“মুখ্য সম্পাদকীয়তে লেখক সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন, রাজ্যের পবিত্র বিধানসভার উপাধক্ষ্য রামপ্রসাদ পালকে। মূখ্য সম্পাদকীয়তে লেখক লিখেছেন, ” ঠিকাদারি কাজের লক্ষ কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ উপাধ্যক্ষ প্রমাণ করতে পারেন কিনা? এবং লক্ষ কোটি টাকা মুফতে কমিয়ে নেওয়া এই মাফিয়াকে ( সাংবাদিক) জেল বন্দি করতে পারবেন কি?”

ডেস্ক রিপোর্টার, ১১ ডিসেম্বর।।
                         রাজনীতি ও সংবাদ মাধ্যমের জমজমাট লড়াই। গত কয়েকদিন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এই লড়াই সীমাবদ্ধ থাকলেও, এখন একে বারেই প্রকাশ্যে। কাগজে – কলমে।
                  সম্প্রতি রাজ্য বিধানসভার উপাধ্যক্ষ রাম প্রসাদ পাল তাঁর ভেরিফাইড ফেসবুক পেজ থেকে একটি পোষ্ট করেন। তিনি এই পোস্টে লিখেন, ” দিনের আলোতে পত্রিকা বিক্রেতা বা বুদ্ধিজীবি, অন্ধকারে মাফিয়া ১৮ গ্রুপ বিদ্যা দিয়ে ঠিকাদারের কাছ থেকে লক্ষ কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্যের ত্রিশ দশকের সংস্কৃতি খেলা আর কতদিন? কিছু অসৎ ঠিকাদারের আনন্দই আনন্দ।”( উপাধ্যক্ষের পোস্ট হুবহু তুলে ধরা হয়েছে প্রতিবেদনে। এখানেও আছে শব্দের অপভ্রংশ)

।উপাধ্যক্ষ রাম প্রসাদ পালের এফবি পোস্ট।

পত্রিকার মুখ্য সম্পাদকীয় বিষয় ছিলো “মাননীয় উপাধ্যক্ষের প্রতি”।

রাজ্য বিধানসভার উপাধ্যক্ষের এই পোস্টের পাল্টা হিসাবে ১১ ডিসেম্বর রাজ্যের প্রথম সারির প্রভাতী দৈনিক “আজকের ফরিয়াদ” পত্রিকায় একটি মুখ্য সম্পাদকীয় ছাপা হয়েছে। পত্রিকার মুখ্য সম্পাদকীয় বিষয় ছিলো “মাননীয় উপাধ্যক্ষের প্রতি”। পত্রিকার মুখ্য সম্পাদকীয়তে স্পষ্ট ভাবে কিছু বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। তাতে লেখক সরাসরি চ্যালেঞ্জ জানিয়েছেন, রাজ্যের পবিত্র বিধানসভার উপাধক্ষ্য রামপ্রসাদ পালকে। মূখ্য সম্পাদকীয়তে লেখক লিখেছেন, ” ঠিকাদারি কাজের লক্ষ কোটি টাকার কমিশন বাণিজ্যের সঙ্গে জড়িত সাংবাদিকের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগ উপাধ্যক্ষ প্রমাণ করতে পারেন কিনা? এবং লক্ষ কোটি টাকা মুফতে কমিয়ে নেওয়া এই মাফিয়াকে ( সাংবাদিক) জেল বন্দি করতে পারবেন কি?

উপাধ্যক্ষের কাছে একজন পত্রিকা বিক্রেতা সম্পর্কে এতো দুর্নীতির তথ্য থাকা সত্ত্বেও তিনি কেন হাত-পা গুটিয়ে বসে আছেন?

আজকের ফরিয়াদ পত্রিকার মুখ্য সম্পাদকীয়তে লেখক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন উত্থাপন করেছেন। কারণ, বিধায়ক  রামপ্রসাদ পাল পবিত্র বিধানসভার উপাধ্যক্ষ পদে আসীন। এটি একটি সাংবিধানিক পদ। এই মুহূর্তে তিনি ভয়ঙ্কর ক্ষমতার অধিকারী! স্বাভাবিক ভাবেই উপাধ্যক্ষের কাছে একজন পত্রিকা বিক্রেতা সম্পর্কে এতো দুর্নীতির তথ্য থাকা সত্ত্বেও তিনি কেন হাত-পা গুটিয়ে বসে আছেন? তিনি কেন পত্রিকা বিক্রেতার বিরুদ্ধে পুলিশ – ইডি – সিবিআইকে ব্যবহার করছেন না?

