সংবাদমাধ্যমের উপর সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং দৈহিক আক্রমন বন্ধ করতে সভা থেকে দাবি জানানো হয়। সভা থেকে প্রবীণ সম্পাদক সুবল কুমার দে’ র নেতৃত্বে সাংবাদিকদের এক প্রতিনিধিদল মুখ্যমন্ত্রী ডা: মানিক সাহার সঙ্গে দেখা করে দাবীদাওয়া সহ স্মারকলিপি তাঁর হাতে তুলে দেন। মুখ্যমন্ত্রী দাবীগুলি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন।
আগরতলা, ৯ ফেব্রুয়ারি।। সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করা, সকলস্তরের সাংবাদিকদের নিজ নিজ এলাকায় আবাসনের জন্য বিনামূল্যে জমি বরাদ্দ করা, আসন্ন বাজেটে সাংবাদিক কল্যাণ তহবিলের জন্য ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করা, সাংবাদিকদের পেনশন এবং পারিবারিক পেনশনের পরিমাণ বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ করা, বিজ্ঞাপনের হার ও মূল্য দ্বিগুন করা, সাপ্তহিক পত্রিকাগুলোতে নিয়মিত বিজ্ঞাপনের ব্যবস্থা করা, পত্রিকা বিতরকদের গ্রুপ ইনস্যুরেন্সের আওতায় এনে মাসিক ভাতা বরাদ্দ করা, সর্বোপরি স্বৈর মনোভাবপূর্ণ শাসক জোটের দুই বিধায়ক রাম প্রসাদ পাল ও রঞ্জিত দেববর্মা, যারা সংবাদমধ্যমকে রক্তচক্ষু ও পেশী প্রদর্শন করে চলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সংবাদ মাধ্যমগুলির বিদ্যুৎ মাশুলে ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়া সহ ১১ দফা দাবিতে সোমবার সংবাদমাধ্যম কর্মীদের তিনঘণ্টার গণঅবস্থান ও প্রতিবাদ সভা অনুষ্ঠিত হয় শহরের রবীন্দ্রভবনের সামনে।
সাংবাদিকদের গণ অবস্থানে বক্তব্য রাখছেন সম্পাদক শানিত দেবরায়।
রাজ্যের সবক’টি মহকুমা থেকে ৮০০ র বেশি সাংবাদিক ও সংবাদকর্মী এই কর্মসূচিতে যোগ দেন।
রাজ্যের সবক’টি মহকুমা থেকে ৮০০ র বেশি সাংবাদিক ও সংবাদকর্মী এই কর্মসূচিতে যোগ দেন। খুমলুঙ প্রেসক্লাব থেকে ১৫০ জন জনজাতি অংশের সাংবাদিক ও সংবাদকর্মী বিক্ষোভে সামিল হন। সংবাদমাধ্যমের উপর সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং দৈহিক আক্রমন বন্ধ করতে সভা থেকে দাবি জানানো হয়। সভা থেকে প্রবীণ সম্পাদক সুবল কুমার দে’ র নেতৃত্বে সাংবাদিকদের এক প্রতিনিধিদল মুখ্যমন্ত্রী ডা: মানিক সাহার সঙ্গে দেখা করে দাবীদাওয়া সহ স্মারকলিপি তাঁর হাতে তুলে দেন। মুখ্যমন্ত্রী দাবীগুলি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহনের আশ্বাস দেন। প্রতিনিধিরা বিশেষ করে শাসক দলের দুই বিধায়কের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলির সুবিচার না পেলে, এদের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবং রাষ্ট্রপতির কাছে যাবেন বলে ও ঘোষনা দেন।
মুখ্যমন্ত্রীর সকাশে সাংবাদিকদের প্রতিনিধি দল।
রাজ্য বিধানসভার দুই সদস্য রাম প্রসাদ পাল ও রঞ্জিত দেববর্মা তাঁদের সাংবিধানিক পদ ব্যবহার করে রাজ্যের দুই জন বরিষ্ঠ সাংবাদিককে বিভিন্ন ভাবে হেনস্তা করছেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখতে গিয়ে সুবল কুমার দে, সঞ্জয় পাল, শানিত দেবরায়, প্রনব সরকার, দিবাকর দেবনাথ, নারায়ন পাটোয়ারি, সেবক ভট্টাচার্য, পত্রিকা বিতরকদের নেতা ননীগোপাল সাহা উত্থাপিত দাবিগুলি নিয়ে বিস্তারিত আলেচনা করেন এবং গোটা সংবাদমাধ্যমের ঐক্য সুদৃঢ় রাখার আহ্বান জানান। তারা বলেন,রাজ্য বিধানসভার দুই সদস্য রাম প্রসাদ পাল ও রঞ্জিত দেববর্মা তাঁদের সাংবিধানিক পদ ব্যবহার করে রাজ্যের দুই জন বরিষ্ঠ সাংবাদিককে বিভিন্ন ভাবে হেনস্তা করছেন। রাম প্রসাদ পালের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অনৈতিক কাজের অভিযোগ এবং প্রাক্তন বৈরী নেতা রঞ্জিত দেববর্মার বিরুদ্ধে সাম্প্রদায়িক হিংসাত্মক কার্যকলাপের অভিযোগ নিয়ে খবর করায় তারা নানাভাবে দুই সম্পাদককে হুমকী ধমকি দিচ্ছেন।
শাসক জোটের দুই বিধায়ক রাম প্রসাদ পাল ও রঞ্জিত দেববর্মা ।
বৃহত্তর গণতন্ত্রের স্বার্থে বিধানসভার এই দুই সদস্যের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানানো হয়।
তাঁরা নিজেদের অপকর্মের অভিযোগগুলি আড়াল করতে অনৈতিক ভাবে সাংবিধানিক পদ ব্যবহার করে সাংবাদিকদের জুজু দেখাচ্ছেন। তাঁদের উদ্দেশ্যে প্রনোদিত এই কার্যকলাপ সাংবাদিক ও সরকারের সম্পর্কের অবনতি ঘটাচ্ছে বলে বক্তারা অভিমত ব্যক্ত করেন। বৃহত্তর গণতন্ত্রের স্বার্থে বিধানসভার এই দুই সদস্যের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহনের দাবী জানানো হয়।
।গণ অবস্থানস্থলে উপস্থিত সাংবাদিকরা।
নির্দিষ্ট আয়ের নিচে বসবাসকারী সাংবাদিকদের নিজ নিজ কর্মস্থলের নিকটবর্তী শহরে ঘর বানানোর জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণে জমি দিতে হবে।
রাজ্যের মিডিয়া শিল্পের উৎকর্ষতা বৃদ্ধি ,সাংবাদিক ও সংবাদকর্মীদের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে এবং অপর তিনটি স্তম্ভের মতোই সমমর্যাদায় সামাজিক প্রতিষ্ঠার জন্য যেসব দাবি তোলা হয়ছে সেগুলো হলো – রাজ্যের সকল সংবাদ মাধ্যমের সাংবাদিক ও সংবাদ কর্মীদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে। নির্দিষ্ট আয়ের নিচে বসবাসকারী সাংবাদিকদের নিজ নিজ কর্মস্থলের নিকটবর্তী শহরে ঘর বানানোর জন্য নির্দিষ্ট পরিমাণে জমি দিতে হবে।
সাংবাদিকদের নিয়ে বিধায়ক রাম প্রসাদ পালের মন্তব্যের অংশ গণ অবস্থান স্থলের এলইডি স্ক্রিনে তুলে ধরার ছবি।
স্বীকৃত সংবাদ মাধ্যম সমূহের (প্রিন্ট, ওয়েব পোর্টাল, ও টি ভি) বিজ্ঞাপনের হার ও মূল্য দ্বিগুন বৃদ্ধি করা।
২০২৬-২৭ অর্থবর্ষের বাজেটে সাংবাদিক কল্যাণ তহবিলে ৫০ লক্ষ টাকা বরাদ্দ করে, পরবর্তী অর্থ বর্ষগুলিতে বাজেটে নির্দিষ্ট আর্থিক বরাদ্দ রাখা। আসন্ন বাজেটে সাংবাদিকদের পেনশন এবং পারিবারিক পেনশনের পরিমাণ বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ করা। স্বীকৃত সংবাদ মাধ্যম সমূহের সংবাদ ভবনের বিদ্যুৎ মাশুলে ৫০ শতাংশ ছাড় দেওয়া। স্বীকৃত সংবাদ মাধ্যম সমূহের (প্রিন্ট, ওয়েব পোর্টাল, ও টি ভি) বিজ্ঞাপনের হার ও মূল্য দ্বিগুন বৃদ্ধি করা। সাপ্তাহিক পত্রিকা সমূহকে বিশেষ বিজ্ঞাপন নীতির আওতায় এনে নিয়মিত বিজ্ঞাপন প্রদান করা।
প্রতীকী ছবি।
এছাড়া রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে কলুষিত করে যারা প্রশাসনিক ক্ষমতা ও সাংবিধানিক পদ ব্যবহার করে সোশ্যাল মিডিয়ার মাধ্যমে সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের কন্ঠরোধ করার চেষ্টা করছে, সেসব অধঃপতিত ব্যক্তি ও ব্যক্তিবর্গের বিরুদ্ধে দৃঢ় শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা। বিভিন্ন অসামাজিক ও অপরাধমূলক কাজে অভিযুক্ত শাসক জোটের দুই বিধায়ক রামপ্রসাদ পাল ও রঞ্জিত দেব্বর্মা ক’মাস ধরে সাংবিধানিক ক্ষমতার জোরে নিজেদের কদর্য অতীত ধামাচাপা দিতে বরিষ্ঠ সাংবাদিক ও সম্পাদকদের উপর যে অনৈতিক প্রশাসনিক চাপ সৃষ্টি করে সংবাদ বান্ধব সরকারকে বেকায়দায় ফেলার চেষ্টা করছেন তা প্রতিহত করা এবং অভিযুক্ত দুই বিধায়কের বিরুদ্ধে দ্রুত তদন্ত শুরু করা।
রাজ্যের চির বঞ্চিত পত্রিকা বিতরকদের ( হকার) জন্য গ্রুপ ইন্সুরেন্স চালু সহ মাসিক বিশেষ ভাতা চালুর ব্যবস্থা করা।
দীর্ঘ নয় বছর ধরে চলতে থাকা শহীদ সাংবাদিক সুদীপ দত্ত ভৌমিক ও শান্তনু ভৌমিকের বিচার প্রক্রিয়ার দ্রুত নিষ্পত্তি ঘটিয়ে অপরাধীদের শাস্তি বিধানে রাজ্য সরকারকে দৃঢ় ভূমিকা পালন করতে হবে। যানবাহনে প্রেস স্টিকারের অনৈতিক ব্যবহার বন্ধে নির্দিষ্ট নির্দেশিকা কার্যকর করতে হবে।
রাজ্যের প্রায়ত দুই সাংবাদিক সুদীপ – শান্তনু।
রাজ্যের চির বঞ্চিত পত্রিকা বিতরকদের ( হকার) জন্য গ্রুপ ইন্সুরেন্স চালু সহ মাসিক বিশেষ ভাতা চালুর ব্যবস্থা করা ইত্যাদি। উদ্যোক্তাদের পক্ষ থেকে এক প্রেস বিবৃতিতে সম্পাদক শানিত দেবরায় ও প্রণব সরকার যৌথ ভাবে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।