রাজীব সাহা জমি ব্যবসার পাশাপাশি চুটিয়ে করতো নিগোসিয়েশন বাণিজ্য। তার বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের ভুরি ভুরি অভিযোগ।পছন্দের ঠিকাদার ব্যতীত অন্য কোনো ঠিকাদারকে কাজ দেয় না রাজীব সাহার নেতৃত্বাধীন নিগোসিয়েশন গ্রুপ। শুধু তাই নয়, দুর্গা পূজার সময় বড়জলা বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর শুভেচ্ছা সংক্রান্ত পোস্টার, ব্যানার ফেলে দিয়ে নিজের পোস্টার লাগিয়ে ছিলেন রাজীব সাহা। এই অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

ডেস্ক রিপোর্টার, ২৫ জানুয়ারি।।
                    শেষ পর্যন্ত প্রত্যাশিত ভাবেই গ্রেফতার হওয়া বড়জলা মন্ডল সভাপতি রাজীব সাহাকে বরখাস্ত ( suspension) করলো প্রদেশ বিজেপি। রবিবার প্রদেশ বিজেপির পক্ষ থেকে রাজীব সাহার বরখাস্তের নোটিশ দেওয়া হয়। এই নোটিশে স্বাক্ষর করেছেন দলের সাধারণ সম্পাদক অমিত রক্ষিত। নোটিশে স্পষ্ট ভাবেই বলা হয়েছে, ” অপরাধ মূলক কার্যকলাপ ও গ্রেফতার হওয়ার কারণে দলের সভাপতি রাজীব ভট্টাচার্য্যের নির্দেশে বড়জলা মন্ডল সভাপতি রাজীব সাহাকে বরখাস্ত ( suspension) করা হয়েছে। অর্থাৎ ঘুরিয়ে বললে, দল ও পদ দুই- ই শেষ রাজীব সাহার।
          রাজধানীর একটি জমি সংক্রান্ত মামলার অভিযোগে এয়ারপোর্ট থানার পুলিশ শনিবার দুপুরে রাজীব সাহাকে প্রাথমিক ভাবে আটক করেছিলো। পরবর্তী সময়ে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করে জমি মাফিয়া সিন্ডিকেটের বেশ কিছু লিংক খোঁজে পায়। এরপর রাতে রাজীব সাহাকে আনুষ্ঠানিক ভাবে গ্রেফতার করে। প্রদেশ বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের নির্দেশেই পুলিশ রাজীব সাহাকে গ্রেফতার করেছে। রবিবার তাকে সোপর্দ করা হয়েছিল মোহনপুর আদালতে। তদন্তকারী পুলিশের আবেদন মূলে বিচারক রাজীব সাহাকে পুলিশ রিমান্ডের নির্দেশ দেয়। এয়ারপোর্ট থানা রাজীব সাহাকে গ্রেফতার করলেও নিরাপত্তার প্রশ্নে তাকে রাখা হয়েছে এনসিসি থানায়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসবে, বড়জলা সহ আশপাশ এলাকার জমিদস্যু সিন্ডিকেটের অন্যান্য রাঘব বোয়ালদের নাম। আশঙ্কা করছে তদন্তকারী পুলিশ।


প্রসঙ্গত, রাজীব সাহা জমি ব্যবসার পাশাপাশি চুটিয়ে করতো নিগোসিয়েশন বাণিজ্য। তার বিরুদ্ধে ঠিকাদারদের ভুরি ভুরি অভিযোগ।পছন্দের ঠিকাদার ব্যতীত অন্য কোনো ঠিকাদারকে কাজ দেয় না রাজীব সাহার নেতৃত্বাধীন নিগোসিয়েশন গ্রুপ। শুধু তাই নয়, দুর্গা পূজার সময় বড়জলা বিধানসভায় মুখ্যমন্ত্রীর শুভেচ্ছা সংক্রান্ত পোস্টার, ব্যানার ফেলে দিয়ে নিজের পোস্টার লাগিয়ে ছিলেন রাজীব সাহা। এই অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। ঊষা বাজারে সিপিডব্লুডি মধুর ভান্ড থেকেও নিয়মিত কমিশন পেতো রাজীব সাহা। সব মিলিয়ে পুরোপুরি ভাবে রাহু গ্রাসের বৃত্তের পড়ে যায় রাজীব সাহার কালো হাত।
             সম্প্রতি বনমালীপূর কেন্দ্রের প্রতাপগড় ব্রিজ লাগোয়া বিজেপি অফিস ভাংচুরের অভিযোগে গ্রেফতার করা হয়েছিল  বড়দোয়ালি বিধানসভার বিজেপি কর্মী তথা মাফিয়া দেবাশীষ সাহা ওরফে কানাইকে। তারপর মন্ডল সভাপতি রাজীব সাহা। পর পর এই দুইজনকে পুলিশ জালে তুলে প্রমাণ করলো মুখ্যমন্ত্রী ডাঃ মানিক সাহার সু-শাসন ব্যবস্থা। অপরাধ করলে কেউ রেওয়াত পাবে না। এটাও বাস্তব, বিজেপিতে এই চরিত্রের আরো বহু নেতা – কর্মী রয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী আরো ভালো করে ঝাড়াই – বাছাই করলে চালনির ছিদ্র দিয়ে বেরিয়ে আসবে বহু দুর্নীতিবাজ নেতা – কর্মী।
                  


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *