ডেস্ক রিপোর্টার, ৬ এপ্রিল।।
অল্পের জন্য বড়সড় বিপদ এড়ালেন জনজাতি কল্যাণ দপ্তরের মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। রবিবার রাতের অন্ধকার নামতেই মুঙ্গিয়াকামি এলাকায় হঠাৎই ছড়ায় চাঞ্চল্য। সৌজন্যমূলক সাক্ষাতে গিয়ে আচমকা হামলার মুখে পড়েন মন্ত্রী।
জানা গিয়েছে, রবিবার রাতে মুঙ্গিয়াকামি দ্বাদশ শ্রেণী বিদ্যালয়ের সংলগ্ন রেনু দেববর্মার বাড়িতে যান মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা। সেখানে দলীয় কিছু কর্মসূচি এবং সৌজন্য সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার কথা ছিল তাঁর। কিন্তু মন্ত্রীর উপস্থিতির খবর ছড়িয়ে পড়তেই একদল দুষ্কৃতিকারী আচমকা ওই বাড়িতে চড়াও হয়।অভিযোগ, ফলেন দেববর্মার নেতৃত্বে হামলাকারীরা বেপরোয়া ইট-পাটকেল ছুড়তে শুরু করে। এমনকি ‘গোলটি’ ছুড়ে সরাসরি মন্ত্রীকে লক্ষ্য করারও চেষ্টা হয়। আচমকা এই হামলায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এলাকাজুড়ে। বাড়িটির টিনের ছাউনি ও কাঠামোর ব্যাপক ক্ষতি হয়। পাশাপাশি কয়েকটি ঘর ভাঙচুরের পাশাপাশি প্রায় আট থেকে দশটি মোটরসাইকেল চুরমার করে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ।পরিস্থিতি দ্রুত উত্তপ্ত হয়ে ওঠায় মন্ত্রী ও তাঁর নিরাপত্তারক্ষীরা (পিএসও) বাড়ির ভিতরেই আশ্রয় নিতে বাধ্য হন। প্রায় এক ঘণ্টা ধরে তাঁরা কার্যত অবরুদ্ধ অবস্থায় ছিলেন।ঘটনার পর মন্ত্রী বিকাশ দেববর্মা দাবি করেন, তাঁকে লক্ষ্য করেই এই হামলা চালানো হয়েছে। তাঁর অভিযোগ, আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে পরিকল্পিতভাবে সন্ত্রাস ছড়ানোর চেষ্টা চলছে। তিনি বলেন, “গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সব রাজনৈতিক দলের কাজ করার অধিকার রয়েছে। এ ধরনের হিংসাত্মক রাজনীতি কাম্য নয়।”
খবর পেয়ে দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছয় মুঙ্গিয়াকামি থানার পুলিশ এবং আধা-সামরিক বাহিনী। যৌথ বাহিনীর হস্তক্ষেপে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে এবং নিরাপদে উদ্ধার করা হয় মন্ত্রী ও তাঁর সঙ্গীদের। হামলাকারীরা মন্ত্রীর সঙ্গে থাকা একটি গাড়িতেও ভাঙচুর চালায় বলে অভিযোগ।ঘটনাটি রাত প্রায় আটটা নাগাদ ঘটে বলে জানা গিয়েছে। যদিও এই ঘটনায় মন্ত্রীর কোনও শারীরিক আঘাত লাগেনি।
এই হামলাকে কেন্দ্র করে এলাকায় তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। কারা এর সঙ্গে জড়িত, তা খতিয়ে দেখছে পুলিশ। ইতিমধ্যেই গোটা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে।

