১৯৬৪ সালে ধর্মীয় সংখ্যালঘু বাঙালীরা উল্লেখিত গ্রামে এসে বসতি স্থাপন করলেও একসময় বর্তমান উড়িষ্যার কেউড়গঙ্গ ময়ূরগঞ্জ সহ পশ্চিম বঙ্গের লাগূয়া বিস্তীর্ণ এলাকা ছিল বৃহৎ বাংলারই অঞ্চল। তাছাড়া বর্তমান উড়িষ্যার কটক (নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মস্থান) ভুবনেশ্বর ইত্যাদি শহরে যুগ যুগ ধরে যে বাঙালীরা বসবাস করে এসেছে তার ভুরি ভুরি প্রমাণ ও ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে।

আগরতলা, ১১ ডিসেম্বর।।
             চলতি বছরের শুরু থেকেই উড়িষ্যা সহ ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে অনুপ্রবেশ ইস্যুকে কেন্দ্র করে বাঙালিদের উপর ধারাবাহিক আক্রমণ চলছে। ভারতের ভূমিপুত্র, স্বাধীনতার রূপকার এবং বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও বাঙালীরা আক্রমণ ,নির্যাতনের হাত থেকে বাঁচতে পারছে না। বর্তমানে আক্রান্ত বাংলা ভাষা, নোবেল জয়ী কবি গুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আমার সোনার বাংলা’ গান। আক্রান্ত স্বাধীনতার বীজমন্ত্র সাহিত্য সম্রাট ঋষি বঙ্কিমচন্দ্রের ‘বন্দেমাতরম ‘গান বা ধ্বনি, নেতাজি সুভাষ চন্দ্র বসুর ‘আজাদ হিন্দ ‘স্লোগান। বাঙালী বিদ্বেষী চক্রান্তকারীদের আক্রমণের শিকার সমাজ সংস্কারক রাজা রামমোহন রায় ও। এই আবহেই গত ৭ই ডিসেম্বর উড়িষ্যার মালকান গিরিতে বাঙ্গালীদের গ্রামে ঘটে গেল এক পরিকল্পিত আক্রমণ।
   খবরে প্রকাশ স্থানীয় অধিবাসী সম্প্রদায়ের মানুষ অতর্কিত সংঘবদ্ধ হামলায় সেখানকার শতাধিক বাঙালীর বাড়িঘর জ্বালিয়ে পুড়িয়ে কোটি কোটি টাকার সম্পদ ধ্বংস করে। লুটতরাজ ও হয়। সবচেয়ে বিষয়ের বিষয় হল ৭ এরপর ৮ ডিসেম্বর পুলিশের সামনে আক্রমণকারীরা আবার বাঙ্গালীদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ও লুটতরাজ চালালেও পুলিশ বাবুরা ছিল নিশ্চুপ। আক্রান্ত বাঙালীদের অভিযোগ উড়িষ্যার বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পরই নাকি বাঙালীদের উপর অকারণে আক্রমণ নির্যাতন হয়ে চলছে, খুব বেশি।
    অন্যদিকে শুধু বিজেপিই নয় ৮ ই ডিসেম্বর উড়িষ্যার বিধান সভায় দাঁড়িয়ে চিত্রা কুণ্ডার কংগ্রেসের বিধায়ক মঙ্গোখিলো বাঙালিদের বিরুদ্ধে সাধারণ মানুষের মনে হিংসা ছড়ানোর চেষ্টা করছে। উল্লেখ্য যে ১৯৬৪ সালে ধর্মীয় সংখ্যালঘু বাঙালীরা উল্লেখিত গ্রামে এসে বসতি স্থাপন করলেও একসময় বর্তমান উড়িষ্যার কেউড়গঙ্গ ময়ূরগঞ্জ সহ পশ্চিম বঙ্গের লাগূয়া বিস্তীর্ণ এলাকা ছিল বৃহৎ বাংলারই অঞ্চল। তাছাড়া বর্তমান উড়িষ্যার কটক (নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর জন্মস্থান) ভুবনেশ্বর ইত্যাদি শহরে যুগ যুগ ধরে যে বাঙালীরা বসবাস করে এসেছে তার ভুরি ভুরি প্রমাণ ও ঐতিহাসিক নিদর্শন রয়েছে। সেই অর্থে উড়িষ্যার বাঙালীরা সেখানকার ভূমিপুত্র। অথচ এই ব্যাপারে যারা বাংলাদেশে সংখ্যালঘু হিন্দুদের উপর নির্যাতন সহ খুন ধর্ষণ হলে রাজপথে নেমে গলা ফাটাইয়া মিছিল মিটিং করে ও সোশ্যাল মিডিয়ায় জোর প্রচার করে তারা স্বাধীন ভারতে বাঙালীদের উপর আক্রমণ হলে নীরব দর্শকের ভূমিকা পালন করে। আসলে স্বাধীনতার পর থেকেই এই দেশে বাঙালী হবার অপরাধে মার খাচ্ছে সব রাজনৈতিক দলের আমলেই। অথচ এই দেশের স্বাধীনতার জন্য সবচেয়ে বেশি আত্মবলিদান দিল এই বাঙালী জাতি।আর এই বাঙালী জাতিকেই ধর্মের দোহাই দিয়ে সব গুলো রাজনৈতিক দলের পরোক্ষ মদতে বাংলা ভাগের মধ্যে দিয়ে বাঙালী জাতি কে শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করছে।তাই জাতির অস্তিত্ব অধিকার রক্ষার জন্য দলমত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে ভবিষ্যত প্রজন্মকে রক্ষা করতে হলে।
    উল্লেখিত পরিস্থিতিতে আমরা বাঙালী ত্রিপুরা রাজ্য কমিটি উড়িষ্যাতে নতুন করে বাঙালী নির্যাতনের তীব্র নিন্দা, ধিক্কার ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে। উড়িষ্যার সরকারও কেন্দ্রীয় কর্তৃপক্ষের কাছে দলের পক্ষ থেকে দাবী
    ১) সম্প্রতি উড়িষ্যার মালকানগিরিতে বাঙ্গালীদের উপর হিংসাত্মক ঘটনায় যুক্ত অপরাধীদের অবিলম্বে গ্রেফতার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে।
২) উল্লেখিত ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সর্বস্বান্ত বাঙ্গালীদের পূর্ণ ক্ষতিপূরণ ও নিরাপত্তা দিয়ে স্বস্থানে পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করতে হবে।
৩) ভারতের ভূমিপুত্র স্বাধীনতার রূপকার বাঙালিদের ভাষা কৃষ্টি-সংস্কৃতি ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষার জন্য দেশভাগের জাতীয় প্রতিশ্রুতি মোতাবেক সংবিধানের ৩ নং ধারা অনুযায়ী স্বয়ংসম্পূর্ণ সামাজিক -অর্থনৈতিক অঞ্চল গঠন করতে হবে। দাবি পূরণ না হওয়া অব্দি আমাদের ধারাবাহিক আন্দোলন চলছে চলতেই থাকবে। এক প্রেস বিবৃতিতে আমরা বাঙালির পক্ষ থেকে এই খবর নিশ্চিত করা হয়েছে।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *