রাজনৈতিক নেতা – নেত্রীদের সঙ্গে স্ব-দলীয় কর্মী সমর্থকদের ছবি থাকবে। শাসক – বিরোধী উভয় দলের নেতা-নেত্রীরাই তাদের সমর্থকদের সঙ্গে ক্যামেরার লেন্সের আলোতে আলোকিত হন।এটাই স্বাভাবিক। এবং রেওয়াজও বটে। আবার ব্যতিক্রমও আছে, কিছু সুযোগ সন্ধানী লোকজন ও অপরাধীরা পরিকল্পিত ভাবে নেতা – নেত্রীদের সঙ্গে ছবি তুলে নিজেদের “প্রোফাইলের” আড়ম্ভর বৃদ্ধি করে থাকে।

ডেস্ক রিপোর্টার, ২৫ মার্চ।।
       “ছবি”র রাজনীতিতে অধিবেশনের শেষ দিনে উত্তাল বিধানসভা। ছবি যদি সত্যি হয়, তাহলে ছবি ছবিতে ভেদাভেদ কেনো? একই ব্যক্তির সাথে একাধিক  মানুষের ছবি থাকলেও এক,এক ক্ষেত্রে তার ব্যাখ্যা আলাদা হবে কেনো? ব্যাখ্যার ভর কেন্দ্র তো থাকবে একই জায়গায়।এটা নেহাত সস্তা  রাজনীতি ছাড়া আর কিছুই নয় বটে। এমনই একটি ঘটনার প্রেক্ষাপট নিয়ে উত্তাল রাজ্য রাজনীতি।
        সাম্প্রতিক কালে রাজ্য রাজনীতি ও অপরাধের পরিমণ্ডলে ঘুরপাক খাচ্ছে বিশালগড়ের
গুলিকান্ডের মূল অভিযুক্ত রনবীর। নেপথ্যে রণবীরের সঙ্গে রাজনৈতিক নেতা – নেত্রীদের ফটো সেশন। নেতা – নেত্রীদের নামের তালিকাও বেশ লম্বা। তাদের সবাই যেন এখন ধোয়া তুলসী পাতা। যূপকাষ্ঠে শুধুই  বিশালগড়ের তরুণ বিধায়ক সুশান্ত দেব। এটা কেন হবে?

Table of Contents

রণবীরের ছাত্র অবস্থায় তার সঙ্গে তোলা বিধায়ক সুশান্ত দেবের ছবি।

তার মানে এই নয়, ফটো সেশনকারী সংশ্লিষ্ট  নেতা- নেত্রীরা  অপরাধীদের অপরাধ কার্যকলাপের  ইন্ধন দাতা বা অংশীদার।

রাজনৈতিক নেতা – নেত্রীদের সঙ্গে স্ব-দলীয় কর্মী সমর্থকদের ছবি থাকবে। শাসক – বিরোধী উভয় দলের নেতা-নেত্রীরাই তাদের সমর্থকদের সঙ্গে ক্যামেরার লেন্সের আলোতে আলোকিত হন।এটাই স্বাভাবিক। এবং রেওয়াজও বটে। আবার ব্যতিক্রমও আছে, কিছু সুযোগ সন্ধানী লোকজন ও অপরাধীরা পরিকল্পিত ভাবে নেতা – নেত্রীদের সঙ্গে ছবি তুলে নিজেদের “প্রোফাইলের” আড়ম্ভর বৃদ্ধি করে থাকে।
তার মানে এই নয়, ফটো সেশনকারী সংশ্লিষ্ট  নেতা- নেত্রীরা  অপরাধীদের অপরাধ কার্যকলাপের  ইন্ধন দাতা বা অংশীদার। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলেও সত্যি,
” ছবি”র সস্তা রাজনীতিকে আঁকড়ে ধরেই রাজনীতির রসদ খুঁজে বেড়াচ্ছেন শাসক – বিরোধী উভয় শিবিরের নেতা – নেত্রীদের একাংশ।
            

বিজেপির বাইক মিছিলে বিধায়কের সঙ্গে রণবীর।

কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়,  অতীতের মেধাবী হালের অপরাধী রনবীরের সঙ্গে একই বাইক বসে সওয়ার হয়েছিলেন বিজেপির যুব নেতা তথা টিআইডিসি চেয়ারম্যান নবাদল বণিক।

বিশালগড়ের যুবক রণবীর দেবনাথের গুলি কাণ্ডের পর স্থানীয় বিধায়ক সুশান্ত দেবকে বেলাইন করতে ছবি সস্তা রাজনীতিতে মত্ত হয়ে উঠেছে স্ব-দলীয় বিরোধী শিবির। রাজনৈতিক ভাবে বিরোধী দলগুলি তো সুর চড়া করবে স্বাভাবিক নিয়মেই। খবর অনুযায়ী, অভিযুক্ত রনবীর দেবনাথের ছাত্রাবস্থার সময় বিধায়ক সুশান্ত দেবের সাথে  দুটি ছবি কবর থেকে তুলে এনে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করেছে বিরোধী শক্তির চাইরা । কিন্তু আশ্চর্যের বিষয়,  অতীতের মেধাবী হালের অপরাধী রনবীরের সঙ্গে একই বাইক বসে সওয়ার হয়েছিলেন বিজেপির যুব নেতা তথা টিআইডিসি চেয়ারম্যান নবাদল বণিক। সমাজ মাধ্যমে থিক থিক করছে নবাদল –  রনবীরের অসংখ্য ছবি। তাহলে তো বলতেই বিধায়ক সুশান্ত যে দোষে দোষী, নবাদলও করেছেন একই দোষ।

রণবীরের বাইকে নবদল বণিক।

নবাদল বণিকের ঘনিষ্ঠ দাবি করা  ছিনতাইয়ের ঘটনার মূল অভিযুক্ত  নেশা কারবারী বলে পরিচিত পার্থর এক ফোন রেকর্ডিং ফাঁস হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয় নির পুলিশ।

শুধু তাই নয়,  ইতিপূর্বে পূর্বে চড়িলামে দিন দুপুরে গাড়ি ভাঙচুর এবং নেশা সামগ্রী ছিনতাই মামলায় যুক্তদের সাথে অসংখ্য ছবি রয়েছে বিশালগড় গুলি কাণ্ডের  মাস্টার মাইন্ড পার্থ সহ অন্যান্য অভিযুক্তদের । যাদের অনেককেই গ্রেপ্তার করেনি বা করতে পারেনি বিশালগড় পুলিশ। অভিযোগ, নিজেকে নবাদল বণিকের ঘনিষ্ঠ দাবি করা  ছিনতাইয়ের ঘটনার মূল অভিযুক্ত  নেশা কারবারী বলে পরিচিত পার্থর এক ফোন রেকর্ডিং ফাঁস হলেও তার বিরুদ্ধে কোনো পদক্ষেপ নেয় নির পুলিশ। সেখানেই একাধিক অভিযুক্তদের সাথে প্রভাবশালী নেতাদের ছবি ছিল। কিন্তু আশ্চর্যজনক ভাবে সেই ছবি নিয়ে চড়িলামের ঘটনার সাথে যুক্ত করে কোনো অপপ্রচার হয়নি।  কিন্তু,  প্রশ্ন হচ্ছে কেন..?

নবাদলের সঙ্গে সবুজ বৃত্তের মধ্যে থাকা যুবকটি কে? উত্তর দেবেন কি নেতাবাবু?

রনবীর সমাজদ্রোহী, তার যথাযোগ্য শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। শীঘ্রই তাকে গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনা আবশ্যক।

অবশ্যই বিশালগড়  সরেজমিনে পরিদর্শন করে এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পেয়েছে “জনতার মশাল”- র প্রতিনিধিরা। রনবীর সমাজদ্রোহী, তার যথাযোগ্য শাস্তি হওয়া প্রয়োজন। শীঘ্রই তাকে গ্রেপ্তার করে শাস্তির আওতায় আনা আবশ্যক।কিন্তু তার সাথে বিধায়ক সুশান্ত দেবের ছবি ভাইরাল করে রাজনৈতিক ভাবে তাকে কালিমালিপ্ত করার ষড়যন্ত্রে সামিল তারই দলের একাংশ। বিরোধীদের হাতে এই ছবি ‘ অস্ত্র ‘ তুলে দিয়েছে বিশালগড়ে সমান্তরাল ভাবে চলা বিজেপির  স্বদলীয় অপর  গোষ্ঠী।

ওরা কারা? গ্রেফতার নেই কেন?

প্রতিহিংসা মূলক নোংরা রাজনীতির শিকার হচ্ছেন বিশালগড়ের যুব বিধায়ক সুশান্ত দেব!

অর্থাৎ ঘুরিয়ে বললে বিজেপির বিরোধী এখন বিজেপিই। বিরোধী দলগুলিকে বিজেপির বিরুদ্ধে অস্ত্র তুলে দিচ্ছে খোদ স্বদলীয় নেতারাই। এই প্রতিহিংসা মূলক নোংরা রাজনীতির শিকার হচ্ছেন বিশালগড়ের যুব বিধায়ক সুশান্ত দেব।অথচ   সাম্প্রতিক ঘটনা সহ অতীতের একাধিক ঘটনায় রনবীর সহ অভিযুক্তদের দ্রুত গ্রেফতার করে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পুলিশের উপর চাপ সৃষ্টি করছেন খোদ বিধায়ক  সুশান্ত দেব নিজেই।


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *