আগরতলা ডেস্ক,২০ ফেব্রুয়ারি।।
রাজ্যে আসছেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ। শুক্রবার তিনি হাঁপানিয়াস্থিত আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণের ইন্ডোর হলে পূর্ব, উত্তর-পূর্ব এবং উত্তর অঞ্চলের যৌথ আঞ্চলিক রাজভাষা সম্মেলনের উদ্বোধন করবেন। এই সম্মেলনে কেন্দ্রীয় সরকারের বিভিন্ন কার্যালয়ের আধিকারিকগণ, পিএসইউ, বিভিন্ন ব্যাঙ্কের কর্মকর্তা সহ ৩ হাজারেরও বেশি প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করবেন। বৃহস্পতিবার স্টেট গেস্ট হাউসে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীনস্থ রাজভাষা বিভাগের সচিব অংশুলি আর্য একথা জানিয়েছেন।। তিনি বলেন, এই রাজভাষা সম্মেলনে দেশের পূর্ব অঞ্চলের পশ্চিমবঙ্গ, উড়িষ্যা, বিহার, ঝাড়খন্ড, উত্তর-পূর্ব অঞ্চলের ৮টি রাজ্য এবং উত্তর অঞ্চলের উত্তর প্রদেশ, উত্তরাখন্ড, হরিয়াণা, পাঞ্জাব, হিমাচল প্রদেশ, রাজস্থান, জম্মু-কাশ্মীর এবং লাদাখ রাজ্য থেকে প্রতিনিধিগণও অংশগ্রহণ করবেন। এই সম্মেলনের লক্ষ্য হল সরকারি ভাষা নীতির বাস্তবায়নকে আরও জোরদার করা এবং সরকারি কাজে হিন্দি ভাষা ব্যবহারে প্রেরণা ও উৎসাহিত করা।
তিনি জানান, ভারতীয় সংবিধানের ৩৪৩নং ধারা অনুসারে হিন্দিকে দেশের সরকারি ভাষা হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে এবং এর লিপি হচ্ছে দেবনাগরী। সরকারি ভাষা সম্পর্কিত সাংবিধানিক নীতিগুলির যথাযথভাবে কার্যকর করতে এবং সরকারি কাজে হিন্দির প্রগতিশীল ব্যবহার প্রচারের লক্ষ্যে ১৯৭৫ সালের ২৬ জুন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীন সরকারি ভাষা বিভাগ স্থাপন করা হয়। ভারতের সংবিধানের প্রণেতাগণ সুদুরপ্রসারী চিন্তাভাবনার মাধ্যমে সংবিধানের ৩৫ ১নম্বর ধারায় হিন্দি ভাষার সাথে সাথে অন্যান্য আঞ্চলিক ভাষাকেও সমান গুরুত্ব দিয়েছেন। এছাড়াও দেশের নাগরিকগণ যাতে নিজের মাতৃভাষায় অভিব্যক্তি প্রকাশ করতে পারে সেই অধিকারও সংবিধানে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, দেশের সরকারি ভাষা হিন্দি আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। সংস্কৃত ভাষা আমাদের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং দেশজুড়ে বিভিন্ন ভাষার কালজয়ী সাহিত্যও আমাদের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের অবিচ্ছেদ্য অংশ। আমাদের দেশে ভাষাগত, সংস্কৃতির মধ্যে বৈচিত্র্য থাকলেও দেশে ঐক্য বিরাজমান রয়েছে। হিন্দি ভাষা এই ঐতিহ্যগত ঐক্যের মাধ্যম হতে পারে। তিনি জানান, রাজভাষা বিভাগ প্রতি অর্থবছরে ৪টি আঞ্চলিক রাজভাষা সম্মেলনের আয়োজন করে থাকে। এই ধরণের সম্মেলনে বিভিন্ন অঞ্চলের সরকারি ভাষার ব্যবহার ও আধিকারিকদের মধ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময় করা হয়। তিনি জানান, কেন্দ্রীয় সরকার হিন্দি ভাষার বিকাশে নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