।’আজকের ফরিয়াদ’ পত্রিকার মুখ্য সম্পাদকীয়।

আজকের বাজারে তিনি তো রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক শক্তিতে বলীয়মান । যদি ঘটনা সত্যি হয়ে থাকে, সঙ্গে থাকে  উপযুক্ত প্রমাণ,  তাহলে উপাধ্যক্ষ কেন সংশ্লিষ্ট পত্রিকা বিক্রেতার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নিচ্ছেন না?  বরং তিনি ঘুর পথে বীরত্ব দেখাচ্ছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে? এই কোটি টাকার প্রশ্ন চাগার দিচ্ছে জনমনে।      


“সাংবাদিকের বিরুদ্ধে উপাধ্যক্ষের তোলা অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে এই পেশা থেকে বহিষ্কার করা হবে।”

আজকের ফরিয়াদ পত্রিকার মুখ্য সম্পাদকীয়তে স্পষ্ট ভাবেই লেখা হয়েছে, “সাংবাদিকের বিরুদ্ধে উপাধ্যক্ষের তোলা অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট সাংবাদিককে এই পেশা থেকে বহিষ্কার করা হবে।” কিন্তু অবাক করার বিষয়, আজকের ফরিয়াদ পত্রিকায় এই মুখ্য সম্পাদকীয় ছাপার প্রায় ১২ঘণ্টা ( খবর লেখার সময় পর্যন্ত) অতিক্রান্ত
হলেও পবিত্র বিধানসভার উপাধ্যক্ষ রাম প্রসাদ পাল পত্রিকা বিক্রেতার বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী কোনো পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেন নি। এটা
উপাধ্যক্ষ রাম প্রসাদ পালের জন্য অত্যন্ত হাস্যকর। লজ্জাস্করও বটে।

।প্রতীকী ছবি।

জনমনে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পত্রিকা বিক্রেতার বিরুদ্ধে উপাধ্যক্ষের তোলা অভিযোগ মিথ্যা?

জনমনে প্রশ্ন উঠছে, তাহলে কী সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে পত্রিকা বিক্রেতার বিরুদ্ধে উপাধ্যক্ষের তোলা অভিযোগ মিথ্যা? এই মিথ্যাচার কি শুধুই ব্যক্তিগত বিদ্বেষের নোংরা স্ক্রিপ্টের “ভূমিকা”? যদি তাই হয়ে থাকে, উপাধ্যক্ষ সাহেব নিজেই পুনরায় নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে তার”উপসংহার’ও”  টেনে দিয়েছেন আজকের সকালে। উপাধ্যক্ষ পাল্টা লিখেছেন, ” আজকের ফরিয়াদের মুখ্য সম্পাদকীয় লেখার প্রেক্ষিতে প্রশ্ন হচ্ছে ঠাকুর ঘরে কে…রে? আমি কলা খাই না। তার অর্থ কি সকলেই জানে, অর্থাৎ “পাছে লোকে কিছু বলে” এখন হাসি পাচ্ছে, উনি সাংবিধানিক ব্যাখ্যা লাগিয়ে বলে দিয়েছেন ভূতের মুখে রাম নাম’।” (উপাধ্যক্ষের ফেসবুক পোস্ট হুবহু তুলে ধরা হয়েছে তাঁর পেজ থেকে)। উপাধ্যক্ষের এই পোস্টেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে আছে শব্দের “অপভ্রংশ”। বলছেন বাংলা নিয়ে চর্চা করা বিশেষজ্ঞরা।
   

।উপাধ্যক্ষ’র এফবি পোস্ট।

দায় সারা একটি পোস্ট দিয়ে ঘটনার “উপসংহার’ টেনে দিয়েছেন খোদ উপাধ্যক্ষ রাম প্রসাদ পাল!

উপাধ্যক্ষ রামপ্রসাদ পালের স্ব- দলীয় রাজনীতিকরা বলছেন,ফেসবুকে করা শেষ পোস্টটি প্রমাণ করে সম্পাদকের বিরুদ্ধে তোলা অভিযোগের কোন তথ্য প্রমাণ নেই তাঁর কাছে। তাই দায় সারা একটি পোস্ট দিয়ে ঘটনার “উপসংহার’ টেনে দিয়েছেন তিনি। অর্থাৎ সবটাই নাকি গড়ের মাঠে ফাঁকা আওয়াজ!


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *