃতী জান গা ঢাকা দিতে বেছে নিয়েছে ফাঁড়ির গা লাগোয়া বিটারবনের গলি। অভিযোগ, পুলিশি তদন্তের গতি বিশেষ সুবিধের নয়।দাগি চোরের অপরাধের ধরনও পরিবর্তন হচ্ছে। খুনখারাপি ,ডাকাতির পথে জান বরাবর সিদ্ধহস্ত।পুলিশ আরো আগে কঠোরভাবে জান- পরানদের দমন করলে সোমবার রাজধানীর বুকে এই কলঙ্কজনক ঘটনা ঘটত না। সুশাসন কালে এটা বড় লজ্জাস্কর।এলাকাবাসীর অভিমত, এক্ষেত্রে পুলিশের অপদার্থতা অনেকাংশে দায়ী। ফলে বিপন্ন হয়ে উঠছে নাগরিক জীবন।

