গঙ্গানগর, গণ্ডাছড়া থানার পুলিশ গরু বোঝাই গাড়ি আটকানোর প্রয়োজন বোধ করে না। আর রইস্যাবাড়ির ওসি চৈতন্য রিয়াং-র রুমেই লেখা হয় পাচার সাম্রাজ্যের গেরুয়া স্ক্রিপ্ট। তবে বিএসএফের একাংশ সততার সঙ্গে কাজ করলেও অপর অংশ সম্পৃক্ততা বজায় রেখে চলছে পুলিশের সঙ্গে।
ডেস্ক রিপোর্টার, ৭ নভেম্বর।। আন্তর্জাতিক পাচার বাণিজ্যের “গ্রেট করিডোর” সীমান্ত মহকুমা গণ্ডাছড়ার রইস্যাবাড়ি সীমান্ত। গঙ্গানগর – গণ্ডাছড়ার বুক চিড়ে পাচার সামগ্রী আগরতলা থেকে পৌঁছায় রইস্যাবাড়িতে। শেষে রইস্যাবাড়ি থানার ওসি চৈতন্য রিয়াং-র রুম থেকেই পরিচালিত হয় পাচার সাম্রাজ্য। ওসি চৈতন্য রিয়াং-র বিরুদ্ধে এই অভিযোগ রইস্যাবাড়ি মানুষের মুখে মুখে শোনা যায়। শুধু কি তাই খোদ বিএসএফ ওসি চৈতন্য রিয়াং-র কার্যকলাপে ক্ষুব্ধ। তার জন্য সম্পূর্ণ ভাবে দায়ী গঙ্গানগর ও গণ্ডাছড়া থানা কর্তপক্ষ। দায় এড়াতে পারবেন না এসডিপিও সৌগত চকমা। দুই পুলিশ ফাঁড়ি কালাঝাড়ি ও তুইচাকমার পুলিশ বাবুরাও ধোয়া তুলসি পাতা নন।
রইস্যা বাড়ি সফরে রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি।
আগরতলা থেকে নিয়মিত কাপড়, চিনি সহ অন্যান্য পাচার সামগ্রী বোঝাই গাড়ি নিয়মিত পৌঁছায় রইস্যাবাড়িতে। তবে প্রতিদিন ২০ থেকে ২৫টি গরু বোঝাই গাড়ি নিয়ম করেই পৌঁছে যায় রইস্যাবাড়ির বাংলাদেশ সীমান্তে। গঙ্গা নগর, গণ্ডাছড়া থানার পুলিশ গরু বোঝাই গাড়ি আটকানোর প্রয়োজন বোধ করে না। আর রইস্যাবাড়ির ওসি চৈতন্য রিয়াং-র রুমেই লেখা হয় পাচার সাম্রাজ্যের গেরুয়া স্ক্রিপ্ট। তবে বিএসএফের একাংশ সততার সঙ্গে কাজ করলেও অপর অংশ সম্পৃক্ততা বজায় রেখে চলছে পুলিশের সঙ্গে।
।রইস্যাবাড়ি থানা।
রইস্যাবাড়ি সীমান্তের করিনা বিওপি’র বিএসএফ পাচার কালে ৩৫ টি গরু আটক করে। এই গরু নিতে অনীহা ওসি চৈতন্য’র ।
সম্প্রতি রইস্যাবাড়ি সীমান্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়েছিলেন রাজ্যপাল ইন্দ্রসেনা রেড্ডি।স্বাভাবিক ভাবেই রাজ্যপালের সীমান্ত পরিদর্শন কেন্দ্র করে বাংলাদেশ সীমান্তে ছিলো অতিরিক্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থা। তখনই রইস্যাবাড়ি সীমান্তের করিনা বিওপি’র বিএসএফ পাচার কালে ৩৫ টি গরু আটক করে।অভিযোগ, আটককৃত গরু বিএসএফ কর্তৃপক্ষ নিয়ম অনুযায়ী রইস্যাবাড়ি থানার কাছে হস্তান্তরের প্রস্তাব দেয়। কিন্তু অবাক করার বিষয় রইস্যাবাড়ি থানার ওসি চৈতন্য রিয়াং গরু গুলিকে নিতে অস্বীকার করছেন।চৈতন্যর বক্তব্য, ” তিনি এই গরু রাখতে পারবেন না”।
ওসি চৈতন্য রিয়াং- র র্যাকেটের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের পুলিশ কর্মী বিনোদ ত্রিপুরা।
স্থানীয় লোকজনের বক্তব্য, রইস্যাবাড়ি থানার ওসি চৈতন্য রিয়াং নিজেই গরু পাচার চক্রের সঙ্গে জড়িত। পাচার চক্রের এজেন্টদের নির্দেশেই ওসি চৈতন্য গরু গুলিকে নিতে চাইছেন না।চৈতন্য চাইছে গরু গুলি আগরতলা গো-শালায় না পাঠিয়ে বিএসএফকে ম্যানেজ করে পুনরায় পাচারকারীদের হাতে তুলে দিতে। তাই তাঁর এতো টালবাহানা।ওসি চৈতন্য রিয়াং- র র্যাকেটের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে পুলিশের স্পেশাল ব্রাঞ্চের পুলিশ কর্মী বিনোদ ত্রিপুরা। অর্থাৎ থানা পুলিশ – গোয়েন্দা পাচার চক্রের সঙ্গে মিলে মিশে একাকার।
।আইজিপি কৃষ্ণেন্দু চক্রবর্তী।
ভেকধারি বিজেপির জল্লাদ নেতারাই গো – মাতাকে জব দেওয়ার জন্য ওপার সীমান্তের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে।
চক্রের নেপথ্যে অবশ্যই রয়েছে শাসক দলের গেরুয়া নেতাদের কালো হাত। আর তাতেই নাকি ভয়ে সিটিয়ে আছেন গণ্ডাছড়ার এসডিপিও সৌগত চাকমা। তিনি দায়িত্ব গ্রহন করে বেশ কয়েকটি সফল অভিযান করেছিলেন পাচারকারীদের বিরুদ্ধে। এরপরেই তার হাতে বেরি পড়িয়ে দিয়েছেন আন্তর্জাতিক পাচার চক্রের পিন কিং অর্থাৎ গেরুয়া বাহিনীর গৈরিক নেতারা। ছিঃ ছিঃ। তারাই নাকি আবার গরুকে গো – মাতা হিসাবে পুজা করে থাকে। আর এই ভেকধারি বিজেপির জল্লাদ নেতারাই গো – মাতাকে জব দেওয়ার জন্য ওপার সীমান্তের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দিতে মুখ্য ভূমিকা পালন করে থাকে।
থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশের অপরাধ সংক্রান্ত কার্যকলাপ কি আই জি কৃষ্ণেন্দু চক্রবর্তীর কর্ণ কুহরে পৌঁছছে না।
সাধারণ মানুষের প্রশ্ন, কোথায় পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ? পুলিশ মাহানির্দেশক অনুরাগ ধ্যানকরের পক্ষে হয়তো বা সম্ভব নয় পুরো খবর রাখা। কিন্তু পুলিশের ইন্টেলিজেন্সের আই জি কৃষ্ণেন্দু চক্রবর্তীও কি নিশি ঘুমে আচ্ছন্ন? আমেরিকা ভ্রমণ করে তিনি এখন রাজ্যে এসেছেন। কিন্তু কোনো থানা পুলিশ, গোয়েন্দা পুলিশের অপরাধ সংক্রান্ত কার্যকলাপ কি আই জি কৃষ্ণেন্দু চক্রবর্তীর কর্ণ কুহরে পৌঁছছে না। এটা কার ব্যর্থতা? ইন্টেলিজেন্সের আই জি কৃষ্ণেন্দু চক্রবর্তী নিজে গিয়ে সফর করে আসতে পারেন রইস্যা সীমান্তের রতন নগর, করিনা বিওপি, ডাইক – ওয়ান, চাপলিং সহ আশপাশ এলাকা। তখনই বুঝে যাবেন তিনি।