সমীর দাসের শোকার্ত বোনের কথায়, এর আগেই স্বপন, মিঠন – অপুরা তার ভাই সমীর দাসকে হামলার চেষ্টা করেছিল। ঘটনার রাতে তারা সমীরের গলায় গামছা বেঁধে মাথায় দা দিয়ে আঘাত করে। লোহার রড ঢুকিয়ে দেয় কানের পাশ দিয়ে।
ডেস্ক রিপোর্টার, ২৩ জুন।।
মনীষা দাসের মৃত্যুর রেশ কাটতে না কাটতেই ফের শিরোনামে কাঁঠালতলী।সোমবার রাতের আধারে কাঁঠালতলীতে খুন স্থানীয় তরুণ সংঘ ক্লাবের সম্পাদক সমীর দাস।তাকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়েছে।অভিযোগের তীর স্থানীয় মিঠুন সূত্রধর, অপু সূত্রধর ও স্বপন সূত্রধরের দিকে। তাদের বাড়ির সামনে থেকে উদ্ধার করা হয়েছে রক্ত মাখা দা ও ভুজলি। স্বপন – মিঠন ও অপুরা ঘটনার পর পালিয়ে যায়। শেষ পর্যন্ত শহরের ইন্দ্রনগর থেকে পুলিশ গ্রেফতার করে অভিযুক্ত স্বপন সূত্রধরকে। বাকিদের সন্ধানে তল্লাশি শুরু করেছে আমতলী থানার পুলিশ। এই ঘটনা কেন্দ্র করে তপ্ত হয়ে উঠে গোটা কাঁঠালতলী। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পৌঁছায় আমতলী থানার পুলিশ ও ডগ স্কোয়ার্ড ও ফরেনসিক টিম ও পশ্চিম জেলার এসপি নমিত পাঠক।পুলিশ খুনের কাজে ব্যবহৃত দা, ভুজলি ও গামছা সহ সমীর দাসের স্কুটি উদ্ধার করে নিয়ে যায়।

খুন হওয়া ক্লাব সম্পাদক সমীর দাসের মা জানিয়েছেন ,ঘটনার রাতে পাড়াতে পৈতোর অনুষ্ঠানে গিয়েছিল তার ছেলে। আসার পথে স্বপন – মিঠনরা সমীরকে রাস্তায় খুন করে।
সমীর দাসের শোকার্ত বোনের কথায়, এর আগেই স্বপন, মিঠন – অপুরা তার ভাই সমীর দাসকে হামলার চেষ্টা করেছিল। ঘটনার রাতে তারা সমীরের গলায় গামছা বেঁধে মাথায় দা দিয়ে আঘাত করে। লোহার রড ঢুকিয়ে দেয় কানের পাশ দিয়ে। এককথায় নৃশংস ভাবে হত্যা করা হয় সমীরকে।

সমীর হত্যাকাণ্ডের খবর ছড়িয়ে পড়তেই এলাকার মানুষ ক্ষোভে ফেটে পড়ে। তারা একত্রিত হয়ে বাড়ি ঘর থেকে বেরিয়ে আসে। মুহূর্তেই জনরোষ আছড়ে পড়ে অভিযুক্তদের বাড়িঘরে। উত্তেজিত জনতা লন্ডভন্ড করে দেয় তাদের বাড়িঘর। জনরোষের প্রবল চাপের মুখে পুলিশ কেউ আত্মসমর্পণ করতে হয়। শেষ পর্যন্ত অভিযুক্তদের বাড়িতে আগুন দেয় উত্তেজিত জনতা।

ঘটনাস্থলে উপস্থিত পশ্চিম জেলার এসপি নমিত পাঠক ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ” পুলিশ ঘটনার তদন্ত করছে। অভিযুক্তদের ছাড়া হবে না বলেও তিনি জানান। এবং স্থানীয় লোকজন যে হাতে আইন তুলে না নেয় তার বার্তাও দেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ জারি করে ১৬৩ ধারা।

বিকাল নাগাদ জিবি হাসপাতালে ময়না তদন্তের পর সমীর দাসের মৃতদেহ তার পরিবারের হাতে তুলে দেয় পুলিশ কর্তৃপক্ষ। এই ঘটনা নিয়ে গোটা কাঁঠালতলী এলাকায় থমথমে পরিবেশ বিরাজ করছে। ছুটে গিয়েছেন শাসক দল বিজেপির নেতারাও।

