তাঁর হাত ধরে রাজ্যে প্রথম সবজি উৎকর্ষ কেন্দ্র স্থাপন হয়। ২০১৭ সালে সিপাহিজলা জেলার জুমের ডেপাতে প্রতিষ্ঠিত হয় রাজ্যের প্রথম সবজি উৎকর্ষ কেন্দ্র। ড. রাজীব ঘোষের পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে কেন্দ্রটি সফলভাবে যাত্রা শুরু করে।
ডেস্ক রিপোর্টার, ২৭ ফেব্রুয়ারি।।
ত্রিপুরা রাজ্যের কৃষিক্ষেত্রে এক নীরব বিপ্লবের রূপকার হিসেবে উঠে এসেছেন রাজ্য সরকারের বিশিষ্ট কৃষি বিজ্ঞানী ও কৃষকবন্ধু ড. রাজীব ঘোষ। কৃষি ও কৃষক কল্যাণ দপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত উপঅধিকর্তা ড. রাজীব ঘোষ দীর্ঘ কর্মজীবনে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে কাজ করে কৃষি ও উদ্যান উন্নয়নে অসামান্য অবদান রেখেছেন।
তাঁর হাত ধরে রাজ্যে প্রথম সবজি উৎকর্ষ কেন্দ্র স্থাপন হয়। ২০১৭ সালে সিপাহিজলা জেলার জুমের ডেপাতে প্রতিষ্ঠিত হয় রাজ্যের প্রথম সবজি উৎকর্ষ কেন্দ্র। ড. রাজীব ঘোষের পরিকল্পনা ও নেতৃত্বে কেন্দ্রটি সফলভাবে যাত্রা শুরু করে। এখান থেকে রাজ্যের বিভিন্ন জেলায় উন্নত মানের সবজির চারা, বিশেষ করে মৃত্তিকাবিহীন প্লাগ চারা সরবরাহ করা হয়।
এর ফলে রাজ্যের সবজি উৎপাদনশীলতা ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পায় এবং কৃষকদের আয় বহুগুণ বেড়ে যায়। আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর চারা উৎপাদন ব্যবস্থার মাধ্যমে কৃষকদের মধ্যে বৈজ্ঞানিক কৃষি পদ্ধতির প্রসার ঘটে।
এআরসি প্রযুক্তিতে আলু চাষে যুগান্তকারী সাফল্য এনে দিয়েছেন তিনি। ২০২৩ সালে রাজ্যে এআরসি (ARC) চারা দিয়ে আলু চাষের সূচনা হয় তাঁর উদ্যোগে। তিনি ভিয়েতনাম থেকে বিশেষ প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত এবং সেই কারিগরি জ্ঞান রাজ্যের আলুচাষীদের হাতে-কলমে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে পৌঁছে দেন।

বর্তমানে রাজ্যে আলুর উৎপাদনশীলতায় নজিরবিহীন সাফল্য এসেছে। আগে যেখানে গড় উৎপাদন ছিল প্রতি হেক্টরে ১৯ টন, সেখানে এখন তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৮ টন প্রতি হেক্টরে। অনেক কৃষক তিনগুণ পর্যন্ত ফলন পেয়েছেন। দক্ষিণ জেলা ও ধলাই জেলার কৃষকদের সাফল্য বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য।
রাজ্যের কৃষিকে আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি দিয়েছেন।
রাজ্যিক উদ্যান গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন কালে ড. ঘোষ দেশীয় ও আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সমন্বয় করে ত্রিপুরার কৃষিকে এক নতুন উচ্চতায় পৌঁছে দেন।
এআরসি প্রযুক্তিতে আলুর এই অভূতপূর্ব উৎপাদন বিশ্বমহলের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। সুদূর লাতিন আমেরিকার পেরুতে অবস্থিত International Potato Center-এর প্রধান ড. সাইমন হেক তাঁর বিজ্ঞানী দল নিয়ে নাগিচেরা অবস্থিত রাজ্যিক উদ্যান গবেষণা কেন্দ্র পরিদর্শনে আসেন। অন্য কোথাও আলু চাষে এত উচ্চ উৎপাদনশীলতার নজির খুব কমই দেখা গেছে।
ড. রাজীব ঘোষ শুধু একজন প্রশাসনিক কর্মকর্তা নন, তিনি ছিলেন মাঠমুখী কৃষিবিজ্ঞানী। কৃষকদের পাশে দাঁড়িয়ে আধুনিক প্রযুক্তি, উন্নত চারা, প্রশিক্ষণ ও গবেষণার সমন্বয়ে তিনি ত্রিপুরার কৃষিতে স্থায়ী পরিবর্তনের ভিত গড়ে দিয়েছেন। তার উদ্যোগে রাজ্যের কৃষকরা আজ আত্মবিশ্বাসী, উৎপাদনমুখী এবং আয় বৃদ্ধির পথে অনেকটাই এগিয়ে। ত্রিপুরার কৃষি ইতিহাসে ড. ঘোষের অবদান এক মাইলফলক হয়ে থাকবে বলে মনে করছেন কৃষি বিশেষজ্ঞরা।

