স্পোর্টস ডেস্ক,৮ নভেম্বর।।
দুরন্ত ব্যাটিং। হনুমা বিহারী এবং নবাগত সেন্টু সরকারের। হনুমা মরশুমের দ্বিতীয় শতরান করতে ভুল না করলেও রঞ্জি ট্রফি ক্রিকেটে জীবনের প্রথম শতরান থেকে বঞ্চিত হলেন উইকেটরক্ষক ব্যাটসম্যান সেন্টু। সারাক্ষণ দুরন্ত ব্যাটিং করলেও দিনের শেষ বেলায় ধৈয্যচ্যুত হয়ে নিজের উইকেটটি দিয়ে এসেছেন। মাত্র ৬ রানের জন্য শতরান থেকে বঞ্চিত হয়েছেন জীবনের দ্বিতীয় রঞ্জি ম্যাচ খেলা সেন্টু। শেষ বেলায় আউট হলেও ত্রিপুরাকে নিয়ে গেছেন ভদ্রস্থ জায়গায়। প্রথম দিনের শেষে স্বাগতিক ত্রিপুরা বড় স্কোর গড়ার ইঙ্গিত দিয়েছে। করেছে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩১৬ রান। আসামের বিরুদ্ধে। রঞ্জি ট্রফি ক্রিকেটে। এম বি বি স্টেডিয়ামে সেন্টু শতরান হাতছাড়া করলেও হনুমা ১৪৩ রানে অপরাজিত রয়েছেন। বাংলার পর আসামের বিরুদ্ধে শতরান করে ত্রিপুরার ব্যাটিং গভীরতা বাড়ালেন এই পেশাদার ক্রিকেটারটি। এদিন সকালে সফররত দলের অধিনায়ক টসে জয়লাভ করে ত্রিপুরাকে প্রথমে ব্যাট করার আমন্ত্রণ জানান। প্রথম তিন ম্যাচের মতো এদিনও ব্যর্থ রাজ্যের দুই ওপেনার বিক্রম কুমার দাস এবং ঋতুরাজ ঘোষ রায়। বিক্রম ৪২ বল খেলে তিনটি বাউন্ডারির সাহায্যে ২২ এবং ঋতুরাজ ৩১ বল খেলে একটি বাউন্ডারির সাহায্যে ৫ রান করেন। চূড়ান্ত অফফর্মে থাকা শ্রীদাম পাল কিছুটা রানে ফেরার ইঙ্গিত দেন এদিন। তবে সেট হয়েও লম্বা ইনিংস খেলতে ব্যর্থ হয়েছেন। ৬৯ বল খেলে সাতটি বাউন্ডারির সাহায্যে ৩৮ রান করেন। সফররত দলের বোলাররা যখন ত্রিপুরার উপর জাকিয়ে বসার চেষ্টা করছিলেন তখনই কড়া প্রতিরোধ গড়ে তুলেন হনুমা বিহারী এবং সেন্টু সরকার। এই জুটি ঠান্ডা মাথায় ব্যাট করে এগিয়ে নিয়ে যেতে থাকেন রাজ্য দলকে। ইতিমধ্যে মরশুমে নিজের দ্বিতীয় শতরান পূরণ করেন বিহারী। অপর প্রান্তে জীবনের প্রথম শত রানের দোরগোড়ায় কৈলাশহরের সেন্টু। ওই জুটি ২৯৩ বল খেলে ২১০ রানের মূল্যবান পার্টনারশিপ করেন। তবে দুর্ভাগ্য সেন্টুর। দলীয় ৩১২ রানের মাথায় সেন্টু-র সংগ্রামী ইনিংস এর সমাপ্তি ঘটে। আউট হওয়ার আগে ১৪৫ বল খেলে ১১ টি বাউন্ডারি ও একটি ওভার বাউন্ডারি সাহায্যে ৯৪ রান করেন। আউট হতেই কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন রাজ্যের গর্ব ওই ক্রিকেটারটি। শেষ পর্যন্ত প্রথম দিনের শেষে ত্রিপুরা ৮৪ ওভার ব্যাট করে ৪ উইকেট হারিয়ে ৩১৬ রান করে। দিনের নায়ক হনুমা বিহারী ২১৫ বল খেলে ১৭ টি বাউন্ডারি ও একটি ওভার বাউন্ডারির সাহায্যে ১৪৩ রানে এবং নাইট ওয়াচম্যান রানা দত্ত পাঁচ বল খেলে একটি বাউন্ডারির সাহায্যে ৪ রানে অপরাজিত রয়েছেন। আসামের পক্ষে দর্শন রাজবংশী ৫২ রানে দুটি উইকেট দখল করেন। রবিবার দ্বিতীয় দিনে ত্রিপুরার লক্ষ্য থাকবে আরও কম করে দেড়শ রান যোগ করা। তা করতে পারলেই সফররত দলকে চাপে ফেলে দিতে পারবে রাজ্য দল।