। হিন্দি ভাষার উন্নয়নে ট্রেনিং ইনস্টিটিউট চালু করার পাশাপাশি কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতিটি মন্ত্রণালয়ে ট্রান্সলেটরের সুবিধা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও বিভিন্ন ভাষাকে অনুবাদ করার জন্য এআই প্রযুক্তি সংযুক্ত করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির নেতৃত্বে দেশের ঐতিহ্য ও পরম্পরাকে রক্ষার উপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। ২০৪৭ সালের মধ্যে বিকশিত ভারত গড়ে তোলার লক্ষ্যে দেশের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের উন্নয়নেও নানা পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ’র আন্তরিক প্রচেষ্টায় কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের সমস্ত কাজ বর্তমানে হিন্দিতে কার্যকর করা হচ্ছে।

তিনি জানান, রাজভাষা সম্মেলন কেবল নিজের ভাষাকে শক্তিশালী করা নয়, বরং বিদেশী ভাষার উপর অপ্রয়োজনীয় নির্ভরতা হ্রাস করার ক্ষেত্রেও একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
প্রধানমন্ত্রীর মার্গ দর্শনে হিন্দি এবং অন্যান্য ভারতীয় ভাষার মধ্যে আরও সমন্বয় গড়ে তোলার লক্ষ্যে ‘ভারতী-বহুভাষিক অনুবাদ সারথি’ ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে। এটি আঞ্চলিক ভাষার ব্যবহারের প্রচার এবং ভারতের ভাষাগত ঐতিহ্যের সংরক্ষণে সহায়ক হচ্ছে। তিনি জানান, দেশের সমৃদ্ধ ভাষাগত ঐতিহ্য বিশেষ করে নতুন প্রজন্মের কাছে ছড়িয়ে দেওয়ার জন্য সরকারি ভাষা বিভাগ বই প্রকাশনাকে একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে গ্রহণ করেছে। সম্প্রতি বেশ কয়েকটি মানসম্পন্ন বই এবং গবেষণা ভিত্তিক সংকলন প্রকাশ করা হয়েছে। এই প্রকাশনাগুলির উদ্দেশ্যই হচ্ছে হিন্দি এবং অন্যান্য ভারতীয় ভাষার মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক তুলে ধরা এবং জ্ঞানের একটি সমসাময়িক উৎস তৈরি করা। আগামীকাল সম্মেলনের উদ্বোধনী পর্বে রাজভাষা ভারতী উত্তর-পূর্বের একটি উপস্থাপনা করা হবে এবং একটি বিশেষ সংখ্যা প্রকাশিত হবে। তাছাড়া ‘ভারতীয় ভাষা এবং রাজভাষা হিন্দি-কালজয়ী রচনা এবং অমৃত বাণী-সংস্কৃতের কালজয়ী অনুপ্রেরণামূলক শ্লোক’ এই বইগুলিও প্রকাশ করা হবে। এছাড়াও এই সম্মেলন প্রাঙ্গণে বিভিন্ন ব্যাঙ্ক, সাহিত্য প্রতিষ্ঠান এবং বিভিন্ন সংস্থার প্রদর্শনী স্টল খোলা হবে যেখানে সরকারি ভাষা সম্পর্কিত উদ্ভাবন এবং কার্যকলাপ প্রদর্শন করা হবে। আধিকারিকদের মধ্যে একটি সুস্থ ও উদ্যমী জীবনধারা গড়ে তোলার লক্ষ্যে আজ হাঁপানিয়াস্থিত আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণের ইন্ডোর হলে যোগ ব্যায়াম অধিবেশনেরও আয়োজন করা হয়েছে।
সাংবাদিক সম্মেলনে এছাড়াও উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের অধীন রাজভাষা বিভাগের যুগ্ম সচিব ড. নিধি পান্ডে, তথ্য ও সংস্কৃতি দপ্তরের সচিব ড. প্রদীপ কুমার চক্রবর্তী, পিআইবি’র উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অতিরিক্ত মহানির্দেশক কৃপা শংকর যাদব প্রমুখ।

