৯ ফেব্রুয়ারী আগরতলা রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের সম্মুখভাগের রাস্তায় ধর্মনগর থেকে সাব্রুম পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলের প্রিন্ট, পোর্টাল, অডিও ভিস্যুয়াল, সাপ্তাহিক সংবাদ মাধ্যম সমূহের ফটো জার্নালিস্ট, জার্নালিস্ট সহ বিভিন্ন শ্রেণীর সাংবাদিক ও সংবাদ কর্মী ও পত্রিকা বিতরকরা জামায়ের হবে।
ডেস্ক রিপোর্টার,৮ ফেব্রুয়ারি।।
দীর্ঘদিন ধরে রাজ্যের মাটিকে সহনশীল, গণতান্ত্রিক ও অপরাধ শূন্য রাখার সংগ্রামে যেমন আমরা চতুর্থ স্তম্ভকে হাতিয়ার করে, পরস্পর পরস্পরের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে লড়ে চলেছি, তেমনি নিজেদের পেশাগত ও ব্যক্তিগত অস্তিত্বকে সুরক্ষিত রাখার তাগিদেও বারবার এই লড়াইকে জোরদার করেছি।
বহুদিন পর ডাঃ মানিক সাহার নেতৃত্বে একটি তুলনামূলক ভাবে সহিষ্ণু ও গণতান্ত্রিক চেতনা সম্পন্ন সরকার প্রত্যন্ত এই রাজ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। এতে, রাজ্যের প্রিন্ট, অডিও-ভিস্যুয়াল ও পোর্টাল সাংবাদিকদের উপর সুপরিকল্পিত রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের মাত্রা যেমন হ্রাস পেয়েছে, তেমনি কাজের পরিধিও বিস্তৃত হয়েছে। কিন্তু, এতে আত্মসন্তুষ্ট থাকার কোনো অবকাশ নেই। অবকাশ নেই হাতে হাত রেখে নিষ্চেষ্ট থাকার। কারণ, মাঝেমাঝেই নিরবিচ্ছিন্ন আপাত শান্তির বাতাবরণকে বিদীর্ণ করে, কয়েকটি বিশেষ প্রান্ত থেকে আবার উচ্চকিত হচ্ছে হায়েনার কুৎসিত হাসি। রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার আড়ালে রাজনীতিবিদ হিসেবে আত্মগোপন করে থাকা কিছু অশুভ শক্তি পুনরায় সক্রিয় হয়েছেদীর্ঘ সংগ্রাম তথা রক্ত, ঘাম ও শ্রমের বিনিময়ে অর্জিত সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের এই গণতান্ত্রিক অধিকার তথা পেশাগত প্রতিবেশকে বিনষ্ট করার ষড়যন্ত্রে। এরা একদিকে যেমন সাংবাদিকদের শ্রম ও লড়াইয়ের বিনিময়ে অর্জিত অধিকারকে খর্ব ও সংকুচিত করতে চাইছে, অন্যদিকে, এরা শকুনির কুৎসিত অভিপ্রায়ে, রাজ্যের সংবাদমাধ্যম ও সাংবাদিকদের ঐতিহ্যবাহী ঐক্যের সমৃদ্ধ মাটিতে বপন করতে চাইছে ভাতৃঘাতী বিভেদ বীজ। এখুনি এর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াতে না পারলে ক্রমবিস্তৃত হবে শকুনিদের এই অশুভ প্রয়াস। রাজ্যের সদা সংগ্রামী সাংবাদিক সমাজ আপাত পরিতৃপ্তির আবরণে দীর্ঘকাল নিষ্চেষ্ট থাকার কারণেই যে মাথার উপরের বিস্তৃত নীল আকাশে আবার ভেসে উঠেছে বিষাক্ত নিঃশ্বাসবাহী শকুনির দল, এতে কোনো সন্দেহ নেই। তাই, রবীন্দ্র অনুসারী হয়ে, এবারের স্লোগান, *জাগার বেলা হল।*
এই দৃষ্টিভঙ্গি ও স্লোগানকে সামনে রেখে আগামী ৯ ফেব্রুয়ারী আগরতলা রবীন্দ্র শতবার্ষিকী ভবনের সম্মুখভাগের রাস্তায় ধর্মনগর থেকে সাব্রুম পর্যন্ত বিস্তৃত অঞ্চলের প্রিন্ট, পোর্টাল, অডিও ভিস্যুয়াল তথা সাপ্তাহিক সংবাদ মাধ্যম সমূহের ফটো জার্নালিস্ট, জার্নালিস্ট সহ বিভিন্ন শ্রেণীর সাংবাদিক ভাইদের তথা পত্রিকা বিতরক সহ সমস্ত সংবাদ কর্মীদের বেলা ১১টার মধ্যে উপস্থিত হওয়ার সংগ্রামী ও হার্দিক আবেদন জানিয়েছে নেতৃত্ব।
ঐদিনের জমায়েত থেকে আমরা রাজ্যের মাননীয় মুখ্যমন্ত্রীর সাথে প্রতিনিধিত্বমূলক সাক্ষাৎ শেষে নিম্নে উল্লেখিত দাবি সনদ পেশ করবো।

সময়োচিত দাবিসনদ*
*ক)* অবিলম্বে রাজ্যের সমস্ত শ্রেণীর সংবাদ মাধ্যম ও সাংবাদিকদের নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করতে হবে।
*খ)* অনন্তকাল ধরে চলতে থাকা শহীদ সাংবাদিক সুদীপ দত্তভৌমিক ও শান্তনু ভৌমিকের বিচার প্রক্রিয়ার দ্রুত নিষ্পত্তি ঘটিয়ে অপরাধীদের শাস্তিবিধানে রাজ্য সরকারকে দৃঢ় ভূমিকা পালন করতে হবে।
*গ)* রাজ্যের গণতান্ত্রিক পরিবেশকে কলুষিত করে, যারা প্রশাসনিক ক্ষমতা ও সোশ্যাল মিডিয়ার অপব্যবহারের মাধ্যমে রাজ্যের ঐতিহ্যবাহী চতুর্থ স্তম্ভের কন্ঠ রোধের চেষ্টা করছে, সেই সমস্ত অধঃপতিত ব্যক্তি ও ব্যক্তিবর্গের নিকৃষ্ট অভিপ্রায় রোধ করে, তাদের বিরুদ্ধে দৃঢ় শাস্তিমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।
*ঘ)* নির্দিষ্ট আয়রেখার নিচে অবস্থিত শহর ও জেলা সাংবাদিকদের জন্য, নির্দিষ্ট পরিমান বসবাসের জমি বিনামূল্যে প্রদান করতে হবে।
*ঙ)* আগামী বাজেটে, ‘সাংবাদিক কল্যাণ তহবিলের’ অর্থ বরাদ্দ দ্বিগুণ করে, পেশাগত কাজে সাংবাদিকদের নিরাপত্তার অনুভব বৃদ্ধি করতে হবে।
*চ)* আগামী বাজেটে, সাংবাদিকদের ব্যক্তিগত ও পারিবারিক পেনশনের পরিমান বর্তমানের তুলনায় দ্বিগুণ করতে হবে।
*ছ)* স্বীকৃত সংবাদ মাধ্যম সমূহের সংবাদ ভবনে ব্যবহৃত বিদ্যুৎ বিলে পঞ্চাশ শতাংশ ছাড় দিতে হবে।
*জ)* স্বীকৃত সংবাদমাধ্যম সমূহের (প্রিন্ট, পোর্টাল ও অডিও ভিস্যুয়াল) বিজ্ঞাপন প্রাপ্তির হার দ্বিগুণ বৃদ্ধি করে, মূলবৃদ্ধির সূচক অনুযায়ী দ্বিগুণ হারে বিজ্ঞাপনের মূল্যবৃদ্ধি করতে হবে।
*ঝ)* সাপ্তাহিক পত্রিকা সমূহকে নির্দিষ্ট বিজ্ঞাপন নীতির আওতায় এনে, নিয়মিত বিজ্ঞাপন প্রাপ্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
*ঞ)* প্রতিবেশী বাংলাদেশের রাজনৈতিক অস্থিরতাকে মাথায় রেখে ও মাদক পরিবহন সহ বিভিন্ন অপকর্মে *প্রেস স্টিকার*-এর অপব্যবহার রোধে, রাজ্য সরকারকে *প্রেস স্টিকার* ব্যবহারের ক্ষেত্রে নূতন নির্দেশিকা গ্রহণ করতে হবে।
*ট)* রাজ্যের চির বঞ্চিত পত্রিকা বিতরক (হকার) ভাইদের জন্য গ্রুপ ইনস্যুরেন্স চালু সহ রাজ্য সরকারের তরফে বিশেষ ভাতার বন্দোবস্ত করতে হবে।

