ডেস্ক রিপোর্টার ,৩ ডিসেম্বর।

  “না লড়তে পারলে বলো,

 না বলতে পারলে লেখো, 

না লিখতে পারলে সঙ্গ দাও,

 না সঙ্গ দিতে পারলে যারা কাজ করছে, 

তাদের মনোবল বাড়াও, 

যদি তাও না পারো,

 যে পারছে তার মনোবল কমিয়ো না, 

কারণ সে তোমার ভাগের লড়াই লড়ছে।…..”

কবি দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনের প্রথম শহীদ ক্ষুদিরাম বসু। বুধবার তাঁর ১৩৭ তম জন্মদিন। ক্ষুদিরামের জন্মদিনে বাঙালি সংখ্যাগরিষ্ঠ রাজ্যে নেই কোনো আড়ম্ভর। হাতে গুনা কয়েকটি সংস্থা ক্ষুদিরামের জন্মদিন পালন করেছে।তাদের মধ্যে অন্যতম ক্ষুদিরাম বসু স্মৃতি রক্ষা কমিটি।আগরতলায়  ত্রিপুরা স্টেট মিউজিয়ামের সামনে তারা যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করেছে ক্ষুদিরামের জন্মদিন।


আজকের দিনে গোটা দেশেই ছন্নহীন বাঙালি। অভিযোগ,হিন্দি বলয় বাঙালিকে তিলে তিলে হত্যার ষড়যন্ত্র করছে! সম্প্রতি দেশ জুড়ে তার বহু দৃষ্টান্ত রয়েছে। গত কয়েক মাস আগে সর্ব ভারতীয় বিজেপির আইটি ইনচার্জ বলেছিলেন, ” ভারত বাংলা নামে কোনো ভাষা নেই। বাংলা মানেই বাংলাদেশী ভাষা।” উওর প্রদেশে পাঠ্য পুস্তক থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে রবীন্দ্র নাথকে। সংসদে শীত কালীন অধিবেশন থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছে বঙ্কিম চন্দ্রের বন্দে মাতরম ও সুভাষ চন্দ্র বসু জয় হিন্দ ধ্বনি। সম্প্রতি মধ্যপ্রদেশের এক বিজেপি সাংসদ ব্রিটিশ ভারতের বাংলার নব জাগরণের হোতা রাজা রামমোহন রায়কে ব্রিটিশের দালাল ও ভুয়ো সমাজ সংস্কারক বলে মন্তব্য করেছেন। উওর প্রদেশের বিজেপির আরেক সাংসদ রবীন্দ্র নাথকে নিয়ে বলেন, ” পঞ্চম জর্জকে খুশি করতে রবীন্দ্র নাথ জনগণমন গানটি রচনা করেছিলেন। এই কারণেই তিনি জনগণমন গানটিকে জাতীয় সঙ্গীত থেকে বাদ দেওয়ার দাবী করেন। নরেন্দ্র মোদী দেশের মসনদে বলে ঘোষণা দিয়েছিলেন, ” নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসুর রহস্য জনক অন্তর্ধান সংক্রান্ত ফাইল উন্মোচন করা হবে।” কিন্তু আজও সমস্ত ফাইল লাল ফিতায় বাঁধা।


বর্তমান সময়ে গোটা দেশে বাঙালিদের চূড়ান্ত অপমান করছে হিন্দি বলয়। অথচ দেশের স্বাধীনতার জন্য বাঙালিরাই সবচেয়ে বেশি রক্ত ঝরিয়েছে। বাঙালির জন্যই দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছে ব্রিটিশ। কিন্তু আজ পরিকল্পিত ভাবে এই বাঙালি জাতির টুটি চেপে ধরতে সমস্ত স্ক্রিপ্ট রচনা করছে কুচক্রিরা। শুধু কি তাই, আজ দেশের বহু জায়গাতেই বাঙালিদের। প্রশাসনিক ভাবে বিদেশী হিসাবে চিহ্নিত করার চেষ্টা চলছে।


নেতাজি – ক্ষুদিরাম – সূর্য সেনদের রক্ত যে জাতির শিরা – ধমনীতে প্রবাহিত হচ্ছে, আজ তারাই অপমানিত হচ্ছে গোটা দেশে। এই পরিস্থিতিতে গোটা দেশে প্রয়োজন বাঙালী জাতির নব জাগরণ। এই নব জাগরণ করতে হলে ক্ষুদিরাম বসুর “লড়ো” নামক
কবিতাটি যথেষ্ট গুরুত্ব পূর্ন। তবে অস্তিত্ব বিপন্নের সামনে দাঁড়িয়েও বাঙালিকে ভয় কুঁকড়ে রেখেছে।প্রতিবাদ করতে আটকে যাচ্ছে তাদের ঠোঁট। অথচ এই বাঙালি জাতিকে এক সময়ে “ভারতের ইহুদী” হিসাবে ডাকা হতো । সবচেয়ে আশ্চর্যের বিষয়, আজ বাঙালির ঘরে ঘরেই অপ্রাসঙ্গিক রবীন্দ্র নাথ, বাঙালির কন্ঠে উচ্চারণ হয় নি সুভাষ চন্দ্র বসুর রহস্যজনক অন্তর্ধানের ফাইল জন সম্মুখে আনার বিষয়টি। আর ক্ষুদিরাম, বিনয় – বাদল – দীনেশ সহ সমস্ত বাঙালি স্বাধীনতা সংগ্রামীদের জন্মদিন বা মৃত্যু দিন ।পালিত হয় শুধু মাএ নিয়ম রক্ষার জন্য। তাও খুবই সল্প পরিসরে।দেশের আপামর বাঙালি ভুলেই গেছেন তাদের বীরত্ব – ঐতিহ্য। তাই বাঙালি এখন মলিন কলাপাতার মতো। এই পরিস্হিতিতে গোটা দেশে কিছু বাঙালি চেষ্টা করছেন জাতির হারানোর গৌরব ফিরিয়ে আনার জন্য। তবে মাঝে মধ্যেই ভেঙে যায় তাদের মনোবল।তাদেরকে গ্রাস করে হতাশা। নেপথ্যে স্ব – জাতিদের বেইমানি ও ধান্দাবাজি। তখনই মনে পড়ে ক্ষুদিরামের কবিতার নিম্ন লিখিত পংক্তি গুলি…
   “না সঙ্গ দিতে পারলে যারা কাজ করছে,
                     তাদের মনোবল বাড়াও,
                         যদি তাও না পারো,।”
যে পারছে তার মনোবল কমিয়ো না,।”


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *