এখন রাজ্যের শাসন ক্ষমতায় ভাজপা সরকার। বিপ্লব কুমার দেব থেকে ডাঃ মানিক সাহা, হাতে পেয়েছেন রাজ্যের মানদণ্ড। তারপরও কিন্তু বিশালগড়ের রাজনৈতিক হিংসার কেমিস্ট্রির কোনো পরিবর্তন হয় নি। বিজেপির জামানায় বিজয় নদীর সমতটের রাজনৈতিক হিংসার রসায়ন আরো ভয়ানক। একে বারেই নতুন আদলে। লড়াইয়ের ভর কেন্দ্রের অলিন্দে এবার স্বদলীয়রা।
ডেস্ক রিপোর্টার,৭ সেপ্টেম্বর।। রাজ্য রাজনীতির অতি স্পর্শকাতর বিধানসভাগুলির মধ্যে অন্যতম “বিশালগড় কেন্দ্র”। গৌতম দত্ত ও পরিমল সাহা দুই বিধায়ক খুনের তাজা রক্তে লাল হয়েছিল বিজয় নদীর জল। কমিউনিস্ট শাসন বা কংগ্রেস – টিইউজিএস জোট জামানায় বিশালগড়ে রাজনৈতিক হিংসা ছিলো নিত্য নৈমিতিক ঘটনা। তবে এই সংঘাত ছিলো পরস্পর বিরোধী দুইটি রাজনৈতিক দলের মধ্যে। এখন রাজ্যের শাসন ক্ষমতায় ভাজপা সরকার। বিপ্লব কুমার দেব থেকে ডাঃ মানিক সাহা, হাতে পেয়েছেন রাজ্যের মানদণ্ড। তারপরও কিন্তু বিশালগড়ের রাজনৈতিক হিংসার কেমিস্ট্রির কোনো পরিবর্তন হয় নি। বিজেপির জামানায় বিজয় নদীর সমতটের রাজনৈতিক হিংসার রসায়ন আরো ভয়ানক। একে বারেই নতুন আদলে। লড়াইয়ের ভর কেন্দ্রের অলিন্দে এবার স্বদলীয়রা।
কেন আমরা একথা বলছি? এই প্রতিবেদনেই তার অনুপুঙ্খ বিশ্লেষণ তুলে ধরবো।
গত বছরের আগস্ট মাসে বিশালগড়ে কেন্দ্রের শাসক দলীয় বিধায়ক সুশান্ত দেব সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে খুন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করে একটি পোস্ট করেছিলেন। তাহলে স্পস্ট বিশালগড়ের রাজনৈতিক অপরাধের গ্রাফ কোন দিকে ধাবিত হচ্ছে?
প্রাণনাশের আশঙ্কা করে বিধায়ক সুশান্ত দেবের এফবি পোস্ট।
বিধায়ক সুশান্ত দেব কেন খুন হওয়ার আশঙ্কা প্রকাশ করেছিলেন?
বিজেপির কর্মীদের বক্তব্য, বিধায়কের আতঙ্কের কারণ বিরোধীরা নয়, খোদ স্ব- দলীয় বিরোধী শিবির। বার বার দলের প্রতিপক্ষ গোষ্ঠীর গভীর ষড়যন্ত্রের শিকার হচ্ছেন বিধায়ক।এমনটাই দাবী সুশান্তর অনুগামীদের। এই সংক্রান্ত ঘটনার তথ্য ভিত্তিক প্রমাণও খাড়া করেছে বিধায়ক গোষ্ঠী। তাদের দাবী, বিধায়ক সুশান্ত দেব বিশালগড়ের বাইরে বা রাজ্যের বাইরে থাকাকালীন স্ব-দলীয় প্রতিপক্ষ গোষ্ঠী ঝামেলা পাকিয়ে বসে। এবং বিধায়ককে কালিমালিপ্ত করার গভীর ষড়যন্ত্রের লীন হয়।
১.কড়ইমুড়া স্কুলে হিজাব ইস্যু
সম্প্রতি বিশালগড় কড়ইমুড়া স্কুলে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ছাত্রীদের হিজাব পরা কেন্দ্র করে বিধায়কের বিরুদ্ধে প্রচারে নেমেছিলো বিরোধী গোষ্ঠী। অথচ এই ঘটনা সম্পূর্ণ ভাবে স্কুলের অভ্যন্তরীণ বিষয়। বিধায়ক সুশান্ত দেবকে কাঠ গড়ায় দাড় করিয়ে বিশালগড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের চেষ্টা করছিল স্ব দলীয় কুচক্রীরা।
২. কালী মূর্তি ও শিব লিঙ্গ ভাঙচুর স্থানীয় পশ্চিম লক্ষ্মীবিল ও পূর্ব লক্ষ্মীবিল অঞ্চলে একটি কালী মূর্তি ও শিব লিঙ্গ ভাঙচুরের ঘটনা কেন্দ্র করে তপ্ত হয়েছিল বিশালগড়। দুইটি ঘটনাতেই পুলিশ বিজেপির আভ্যন্তরীণ ষড়যন্ত্রের গন্ধ পেয়েছিল। এই ঘটনার পর হিন্দুবাদী বিধায়ককে মুসলিম দরদী হিসাবে প্রচার করা হয়েছিল খুব কৌশলে। সংখ্যা লঘুসম্প্রদায়ের দাগী সিপিআইএমের অপরাধীদের বিধায়কের মিছিলে সামিল করার আভিযোগ রয়েছে বিজেপির অপর গোষ্ঠীর এক নেতার বিরুদ্ধে।
৩. মুড়ির গাড়ি থেকে টাকা ছিনতাই বিশালগড় বাইপাসে মুড়ির গাড়ি থেকে আড়াই লক্ষ টাকা ছিনতাইয়ের ভুয়ো স্ক্রিপ্ট রচনা করে বিধায়কে কালিমা লিপ্ত করার চেষ্টা করেছিলো প্রতিপক্ষ গোষ্ঠী। কিন্তু এই চিত্র নাট্য রাজনীতির মাঠে সুপার ফ্লপ করে।কারণ আস্ত গাড়িতে মুড়ি থাকে মাত্র ৭০ হাজার টাকার।
বিশালগড় বাইপাস
৪. DWS – র ঠিকাদারি বাণিজ্য বিশালগড় DWS – র নির্মাণ কাজ নিয়ে দুই ঠিকাদার গোষ্ঠীর ঝামেলা কেন্দ্র করে বিধায়ক সুশান্ত দেবের বিরুদ্ধে শুরু করা হয়েছিল অপপ্রচার। শেষে দেখা যায় পর্দার আড়াল থেকে বেরিয়ে আসেন ত্রিপুরা শিল্প নিগমের চেয়ারম্যান নবাদল বণিক। তিনি নামেন ড্যামেজ কন্ট্রোলে। এটা বিশালগড়ে ওপেন সিক্রেট। কিন্তু নবাদল বণিকের এই অন্তর্ভুক্তি নিয়ে সন্দেহ ঘনীভূত হয় জনমনে। কারণ তিনি রাজ্য স্তরে নেতা। বিশালগড়ে তাঁর ফোকাস কেন?অবশ্যই তিনি বিশালগড়ে ভূমি পুত্র।
নবাদল বণিক (চেয়ারম্যান, টিআইডিসি)
৫. শিক্ষক হেনস্তার ঘটনা সম্প্রতি শিক্ষক রাজেশ সুর চৌধুরীর হেনস্তার ঘটনা কেন্দ্র করে তপ্ত হয়ে উঠেছিল বিশালগড়। মাঠে নেমেছিলেন শিল্প নিগমের চেয়ারম্যান নবাদল বণিক। তারপর কি হয়েছিল? পরবর্তী ঘটনা সম্পর্কে ওয়াকিবহাল বিশালগড়ের মানুষ।
প্রতিটি ক্ষেত্রেই দেখা গিয়েছে,ঘটনার সময় বিশালগড়ে ছিলেন না বিধায়ক সুশান্ত দেব। মূলত তাঁর অনুপস্থিতির সুযোগ নিয়ে স্বদলীয় বিরোধী গোষ্ঠী সক্রিয় হয়ে ওঠে। এবং বিধায়কের বিরুদ্ধে রচনা করে ষড়যন্ত্রের কালো স্ক্রিপ্ট। তবে রাজনীতিতে ল্যাং মারামারি থাকবেই। এটা ধ্রুব সত্য। আর শাসক দল বিজেপির অভ্যন্তরে চলতে থাকা ল্যাং মারামারির ঘটনা কেন্দ্র করে বিশালগড়ে গৌতম দত্ত – পরিমল সাহা খুনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি হলেও অবাক হওয়ার কিছু থাকবে না বলেই মনে করছেন ওয়াকিবহাল মহল।