মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগরতলা বইমেলা সর্বজনবিদিত। সারা পৃথিবীর মানুষ এই মেলা সম্পর্কে অবহিত। ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার জন্য এবার বইমেলার সময় পাল্টানো হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এতে ছাত্রছাত্রীরা উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
আগরতলা, ২ জানুয়ারি।।
বই হচ্ছে আমাদের প্রকৃত বন্ধু। বই কোনোদিন বিশ্বাসঘাতকতা করে না। শুক্রবার বিকেলে হাপানিয়া আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণে ৪৪তম আগরতলা বইমেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা একথা বলেন। তিনি বলেন, বইমেলা হচ্ছে লেখক, পাঠক এবং সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের মিলনস্থল। একে একটি মিনি কুম্ভ মেলা বলা যেতে পারে। কলমের ক্ষমতা তরোয়ালের চেয়েও বেশি। এটা এখন সর্বজনবিদিত। প্রতিদিন পড়াশোনা করলে নিজেকে অনেক পরিশীলিত করা যায়। পড়াশোনার কোনও শর্টকাট রাস্তা নেই। তিনি বলেন, বই পড়ার অভ্যাস গড়ে তুলতে পারলে নিজেকে নানাভাবে বিকশিত করা যায়। চিন্তা চেতনার উন্মেষ ঘটে। এমন কোনও বিষয় নেই যার উপর লেখা যায় না। মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগরতলা বইমেলা সর্বজনবিদিত। সারা পৃথিবীর মানুষ এই মেলা সম্পর্কে অবহিত। ছাত্রছাত্রীদের পরীক্ষার জন্য এবার বইমেলার সময় পাল্টানো হয়েছে। স্বাভাবিকভাবেই এতে ছাত্রছাত্রীরা উপকৃত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, আগে বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠানে বই উপহার হিসেবে দেওয়া হতো। এই অভ্যাস যদি আবার ফিরিয়ে আনা যায় তাহলে লেখক, প্রকাশক সবাই উপকৃত হবেন। সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে বইয়ের প্রতি কিছুটা সময় দেওয়া গেলে আমরা নিজেরাই অনেকটা উপকৃত হবো। হাঁপানিয়ায় বইমেলার আয়োজন প্রসঙ্গ উত্থাপন করে তিনি বলেন, হাঁপানিয়ায় বইমেলার আয়োজন করলে নানাদিক দিয়ে অনেক সুবিধা হয়। মেলাস্থলটি জাতীয় সড়কের একেবারে পাশে। পাশাপাশি রেলস্টেশনও খুব কাছে। স্বাভাবিকভাবেই যাতায়াতের দিক দিয়ে কোনও সমস্যা হয় না। উপরন্তু এই আন্তর্জাতিক মেলা প্রাঙ্গণে সমস্ত পরিকাঠামো তৈরি করা আছে। এখানে মেলার আয়োজন করলে খরচও অনেক কম হয়।
মুখ্যমন্ত্রী বলেন, একমাত্র ত্রিপুরাতেই সরকারের পৃষ্ঠপোষকতায় বইমেলার আয়োজন করা হয়ে থাকে। বইমেলা উপলক্ষ্যে বিভিন্ন ক্ষেত্রে যে সমস্ত পুরস্কার দেওয়া হয়ে থাকে সেগুলি নবীন প্রজন্মকে উজ্জীবিত করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর মুখ্যমন্ত্রী প্রফেসর (ডা.) মানিক সাহা কবি সম্মেলন ও বই প্রকাশ মঞ্চে দুটি বইয়ের প্রকাশ করেন। মুখ্যমন্ত্রী বইমেলায় আলোকচিত্র সাংবাদিকদের দ্বারা আয়োজিত আলোকচিত্র প্রদর্শনীর উদ্বোধন করেন। এছাড়াও মুখ্যমন্ত্রী জাতীয় স্বাস্থ্য মিশন ত্রিপুরা কর্তৃক একটি বিশেষ স্বাস্থ্য সচেতনতা ও স্বাস্থ্য পরীক্ষার স্টলের উদ্বোধন করেন।
প্রসঙ্গত , ২০২৪ সালে আয়োজিত বইমেলায় বই বিক্রি হয়েছিল ১ কোটি ৪৭ লক্ষ টাকার। গত বছরের মেলায় বই বিক্রি হয়েছে ১ কোটি ৫৩ লক্ষ টাকা।
৪৪তম আগরতলা বইমেলায় ১৮৩টি স্টল খোলা হয়েছে।

