“গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিধায়ক রাম প্রসাদ পাল রাজ্যের প্রথম সারির দৈনিক “আজকের ফরিয়াদ ” পত্রিকা ও নিউজ নাও চ্যানেলের সম্পাদক শানিত দেবরায়ের বাড়ির সামনে বেআইনি ভাবে লোকজন জমায়েত করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভ সভায়  শানিত দেবরায়ের একটি ছবিতে লাল কালিতে ‘ক্রস চিহ্ন’ দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিলেন রাম প্রসাদ। “

আগরতলা, ২৫ ফেব্রুয়ারি।।
                   রাজ্যের শাসক জোটের দুই বিধায়ক রাম প্রসাদ পাল ও রঞ্জিত দেববর্মার বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ স্তরের তদন্তের দাবিতে সাংবাদিকরা  ডেপুটেশন দিয়েছেন মাননীয় রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু’র কাছে। বুধবার বিকালে আগরতলায় “লোকভবনে” মাননীয় রাজ্যপালের সঙ্গে সাংবাদিকরা সাক্ষাৎ করেন। এবং  তাঁর হাতে লিখিত ভাবে তুলে দিয়েছেন দুই বিধায়কের বিরুদ্ধে থাকা নানান অসামাজিক কার্যকলাপের তথ্য। উপস্থিত ২১ জন সাংবাদিকের প্রতিনিধি হিসাবে  শানিত দেবরায়, সেবক ভট্টাচার্য, প্রনব সরকার, ড: বিশ্বেন্দু ভট্টাচার্য, দিবাকর দেবনাথ ও অভিজিৎ ঘোষের সঙ্গে রাজ্যপাল অলোচনায় মিলিত হন। ডেপুটেশন কালে উপস্থিত সাংবাদিকরা সাম্প্রতিক কালে শাসক জোটের দুই বিধায়ক রাম প্রসাদ পাল ও রঞ্জিত দেববর্মার বিভিন্ন অসাংবিধানিক কার্যকলাপের বিষয়ে রাজ্যপালকে অবগত  করেন।
   গত ১৪ ফেব্রুয়ারি বিধায়ক রাম প্রসাদ পাল রাজ্যের প্রথম সারির দৈনিক “আজকের ফরিয়াদ ” পত্রিকা ও নিউজ নাও চ্যানেলের সম্পাদক শানিত দেবরায়ের বাড়ির সামনে বেআইনি ভাবে লোকজন জমায়েত করে বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। বিক্ষোভ সভায়  শানিত দেবরায়ের একটি ছবিতে লাল কালিতে ‘ক্রস চিহ্ন’ দিয়ে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছিলেন রাম প্রসাদ। শানিত দেবরায় সম্পর্কে নানান মিথ্যা তথ্য দিয়ে  সমাজে তাঁর সুনাম নষ্ট করার চেষ্টা করেছেন এই বাহুবলী বিধায়ক। তাতে গোটা রাজ্যের গোটা সংবাদ জগতে তৈরী হয় এক অজানা আতঙ্ক।  বিধায়ক রাম প্রসাদ পালের বিরুদ্ধে  শানিত দেবরায় এডি নগর থানায় মামলা দায়ের করলেও পুলিশ এখন পর্যন্ত অভিযুক্তদের গ্রেফতার করে নি।এই পরিবেশ অবশ্যই রাজ্যের গনতন্ত্রের আকাশে ঢেকে আনছে ঘোর কালো মেঘ।


রাজ্যের প্রাক্তন জঙ্গি নেতা তথা তিপ্রামথার বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মার কালো দিক সংবাদ মাধ্যম তুলে ধরে ছিলো প্রথম সারির টিভি চ্যানেল” হেডলাইন্স ত্রিপুরা”। এরপর থেকে টিভি চ্যানেলের সম্পাদক প্রণব সরকারকে  সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে গালাগাল দেওয়া সহ নানান ভাবে মিথ্যা অপবাদ দিয়ে থাকেন রঞ্জিত। নানাভাবে দিচ্ছেন হুমকি ও করছেন অবমাননাকর মন্তব্য। অথচ রঞ্জিত দেববর্মা এক সময় সাধারন মানুষের রক্তের হোলি খেলেছিলেন। রাজ্যকে করেছিল রক্তস্নাত। রঞ্জিত এখনো তার পূর্বের মানসিকতা পরিবর্তন করতে পারেন নি।
তিনি নিয়মিত ভাবে সমাজ মাধ্যমে  সাম্প্রদায়িক উস্কানি মূলক বক্তব্য রাখছেন। এবং সাংবাদিকদের মধ্যে ছড়িয়ে দিচ্ছেন হুমকির বার্তা। সম্পাদক প্রনব সরকার বিধায়ক রঞ্জিত দেববর্মার বিরুদ্ধে ধারাবাহিক ভাবেই ছয়টি মামলা দায়ের করেছেন। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলেও সত্যি, পুলিশ একটি মামলাও লিপিবদ্ধ করে নি।
  রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি নাল্লু ডেপুটেশন প্রদানকারী সাংবাদিকদের সমস্ত কথা মনযোগ সহকারে শুনেছেন। এবং তিনি এই সমস্ত ঘটনার একটা বিহিত করবেন বলে আশ্বস্ত করেন। এক প্রেস বিবৃতির মাধ্যমে এই খবর নিশ্চিত করেছেন দুই সম্পাদক শানিত দেবরায় ও প্রনব সরকার।




Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *