তেলিয়ামুড়া ডেস্ক, ২১ মার্চ।।
    গ্রাম-পাহাড়ের সহজ-সরল মানুষের অসহায়তাকে পুঁজি করে ফের সক্রিয় দালালচক্র—এমনই এক গুরুতর অভিযোগ ঘিরে চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে তেলিয়ামুড়া মহকুমায়। সরকারি নথিপত্র তৈরির নামে হাজার হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে মুঙ্গিয়াকামি ব্লকের আঠারোমুড়া পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত ৪৭ মাইল এলাকা এবং সংলগ্ন জনজাতি অধ্যুষিত মহল্লাগুলিতে।
      জানা গিয়েছে, প্রায় দু’বছর আগে ইন্দ্রজিৎ মলসমের পরিবারের সদস্যদের আধার কার্ড ও জন্ম শংসাপত্র তৈরির জন্য তেলিয়ামুড়ার নেতাজি নগর এলাকায় একটি সরকারি দপ্তরের সামনে বসে থাকা এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়। অভিযোগ, ‘সহায়ক’ পরিচয়ে সুমন নামে ওই ব্যক্তি ধাপে ধাপে মোট ৬ হাজার টাকা নেন। পরিবারের দাবি, সরকারি নিয়ম মেনেই ছবি তোলাসহ যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হয়েছিল।কিন্তু অভিযোগ, সময় গড়িয়ে দু’বছর পেরিয়ে গেলেও আজও হাতে মেলেনি কোনও নথি। না আধার কার্ড, না জন্ম শংসাপত্র। বারবার যোগাযোগের চেষ্টা করেও কোনও সাড়া মেলেনি বলে অভিযোগকারীদের দাবি। ইন্দ্রজিৎ মলসমের স্ত্রীর কথায়, “আমাদের মতো পাহাড়ি সাধারণ মানুষদের গুরুত্বই দেওয়া হয় না। বারবার গিয়েও কোনও ফল পাইনি।”শুধু একটি পরিবার নয়, একই ধরনের প্রতারণার শিকার আরও বহু জনজাতি পরিবার—এমনটাই দাবি স্থানীয় বাসিন্দাদের। তাঁদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরেই এলাকায় একটি সক্রিয় দালালচক্র সরকারি পরিষেবার নামে অর্থ আদায় করে চলেছে।অন্যদিকে, বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও উঠছে প্রশ্ন। স্থানীয়দের দাবি, একাধিকবার অভিযোগ জানানো হলেও মহকুমা প্রশাসনের তরফে এখনও পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনও পদক্ষেপ করা হয়নি। এই নীরবতা ঘিরে এলাকায় বাড়ছে ক্ষোভ ও জল্পনা।উল্লেখ্য, অতীতে বিভিন্ন অভিযোগের ভিত্তিতে মহকুমা শাসকের কার্যালয়ের অধীন একাধিক পদাধিকারীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—কখনও বহিষ্কার, কখনও শোকজ নোটিশ। তবু বর্তমান পরিস্থিতিতে প্রশাসনের নিষ্ক্রিয়তা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন অনেকেই।গ্রাম-পাহাড়ের প্রান্তিক মানুষদের সঙ্গে এমন প্রতারণার অভিযোগ সামনে আসায় দ্রুত প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ ও দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবিতে সরব হয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাঁদের প্রশ্ন—সরকারি ব্যবস্থার ফাঁক গলেই কি এই দালালচক্র এতদিন ধরে সক্রিয়, নাকি এর আড়ালে রয়েছে আরও গভীর কোনও যোগসাজশ?
        
    


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *