তেলিয়ামুড়া ডেস্ক,১৭ আগস্ট।।
         তেলিয়ামুড়া মহকুমার বিস্তীর্ণ এলাকার বনাঞ্চল কি ধীরে ধীরে পাচারকারীদের করাতের নিচে উজাড় হয়ে যাচ্ছে? দিনের আলো হোক কিংবা রাতের অন্ধকার—অভিযোগ উঠছে, বন থেকে মূল্যবান গাছ কেটে নির্বিচারে কাঠ পাচার করা হচ্ছে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে।
           বন ধ্বংসের সরাসরি প্রভাব গিয়ে পড়ছে বনাঞ্চলের বাসিন্দা হাতিদের ওপর। জঙ্গল সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি খাবার ও নিরাপদ আশ্রয়ের চরম সংকট তৈরি হওয়ায় হাতির দল ক্রমশ লোকালয়মুখী হচ্ছে বলে স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ।কখনো জাতীয় বা আঞ্চলিক সড়কের ওপর হাতির পাল চলে আসছে, আবার কখনো গ্রামের বাড়ির উঠোন কিংবা বসতবাড়ির ভেতরে ঢুকে পড়ছে। এর ফলে একদিকে যেমন বন্য হাতির নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে, অন্যদিকে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন বন-সংলগ্ন এলাকার বাসিন্দারা। সন্ধ্যার পর অনেকেই বাড়ির বাইরে বের হতে ভয় পাচ্ছেন, এমনকি রাতে যানবাহন চালাতেও ঝুঁকিতে পড়ছেন চালকরা।   


স্থানীয় অধিবাসীদের প্রশ্ন, জঙ্গল যদি এভাবে নির্বিচারে কাটা হয়, তবে বন্যপ্রাণীরা কোথায় আশ্রয় নেবে? বাসস্থান ও খাবারের অভাব ঘটলে হাতি লোকালয়ে ঢুকবেই—তখন শুধু বন্যপ্রাণীকে দোষ দিয়ে সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।সবচেয়ে বড় প্রশ্ন উঠছে বনদপ্তরের ভূমিকা নিয়ে। দিনের পর দিন মূল্যবান গাছ কেটে পাচার হলেও নজরদারি ব্যবস্থা কোথায়—তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন একাংশ। কার চোখের সামনে দিয়ে এই কাঠ পাচার হচ্ছে, নাকি বনরক্ষার দায়িত্বে থাকা দপ্তরের আড়ালেই চলছে সবকিছু?
   বন উজাড় হলে কেবল গাছ হারায় না, হারিয়ে যায় বন্যপ্রাণীর স্বাভাবিক আবাসস্থল। এতে মানুষ ও পশুর সংঘাত বৃদ্ধি পায় এবং উভয় পক্ষের জীবনই বিপন্ন হয়ে ওঠে। তাই তেলিয়ামুড়ার বনাঞ্চল রক্ষায় অবিলম্বে কঠোর নজরদারি, অবৈধ কাঠ পাচারের বিরুদ্ধে অভিযান এবং হাতি চলাচলপ্রবণ এলাকায় কার্যকরী ব্যবস্থা নেওয়ার জোর দাবি উঠছে।নইলে আজ যে হাতি জঙ্গল ছেড়ে গ্রামে ঢুকছে, আগামী দিনে তা আরও বড় বিপদের কারণ হয়ে দাঁড়াবে।আর তখন এর দায় কে নেবে?


Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *