গৃহবধূর শ্বশুর সুনীল দাস ও তার স্ত্রী জানিয়েছেন,
“তাদের সাত বছরের নাতনি রোজ কান্নাকাটি করছে তার মায়ের জন্য। এই শিশুকে নিয়ে তারা পড়েছে অথৈ জলে। শিশুটিকে দেখাশুনা করারও কেউ নেই।” বৃদ্ধ দম্পতির কথায়, ” আমাদের কি অপরাধ ছিলো? বিভা এভাবে আমাদের প্রত্যেককেই পথে বসিয়ে গেলো? তার সন্তানের কথাও ভাবলো না?
কৈলাসহর ডেস্ক, ২৭ ফেব্রুয়ারি।।
ভালোবাসার টানে কি তবে মাতৃত্বের টানও ফিকে হয়ে যায়? কৈলাসহরের চন্ডিপুর বিধানসভা কেন্দ্রের শ্রীরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতে সন্ধান পাওয়া গেলো এমনই এক ঘটনার। নিজের গর্ভজাত ৭ বছরের কন্যা সন্তানকে ঘরে ফেলে পর পুরুষের হাত ধরে ঘর ছাড়লেন এক গৃহবধূ। তার নাম বিভা ঘোষ। ঘটনা গত বছরের ২৫ ডিসেম্বর। আজও প্রথম স্বামীর ঘরে ফিরে আসেন নি বিভা। কিন্তু তার সাত বছরের কন্যা আজও চেয়ে থাকে রাস্তার দিকে। কাঁদতে কাঁদতে জিজ্ঞাসা করে কবে ফিরে আসবে মা? শুক্রবার সংবাদমাধ্যমের সামনে এই করুন কাহিনী উত্থাপন করে কান্নায় ভেঙে পড়লেন পালিয়ে যাওয়া গৃহবধূ বিভা ঘোষের অসহায় শ্বশুর-শাশুড়ি।
চন্ডিপুরের শ্রীরামপুর গ্রাম পঞ্চায়েতের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা সুমন দাস। তার স্ত্রী বিভা ঘোষ। গত ২৫ ডিসেম্বর ব্যাংকে যাওয়ার নাম করে বাড়ি থেকে বের হন। কিন্তু দিন গড়িয়ে রাত হলেও তিনি আর বাড়িতে ফিরে আসেন নি।দীর্ঘ পাঁচ দিন আত্মীয়-স্বজন ও সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করার পর, গত ১৩ই ডিসেম্বর কৈলাসহর মহিলা থানায় একটি নিখোঁজ ডায়েরি করে।
পরবর্তী সময়ে পরিবারের লোকজন জানতে পারে, বিভা ঘোষের সঙ্গে ফটিকরায় রাধানগর এলাকার বাসিন্দা কিষান শর্মা নামে এক যুবকের ভালবাসার সম্পর্ক ছিলো। তার হাত ধরে স্বামী – সন্তানকে রেখে পালিয়েছেন বিভা। অথচ প্রায় ১০ বছর আগে সামাজিক প্রথা মেনে সুমন দাসের সাথে বিভা ঘোষের বিয়ে হয়েছিল। তাদের সাত বছরের একটি ছোট্ট কন্যাসন্তানও রয়েছে। সুখে-শান্তিতেই কাটছিল তাদের সোনার সংসার। কিন্তু হঠাৎ জীবনের ছন্দ পতন। বিভা পরিবর্তন করলো তার সঙ্গী। এবং ছোট কন্যার জীবনেও ডেকে আনলো ঘোর বিপর্যয়।
গৃহবধূর শ্বশুর সুনীল দাস ও তার স্ত্রী জানিয়েছেন,
“তাদের সাত বছরের নাতনি রোজ কান্নাকাটি করছে তার মায়ের জন্য। এই শিশুকে নিয়ে তারা পড়েছে অথৈ জলে। শিশুটিকে দেখাশুনা করারও কেউ নেই।” বৃদ্ধ দম্পতির কথায়, ” আমাদের কি অপরাধ ছিলো? বিভা এভাবে আমাদের প্রত্যেককেই পথে বসিয়ে গেলো? তার সন্তানের কথাও ভাবলো না? বর্তমানে মা-হারা শিশুটির ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম দুশ্চিন্তায় দিন কাটছে পুরো পরিবার।পুলিশ এই ঘটনার তদন্ত করলেও বিভার হদিশ পায় নি।

