গ্রামের একদল কচিকাঁচা ছেলে-মেয়ে নিজেদের উদ্যোগে আসন্ন পৌষ সংক্রান্তি কেন্দ্র করে বনভোজনের আনন্দে মেতে উঠতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে আলন্তি ঘর নির্মাণে। বাঁশ, খড়, পাতা ও বনজ উপকরণ ব্যবহার করে তারা গড়ে তুলেছে আলন্তি ঘর। কাজের ফাঁকে ফাঁকে তাদের প্রাণবন্ত হাসি, উৎসাহ ও পারস্পরিক সহযোগিতায় মুখরিত হয়ে ওঠেছে গোটা গ্রাম।
তেলিয়ামুড়া ডেস্ক, ২ জানুয়ারি।
একসময় পৌষ সংক্রান্তি মানেই ছিল বুড়িঘর কিংবা আলন্তি ঘর নির্মাণ, দলবদ্ধভাবে রান্না, খেলাধুলা ও সারাদিনব্যাপী আনন্দ-উৎসব। কিন্তু আধুনিকতার প্রভাবে আজ সেই লোক সংস্কৃতি অনেকটাই অতীতের স্মৃতিতে সীমাবদ্ধ হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের মধ্যে বুড়িঘর কিংবা আলন্তি ঘর তৈরির আগ্রহ প্রায় বিলুপ্তির পথে।
তবে এই চিত্রের মাঝেই এক আশাব্যঞ্জক ব্যাতিক্রমী দৃশ্য ধরা পড়েছে তেলিয়ামুড়া মহকুমার অন্তর্গত কৃষ্ণপুর বিধানসভার এক অজ গ্রাম বালুছড়া এলাকায়।
গ্রামের একদল কচিকাঁচা ছেলে-মেয়ে নিজেদের উদ্যোগে আসন্ন পৌষ সংক্রান্তি কেন্দ্র করে বনভোজনের আনন্দে মেতে উঠতে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে আলন্তি ঘর নির্মাণে।এই ঐতিহ্যবাহী আলন্তি ঘর নির্মাণে অগ্রণী ভূমিকা নিয়েছে শুভদ্বীপ বিশ্বাস, গুনগুন দাস, অন্বেষা বিশ্বাস, উর্মিলা বিশ্বাস ও রিপন বিশ্বাস। বাঁশ, খড়, পাতা ও বনজ উপকরণ ব্যবহার করে তারা গড়ে তুলেছে আলন্তি ঘরটি।
কাজের ফাঁকে ফাঁকে তাদের প্রাণবন্ত হাসি, উৎসাহ ও পারস্পরিক সহযোগিতায় মুখরিত হয়ে ওঠে গোটা এলাকা।

এই কচিকাঁচাদের মধ্যে লক্ষ্য করা যায় গ্রামীণ সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের প্রতি গভীর টান। তাদের এই উদ্যোগ শুধু একটি আলন্তি ঘর নির্মাণেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং হারিয়ে যেতে বসা পৌষ সংক্রান্তির বনভোজনের ঐতিহ্য’কে নতুন প্রজন্মের কাছে আবারও জীবন্ত করে তুলেছে।
স্থানীয়দের মতে, শুভদ্বীপ, গুনগুন, অন্বেষা, উর্মিলা ও রিপনের মতো শিশুদের এই উদ্যোগ নিঃসন্দেহে সমাজের কাছে এক ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। তাদের হাত ধরেই হয়তো ভবিষ্যতে আবারও প্রাণ ফিরে পাবে গ্রাম বাংলার লোক সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও পারিবারিক বন্ধনের আনন্দ।

